ব্যস্ত সড়ক দিয়ে দিন-রাত যানবাহন চলে। দুই পাশে কোথাও বাড়িঘরের সীমানাপ্রাচীর, কোথাও ঝোঁপঝাড়। ঝোঁপঝাড়ের কারণে দেখা যেতো না সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সাংকেতিক চিহ্ন বা রোড সাইন। এতে দূর থেকে চালকরা মোড় দেখতে না পেয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতেন।
যানবাহনের চালক ও পথচারীদের এই ভোগান্তি দূর করতে এগিয়ে এসেছেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির যুবক রবিউল হোসেন। স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের পাশের বিপজ্জনক ঝোঁপঝাড় পরিষ্কার করে চলেছেন তিনি। সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান রবিউলের এই উদ্যোগ এখন পুরো উপজেলাজুড়ে প্রশংসিত।
রবিবার সরেজমিন সংশ্লিষ্ট এলাকা ঘুরে দেখার সময় স্থানীয়রা জানায়, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি-রামগড় সড়ক এবং ফটিকছড়ি-বারৈয়ারঢালা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ঝোঁপঝাড় ছিল। সড়ক দুটির বাঁকগুলো মারণফাঁদে পরিণত হয়েছিল। বড় বড় ঘাস, লতাপাতায় ঢেকে গিয়েছিল সড়কের গুরুত্বপূর্ণ রোড সাইনগুলো।
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও জীবনের ঝুঁকির বিষয় ভেবে নিজের উদ্যোগেই দা-কাঁচি নিয়ে সড়কে নেমে পড়েন রবিউল। শুরু করেন সড়ক পরিষ্কারের কাজে। সড়কের আঁকাবাঁকা মোড়গুলোর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা দূর করেন। তার এই কাজের ফলে এখন চালকরা দূর থেকেই সড়কের বাঁক ও সাংকেতিক চিহ্নগুলো স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটা কমিয়েছে।
স্থানীয় অটোরিকশা চালক নূরুল আলম বলেন, ‘সড়কের মোড়গুলোতে আগে কিছু দেখা যেত না। অনেক সময় উল্টো দিক থেকে গাড়ি চলে আসলেও ঝোঁপের কারণে বোঝা যেত না। রবিউল মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য সেই ঝোঁপঝাড় পরিস্কার করছেন। তাকে ধন্যবাদ দিয়ে শেষ করা যাবে না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রবিউল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি কৃষক পরিবারের সন্তান, সাধারণ মানুষের কষ্ট বুঝি। প্রায়ই দেখতাম এই ঝোঁপঝাড়ের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। সাইনবোর্ডগুলো ঢাকা পড়ে থাকায় বাইরের চালকরা মোড় বুঝতে পারেন না। তাই নিজের বিবেকের তাড়নায় স্বেচ্ছায় এসব পরিষ্কার করছি। মানুষ নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারলে, এটাই আমার বড় পাওয়া।’





