• ই-পেপার

দুই বছর পর চালু হলো কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিপণন কার্যক্রম

দামুড়হুদার কৃষকদের পণ্য যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন বাজারে

শিল্পী কাঙালিনী সুফিয়া

ভাঙা হাত, অসুস্থ শরীর, অনিশ্চিত জীবন : সহায়তার হাত বাড়াল এবিজি ফাউন্ডেশন

নওশাদ জামিল, ঢাকা ও জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী
ভাঙা হাত, অসুস্থ শরীর, অনিশ্চিত জীবন : সহায়তার হাত বাড়াল এবিজি ফাউন্ডেশন
ছবি: কালের কণ্ঠ

লোকগানের এক মুকুটহীন সম্রাজ্ঞী কিংবদন্তি শিল্পী কাঙালিনী সুফিয়া। তার কণ্ঠের মায়ায় মুগ্ধ দেশ-বিদেশের অসংখ্য শ্রোতা। মানুষের মুখে মুখে ফেরে তার বিভিন্ন জনপ্রিয় গান। সারাজীবন গান গেয়েছেন, কোটি শ্রোতার হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। তবে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে চরম অর্থকষ্ট, অসুস্থতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তার।

কিছুদিন আগে বাথরুমে পা পিছলে পড়ে কাঙালিনী সুফিয়ার বাম হাত ভেঙে যায়। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা না নিয়ে প্রতিবেশীদের ঝাড়ফুঁক ও গাছগাছড়ার চিকিৎসার ওপরই নির্ভর করতে হয় তাকে। তবে অবস্থার অবনতি হলে গতকাল বুধবার সকালে তাকে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর হাতে প্লাস্টার করা হয়।

শিল্পী কাঙালিনী সুফিয়ার মানবেতর জীবনের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার পাশে দাঁড়ায় এবিজি ফাউন্ডেশন। শিল্পীর চিকিৎসার জন্য তাকে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

৪৫৫২২৩

বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় শিল্পীর বাড়িতে যান এবিজি ফাউন্ডেশনের চিফ কো-অর্ডিনেটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি শিল্পীর খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ভবিষ্যতে চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনেও পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর বিলপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন কাঙালিনী সুফিয়া। সেখানেই কাটছে তার জীবনের শেষ অধ্যায়। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শিল্পীর শরীরে বাসা বেঁধেছে হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগ। নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের প্রয়োজন হলেও অর্থসংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।

কালের কণ্ঠের রাজবাড়ী প্রতিনিধি শিল্পীর নিজ বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে বলেন। অসুস্থ ও বয়সের ভারে ন্যুব্জ শিল্পী। ঠিকমতো যেন কথা বলতেও কষ্ট হয় তার। তিনি জানান, দুর্ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। রাতে বাথরুমে পড়ে গিয়ে কিছু সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফিরলে বাম হাতে খুব ব্যথা অনুভব করেন এবং হাত নাড়াতে পারছিলেন না। ওই অবস্থায় রাত কাটান। পরদিন সকালে প্রতিবেশী নারী বিবি হাওয়ার কাছে গেলে তিনি ঝাড়ফুঁক ও গাছগাছড়ার চিকিৎসা দেন।

যে কণ্ঠে সুরের জাদু, সে কণ্ঠে দুঃখের কথা জানিয়ে কাঙালিনী সুফিয়া বলেন, ‘সেদিন ঘরে কোনো টাকাও ছিল না। পাশে ছিল না আমার মেয়ে পুষ্পও। তাই ঝাড়ফুঁক আর গাছগাছড়ার চিকিৎসাই ছিল আমার একমাত্র ভরসা।’

প্রতিবেশী বিবি হাওয়া বলেন, ‘ঘটনার পরদিন সকালে কাঙালিনী সুফিয়া আমার কাছে আসেন। আমি তাঁর হাতের অবস্থা দেখে ঝাড়ফুঁক ও কিছু গাছগাছড়ার চিকিৎসা দিই। আমি সামান্য কবিরাজি জানি, তাই মানবিক কারণেই তাঁকে সাহায্য করেছি।’

কাঙালিনী সুফিয়ার একমাত্র মেয়ে পুষ্প বেগম। গানের অনুষ্ঠানে মা কাঙালিনী সুফিয়া গান করেন আর মেয়ে পুষ্প মায়ের সঙ্গে থেকে মন্দিরা বাজান। পুষ্প জানান, কাজের প্রয়োজনে তিনি ঢাকায় ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত বাড়ি ফিরলেও অর্থসংকটের কারণে মাকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিতে পারেননি। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার সকালে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তার হাতে প্লাস্টার করেন।

পুষ্প আরও জানান, সরকারি উদ্যোগে তার মায়ের নামে ২০ শতাংশ জমি দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে সেখানে দুই কক্ষ ও একটি বাথরুমসহ একটি টিনশেড পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। ২০২৩ সালে নির্মাণ করা হয় সুফিয়া একাডেমির জন্য আরেকটি টিনশেড ভবন এবং বার্ষিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য একটি উন্মুক্ত মঞ্চ। তবে এখনো মঞ্চের ছাদ ও বাউন্ডারি নির্মাণ হয়নি।

