ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুরে মাদক সেবনের অভিযোগে গ্রাম পুলিশসহ দুই যুবকের মাথার চুল কেটে দিয়েছেন এলাকাবাসী। গত বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
দুই যুবক হলেন– চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের দুই নম্বর ওয়ার্ডের সালেপুর পশ্চিম গ্রামের গ্রাম পুলিশ মো. লালন খান (২৬) ও একই গ্রামের বাসিন্দা শেখ রিয়াজুল (২২)।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, চর হরিরামপুর ইউনিয়নের আব্দুল হাই খানের হাটের একটি দোকানে বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল হক ও চর হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের দুই নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মোকা মৃধার মাঝখানে গ্রাম পুলিশ লালন খান বসে আছেন। এ সময় লালন খানের হাতে দুটি সিগারেট ছিল। পরে মোবাইলে ভিডিও হচ্ছে দেখে তিনি সিগারেট ফেলে দেন। ওই সময় বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল গ্রাম পুলিশকে প্রশ্ন করেন, গাঁজা-ইয়াবা খাস কেন? কই থেকে কিনিস? তোকে শেল্টার দেয় কে? এসব প্রশ্নের কিছু উত্তর নিচু গলায় গ্রাম পুলিশ লালনকে দিতে দেখা যায়।
ভাইরাল হওয়া অন্য ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রাম পুলিশ লালন ও যুবক শেখ রিয়াজুলকে বসিয়ে একটি ট্রিমার দিয়ে লালনের মাথার চুল ন্যাড়া করে দেওয়া হয় এবং রিয়াজুলের কপাল থেকে মাথার উপরের অংশ পর্যন্ত চুল কেটে ন্যাড়া করা হয়।
এ বিষয়ে চর হরিরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক খান বলেন, ‘এলাকার ছেলেরা গ্রাম পুলিশ লালনকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় ধরে বাজারে নিয়ে আসে। সেখানে আমি উপস্থিত থাকায় তাকে শাসিয়েছি। তবে চুল যখন কাটা হয় তখন আমি উপস্থিত ছিলাম না।’
চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই ভিডিও দুটি আমি দেখেছি। কারো বিরুদ্ধে মাদক গ্রহণের অভিযোগ থাকলেই তাকে হেনস্তা করার অধিকার কারো নেই। এটা যারাই করেছেন তারা অন্যায় করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারটি নিয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করেছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




