• ই-পেপার

'ইচ্ছে হলে নিউজ করে দেন'

কর্ণফুলী নদীতে ফিশিং ট্রলারে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
কর্ণফুলী নদীতে ফিশিং ট্রলারে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৬
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা একটি ফিশিং ট্রলারের ইঞ্জিন কক্ষে বিস্ফোরণের ঘটনায় ছয়জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা দুইজনকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসা দেয়ার জন্য নেয়ার হচ্ছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৩০ জুন) ওই ফিশিং ট্রলারের ক্যাপ্টেন জুবায়ের মাহমুদ নগরের সদরঘাট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। দগ্ধরা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

বিস্ফোরণে দগ্ধরা হলেন— ক্যাডেট ইঞ্জিনিয়ার আশিকুজ্জামান তামিম, গ্রিজার রুবেল ও শাহ আলম, উইন্স অপারেটর নিজাম উদ্দিন, ডুবুরী রাসেল ও নাবিক ছিদ্দিক আহমেদ। 

থানায় দায়ের করা জিডি সূত্রে জানা গেছে, ফিশিং ট্রলার এফভি দেশ সাগর থেকে মাছ শিকার করে ২৯ জুন দুপুর আড়াইটায় কর্ণফুলীতে নোঙর করে। মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে ইঞ্জিন কক্ষে বিস্ফোরণ ঘটে। 

নৌ পুলিশের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, উদ্ধার করা ছয় নাবিকের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বাকি চারজন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন।

সরিষাবাড়ীতে পুকুরে ডুবে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
সরিষাবাড়ীতে পুকুরে ডুবে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মাদ্রাসা থেকে বাড়ী ফেরার পথে পুকুরের পানিতে ডুবে সম্পদ মিয়া (৯) নামে এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন ) সরিষাবাড়ী পৌরসভার ভুরারবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত সম্পদ মিয়া ওই গ্রামের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন আকন্দের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে সম্পদ মাদ্রাসা থেকে ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। পথে সরকার পাশা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট সংলগ্ন একটি পুকুরে গোসল করার উদ্দেশ্যে ঝাঁপ দেয়। একপর্যায়ে সে পানিতে তলিয়ে যায়। পরে ছোট বোনের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য  কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী জানান, পানিতে ডুবে যাওয়া এক শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসে তার স্বজনরা। তবে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। 

শ্রীমঙ্গলে ১৭১তম সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উদযাপন

মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
শ্রীমঙ্গলে ১৭১তম সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উদযাপন
ছবি : কালের কণ্ঠ

‘হুল হুল হুলে হুল, ত্রিশে জুন হুলে হুল’—এই ঐতিহাসিক স্লোগানে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ১৭১তম মহান সাঁওতাল বিদ্রোহ (হুল দিবস)।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবসটি উপলক্ষে জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মৌলভীবাজার জেলা সাঁওতাল সমাজ কল্যাণ পরিষদ। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে সিলেট বিভাগীয় সাঁওতাল জনগোষ্ঠী।

দিবসের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর অডিটরিয়াম প্রাঙ্গণে স্থাপিত সাঁওতাল বিদ্রোহের নেতা সিধু মুর্মু ও কানু মুর্মুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয় বণিক, মৌলভীবাজার চা জনগোষ্ঠী আদিবাসী ফ্রন্টের নেতা পরিমল সিং বাড়াইক, কবি লুৎফর রহমান এবং সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী ও ইসমাইল মাহমুদ।

সাঁওতাল সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি সুজিত সাঁওতালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন সুমন সাঁওতাল, জবা সাঁওতাল, রনজিত সাঁওতাল, সমর সাঁওতাল, দয়ামনি সাঁওতাল, নরেশ সাঁওতাল, প্রদীপ সাঁওতাল, কমল সাঁওতাল, রাঙাচরণ সাঁওতাল, শ্যামল সাঁওতাল ও বিষ্ণু সাঁওতাল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দুলাল সাঁওতাল ও স্বপন মুর্মু।

বক্তারা ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন এবং জমিদার-মহাজনদের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তারা বিদ্রোহের নেতা সিধু মুর্মু, কানু মুর্মু, চাঁদ মুর্মু, ভৈরব মুর্মু এবং নারী নেত্রী ফুলমনি ও ঝানুর আত্মত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করেন। বক্তারা বলেন, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সাঁওতালদের এই সংগ্রাম আজও ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জোগায়।

আলোচনা সভা শেষে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাঁওতাল শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করেন। তাদের পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

