kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

ইউপি সদস্য রউফের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

৫ জুন, ২০২০ ০১:২৫ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ইউপি সদস্য রউফের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

ইউপি সদস্য শেখ আব্দুর রউফ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় শেখ আব্দুর রউফ নামে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। তিনি উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য। জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগে তিনি এক সময় ছিলেন চা বিক্রেতা। এরপর জনপ্রতিনিধির খাতায় নাম লেখান তিনি। টানা ৯ বছর ইউপি সদস্য থেকে এখন হয়েছেন কোটিপতি এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

তাছাড়া স্থানীয় এলাকায় ২০ ভাই নামে একটি গ্রুপ রয়েছে তাঁর। যে গ্রুপের মাধ্যমে চুরি থেকে সব কাজই এই গ্রুপের মাধ্যমে পরিচালিত হতো বলে জানা গেছে। এমনকি হিন্দুদের গরু মহিষ রাতে পা কেটে আহত করে আবার নিজে গিয়ে তা স্বল্প দামে বিক্রি করে দেন তার ২০ ভাই গ্রুপের কাছে এমন গুঞ্জন রয়েছে হাজিপুর ইউনিয়নের সর্বত্র।

এলাকাবাসী জানায়, তাঁর ইচ্ছামাফিক চলে ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সকল কাজ। যে কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে আগে তাকে খুশি করতে হয়। বিধবা বয়স্ক প্রতিবন্ধী ভাতার বই নলকূপ এগুলো পেতে তাকে দিতে হয় নগদ ৪/৫ হাজার টাকা দিতে হয় মেম্বারকে। টাকা দিলে ৫০ বছরেও একজন পেয়ে যায় ভাতার বই। আর টাকা না দিলে ৮০/৯০ বছরের বয়স্কদের কপালে জুটে না ভাতা। 

এলাকার কোনো লোক মামলায় পড়লে নিজেকে সরকারি দলের নেতা দাবি করে বড় বড় নেতাদের ম্যানেজ করার অজুহাতে এই শেখ আব্দুর রউফ হাতিয়ে নেন মোটা অংকের টাকা। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনু বাজারে নৌকা মার্কার কথিত অফিস পোড়ানোর দায়ে মামলা হয়। এসময় নেতাকর্মীরা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও ইউপি সদস্য রউফ নেমে যান পুরনো ব্যবসায়।

মামলার ভয় দেখিয়ে বিএনপি-জামায়াতের অনেক লোকের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেন বলে তখনই অভিযোগ উঠে। এমনকি সালিস বৈঠকে ঘটনার নিষ্পত্তির আগে সমঝোতা করে উভয় পক্ষের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ থেকেও অংশ নিয়ে যান তিনি। এলাকায় রাস্তাঘাট উন্নয়নে নামমাত্র কাজ করে প্রকল্পের পুরো টাকাই উত্তোলন করে নেন। কেউ কোনো প্রতিবাদ করলে মামলার হুমকি দেখান। ফলে ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না।

এছাড়া চলমান করোনা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত মানবিক সহায়তা তালিকায় ২৫০০ টাকার সহায়তা প্রকল্পে ৪০-৫০ জন উপকারভোগীর সঙ্গে তাঁর সমঝোতা রয়েছে বলে জানা গেছে। এই উপকারভোগীরা টাকা উত্তোলনের পর মেম্বারকে টাকার একটা অংশ দেবেন বলে এমন নিশ্চয়তা পেয়েই তাদের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন। 

এছাড়া তালিকা প্রণয়নে করেছেন অনেক স্বজনপ্রীতি। কয়েকটি পরিবারে যারা সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে ওই সকল পরিবারের সদস্যদের নাম দিয়েছেন ২৫০০ টাকার তালিকায়। এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকার আব্দুল আজিজ, আব্দুল হান্নান, আরাফ উদ্দিন রজব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অন্যদিকে হাজীপুর ইউনিয়নের রনচাপ গ্রামের অমরেন্দ্র সরদারের বাড়ির সম্মুখ হইতে রনচাপ গ্রামের রমুজ আলীর বাড়ি পর্যন্ত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় রাস্তা উন্নয়নের কাজ ৬ জন শ্রমিক দিয়ে ৫/৬ দিন সামান্য কাজ করে প্রকল্প চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাধে প্রায় দুই লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এছাড়া কাজের সরকারি সাইনবোর্ড রাস্তায় এক দিন রেখে পরের দিন সাইনবোর্ড তুলে নেন। এমনকি স্থানীয় এলাকায় সরকারি টিউবওয়েল প্রদানে জনপ্রতি মোটা অংকের টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় রনচাপ গ্রামের বরুন রায়, ইন্দ্রজিৎ দাশ খোকন, সুধাংশু মল্লিক বাবুল গংসহ শতাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালে হরতাল অবরোধের সময় টিলাগাঁও ইউনিয়নের চকসালন এলাকায় ট্রেন লাইনচ্যুত হলে মাতাব গ্রামের হান্নান মিয়াকে মামলায় জড়িয়ে দেন ওই শেখ আব্দুর রউফ মেম্বার। এতে ওই পরিবার বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

এলাকার রহমান মিয়া জানান, ২০১৪ সালে হরতাল অবরোধের সময় টিলাগাঁও ইউনিয়নের চকসালন এলাকায় ট্রেন পড়লে তাঁর ভাই হান্নান মিয়াকে মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে শেখ মেম্বারের ২০ ভাই গ্রুপ হাতিয়ে নেয় ৪-৫ লাখ টাকা। এভাবে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে গত ৯ বছরে শেখ মেম্বার এখন হয়েছেন কোটিপতি।

তাঁর এমনসব কর্মকাণ্ডে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছে রণচাপ এলাকাবাসী। এরপর থেকেই সর্বত্র শুরু হয়েছে আলোচনা। অনেকেই শেখ আব্দুর রউফের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে এবং অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শেখ আব্দুর রউফ তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনোদিন জনগণের কাছ থেকে একটি টাকাও নেইনি বা নেওয়ার প্রয়োজন মনে করি না। প্রকৃত লোকদের আমি প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় নাম অর্ন্তভুক্ত করেছি। আর রাস্তার কাজ এখনো বাকি রয়েছে, পুরো বিল এখনো পাইনি। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য একটি পক্ষ এসব ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা