• ই-পেপার

বামনায় সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকেও ধান বিক্রি করতে পারেননি কৃষক

খুলনায় নিজ বাড়িতে বৃদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু

দুই ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা থানা হেফাজতে

খুলনা অফিস
খুলনায় নিজ বাড়িতে বৃদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

খুলনায় রহস্যজনকভাবে মৃত মমতাজ বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। 

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে নগরীর খালিশপুরের উত্তর কাশিপুর কবরস্থান রোডের ডাক্তার বাড়ি নামক একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃত নারীর প্রতিবেশী ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নগরীর খালিশপুরের উত্তর কাশিপুর কবরস্থান রোডের ডাক্তার বাড়ি নামের বাসার নিজ কক্ষ থেকে পরিবারের সদস্যরা মমতাজ বেগমের লাশ উদ্ধার করে। এসময় তার চোখমুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল।

এছাড়াও তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে দাগের চিহ্ন রয়েছে। নিহতের ঘর থেকে সোনার গহনা, টাকা ও ব্যাংকের চেক বই খোয়া গেছে।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে প্রতিবেশীদের না জানিয়ে তার বড় ছেলে মাসুম ও ছোট ছেলে হোমিও চিকিৎসক মেহেদী হাসান সোহাগ তড়িঘড়ি করে লাশ দাফনের উদ্যোগ নেন। ঘটনাটি এলাকার মানুষের সন্দেহ হলে তারা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

এ ছাড়া পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত মমতাজ বেগমের দুই ছেলেসহ পরিবারের সদস্যদের থানা হেফাজতে নিয়েছে।

স্বজনদের দাবি, খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম জাবীদ হাসান জানান, মমতাজ বেগমের মৃত্যর ঘটনাটি রহস্যজনক। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া তার দুই ছেলে মাসুম ও মেহেদী হাসান সোহাগসহ পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। 

ওসি বলেন, প্রতিবেশীরা বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঈশ্বরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্রের দুই নারীকে কারাদণ্ড

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ঈশ্বরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্রের দুই নারীকে কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুই নারীকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে তাদের প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুর ১২টার দিকে দালালির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই দুই নারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের চরশিহারী গ্রামের রাসেল মিয়ার স্ত্রী দিল রুবা সুলতানা (২৫) ও সোহাগী ইউনিয়নের ভালুকবেড় গ্রামের মৃত আবুল কালাম মেয়ে পলি আক্তার (২২)।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে বাইরে নির্দিষ্ট ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ছিল একটি দালালচক্রের বিরুদ্ধে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নজরদারি বাড়ানো হয়।

বুধবার (২৪ জুন) উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় দুই নারীকে দালালির কর্মকাণ্ডের জড়িত অবস্থায় শনাক্ত করে আটক করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমান। আদালত দুই নারীকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

অভিযান পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেন এবং হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারী ও ঈশ্বরগঞ্জ থানার পুলিশ টিম।

ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৪ জনকে কারাদণ্ড

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৪ জনকে কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিসে অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ইকুরিয়া  বিআরটিএতে অভিযান পরিচালনা করে আইন অমান্যকারী চারজন দালালকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে কেরানীগঞ্জস্থ ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিসে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন ঢাকা বিআরটিএ-এর আদালত-৫-এর  এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল হাই।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বহিরাগত দালালরা আইন অমান্য করে বিআরটিএ অফিসের ভেতরে গ্রাহকদের কাছে মোটা অংকের টাকা নিয়ে প্রতারণা করার দায়ে মো. আব্দুল সালাম ও মো. পিন্টু নামের দুই দালালকে ৪০ দিন এবং নুর মোহাম্মদ ও মো. ইয়াছিন আরাফাতকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএ-এর আদালত-৫-এর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল হাই বলেন, বিআরটিএ অফিস থেকে দালালমুক্ত করতে আমাতের এই ঝটিকা অভিযান। সরকার দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে দালাল মুক্ত করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করে যাচ্ছ। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে আজকের এই অভিযান। এই অভিযানে চার দালালকে অপরাধের দিক বিবেচনা করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে দণ্ডপ্রাপ্ত সবাইকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযানের সময় দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিআরটিএ-এর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মাদারীপুরে কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণ, যুবকের ১৪ বছরের কারাদণ্ড

মাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুরে কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণ, যুবকের ১৪ বছরের কারাদণ্ড

মাদারীপুরের রাজৈরে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণ মামলায় নাফিজ মোল্লা নামের এক যুবককে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে মাদারীপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক আ. স. ম শহীদুল্লাহ কায়সার এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত নাফিজ মোল্লা রাজৈর উপজেলার পূর্বকান্দি শাখারপাড় গ্রামের মতিয়ার মোল্লার ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শরীফ মো. সাইফুল কবীর।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ ভোরে নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যান নাফিজ ও তার সহযোগীরা। পরে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। অভিযোগ পেয়ে অভিযান চালিয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার ও নাফিজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে ঘটনার দুদিন পর ২৩ মার্চ রাজৈর থানায় একটি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এরপর রাজৈর থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক এখতিয়ার আহম্মেদ ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ নাফিজকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট প্রদান করেন।

যুক্তিতর্ক ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামি নাফিজকে ১৪ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়; যা অনাদায়ে তাকে আরো ছয় মাস কারাবাসে থাকতে হবে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আনজীবী সাইফুল কবীর। দোষ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি নাফিজের মা শাহানা বেগমকে মুক্তি দেন বিচারক।

মাদারীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শরীফ মো. সাইফুল কবীর বলেন, এই রায়ে মামলার বাদি ন্যায় বিচার পেয়েছেন। তারা এ রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষও সন্তুষ্ট হয়েছে।

বামনায় সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকেও ধান বিক্রি করতে পারেননি কৃষক | কালের কণ্ঠ