শালবাড়ীর পালপাড়ায় সেই মুখরতা নেই

মো. তোফাজ্জল হোসেন, নিয়ামতপুর (নওগাঁ)
শালবাড়ীর পালপাড়ায় সেই মুখরতা নেই
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের মানিকপাটন শালবাড়ীর পালপাড়ার একটি কুমার পরিবারে। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ

মৃৎশিল্পের জন্য বিখ্যাত একটি প্রাচীন জনপদ শালবাড়ী। নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার এই গ্রামে রয়েছে একটি কুমারপাড়া। কয়েক শ বছর ধরে সেখানে বসতি তাদের। বসতির বয়স যত, মৃৎপণ্য প্রস্তুতের বয়স তত। 

একটা সময় ছিল, শালবাড়ীর কুমারপাড়া মুখর থাকত কুমারদের কর্মচাঞ্চল্যে। তবে সেই দিন আর নেই। কালের বিবর্তনে চাহিদা কমে গেছে এ শিল্পের। তাই বাঁচার তাগিদে মৃৎশিল্পী বাপ-দাদার এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন, চলে গেছেন অন্য পেশায়। কেউ কেউ ধরে রাখলেও তারা নানা সমস্যায় জর্জরিত। 

মৃৎশিল্পীরা জানান, কালের বিবর্তনে প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতায়  এই শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। তাদের অনেকে বংশপরম্পরায় এ পেশায় নিয়োজিত। তাদের হাতের ছোঁয়ায় নিমিষেই তৈরি হয় সুন্দর সব মাটির পণ্য। দৃষ্টিনন্দন ফুলদানি, তৈজসপত্র, সরা, মটকা, সুরাই, পেয়াালা, পশু-পাখি, মাটির ব্যাংক ইত্যাদি। তবে এর আগের সেই জৌলুস আর নেই। 

সম্প্রতি সরেজমিন নিয়ামতপুরের শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের মানিকপাটন শালবাড়ীর পালপাড়ায় দেখা যায়, বাড়িতে বাড়িতেকাঠের তৈরি বিশেষ চাকা বা চাক। চাকে পা চালিয়ে মৃৎশিল্পীরা মাটি দিয়ে তৈরি করছেন পুতুল, ফুলের টব, হাঁড়ি পাতিলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। 

পাড়ার মৃৎশিল্পী নিপেন চন্দ্র পাল বলেন, ছোটবেলা থেকে বাপ-দাদাকে এ কাজ করতে দেখেছি। এ ব্যবসার মাধ্যমেই সংসার চলত। কিন্তু এখন সংসার আর চলে না। কোনো রকম দিন চলে যায়। তিনি বলেন, মাটি, বালু, খড় কিনতে হয়। এসব উপকরণের দাম এখন অনেক বেশি। তাই অধিকাংশ সময় দইয়ের পাতিলই তৈরি করে চলছি। বাজারে জিনিসপত্রের যে দাম, তাতে এই পেশায় থেকে সংসার চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। 

একই পাড়ায় ধীরেন চন্দ্র পাল বলেন, ‘চৈত্রের শুরুতে কাজের খুব ব্যস্ততা থাকে আমাদের। বাকি সময় টিলেঢালা। তবে আগে যেমন হাতি, ঘোড়া, পুতুলসহ বাহারি জিনিসপত্র বানাতাম, এখন তা আর বানানো হয় না। খরচ বেশি, বেচাবিক্রিও নেই। তাই এখন আমরা শুধু দইয়ের পাতিলই বেশি তৈরি করি। মাঝে মধ্যে অর্ডার পেলে অন্য জিনিসপত্র তৈরি করি।’

মৃৎশিল্পী স্বপ্না বলেন, আমার বাবার বাড়িতেও এই মাটির কাজ হয়। শ্বশুরবাড়িতে এসেও এই কাজই করছি। আগে বেচাকেনা বেশি হতো, এখন আর হয় না। আগে আমি নিজেই হাঁট-বাজারে মাটির তৈরি  জিনিস বিক্রি করতাম। এখন আর চাহিদা না থাকায় যাওয়া হয় না। এখন বাড়িতেই দইয়ের হাঁড়ি তৈরি করি। এ দিয়েই কোনো রকম দিন চালাচ্ছি। 

নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. মুর্শিদা খাতুন বলেন, আমাদের অনেক পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী রয়েছে। কুমার সম্প্র্রদায় সেগুলোর একটি। প্লাস্টিকের এই যুগে তাদের উৎপাদন কমে গেছে। কেননা, মাটির পণ্যের প্রতি আধুনিক প্রজন্মের মানুষের আগ্রহ দিন দিন কমছে। তাদের বাঁচিয়ে রাখতে, ইতিহাস ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বিশেষ অনুদানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সুযোগ থাকলে স্থানীয়ভাবে আমি অবশ্যই তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।