একসময় সরকারি ভাতা, সাংস্কৃতিক অনুদান এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে যা আয় হতো, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলত। তবে বয়স ও অসুস্থতার কারণে এখন আর নিয়মিত মঞ্চে উঠতে পারেন না তিনি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও কমে গেছে। ফলে আয়ের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

অভিযোগের সুরে কালের কণ্ঠকে পুষ্প বলেন, ‘সরকারি উদ্যোগে মা প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা ভাতা পেতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সেই ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। অসুস্থতার কারণে মা এখন আর নিয়মিত অনুষ্ঠান করতে পারেন না। ফলে আর্থিক সংকট নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মায়ের সার্বক্ষণিক দেখভালের জন্য একজন নার্স বা সহকারী প্রয়োজন। পাশাপাশি তাঁর রচিত প্রায় ৫০০টি গান সংরক্ষণ ও লিপিবদ্ধ করা জরুরি। কারণ এখনো তিনি নতুন গান রচনা করেন।’

এবিজি গ্রুপের সহায়তার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে পুষ্প বলেন, ‘মায়ের অসুস্থতার খবরে বসুন্ধরা গ্রুপ পাশে দাঁড়িয়েছে, এটা আমাদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়। আশা করছি, এবার মা সঠিক চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে উঠবেন।’

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, ‘কাঙালিনী সুফিয়ার পাশে প্রশাসন সবসময় রয়েছে। আমরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। এবিজি গ্রুপও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে জেনে আমরা আনন্দিত।’

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার রামদিয়া গ্রামে জেলে পরিবারে কাঙালিনী সুফিয়ার জন্ম। তাঁর প্রকৃত নাম টুনি হালদার। ১৪ বছর বয়সেই গ্রামের অনুষ্ঠানে গান গেয়ে মানুষের নজর কাড়েন। তাঁর গানের গুরু গৌর মহন্ত ও দেবেন খ্যাপা। হালিম বয়াতির কাছেও গান শিখেছিলেন কাঙালিনী সুফিয়া। এ পর্যন্ত ৩০টি জাতীয় ও ১০টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। ‘কোনবা পথে নিতাইগঞ্জ যাই’, ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’, ‘নারীর কাছে কেউ যায় না’, ‘আমার ভাটি গাঙের নাইয়া’সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় গানের শিল্পী তিনি। 

রামগড়ে গোলাগুলি, দীঘিনালায় হামলা : নিহত দুই ইউপিডিএফ সদস্য

খাগড়াছড়ি, রামগড় ও দীঘিনালা প্রতিনিধি
রামগড়ে গোলাগুলি, দীঘিনালায় হামলা : নিহত দুই ইউপিডিএফ সদস্য
সংগৃহীত ছবি

খাগড়াছড়ির রামগড়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসিত)-এর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় আরো একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। 

বুধবার (২৪ জুন) এসব ঘটনা ঘটে। একই দিনে দীঘিনালায় সশস্ত্র হামলায় ইউপিডিএফের আরো এক সদস্য নিহত হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে রামগড় উপজেলার প্রেমতলা এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর সিন্ধুকছড়ি জোনের একটি টহল দল অভিযান চালায়। এ সময় সেখানে অবস্থানরত সশস্ত্র ব্যক্তিরা সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়।

গোলাগুলির একপর্যায়ে রামগড় উপজেলার মাজারটিলা এলাকার বাসিন্দা ববিন ত্রিপুরা (৩২) নিহত হন। আহত হন মংসানু মারমা ওরফে জীবন (২৯)। পরে তাকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

ঘটনার পর এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফ (প্রসিত) নিহত ববিন ত্রিপুরাকে তাদের কর্মী বলে দাবি করেছে। একই সঙ্গে আহত মংসানু মারমাকে আটকের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

রামগড় থানার ওসি মো. নাজির আলম বলেন, দুর্গম এলাকায় ঘটনাটি ঘটায় মরদেহ উদ্ধার ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগছে। আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এদিকে বুধবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ইউনিয়নের মুড়োপাড়া চৌমুহনী এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইউপিডিএফ (প্রসিত)-এর সদস্য সুজন চাকমা (৪৮) নিহত হন। তিনি কবাখালী ইউনিয়নের তারাবনিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বিনন্দ মোহন চাকমার ছেলে।

দীঘিনালা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, সুজন চাকমা একটি দোকানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিশেষ পোশাক পরা পাঁচ ব্যক্তি সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তিনি দোকানের পেছন দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাকে অনুসরণ করে আরো গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সুজন চাকমার বিরুদ্ধে হত্যাসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।

ইউপিডিএফ (প্রসিত)-এর দীঘিনালা সংগঠক সজীব চাকমা এ ঘটনার জন্য জনসংহতি সমিতি (সন্তু)-কে দায়ী করেছেন। তবে এ বিষয়ে জনসংহতি সমিতির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ওষুধ সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ না করার অপরাধে দুই ফার্মেসিকে জরিমানা

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
ওষুধ সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ না করার অপরাধে দুই ফার্মেসিকে জরিমানা
সংগৃহীত ছবি

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মা ফার্মেসী ও সুধা ফার্মেসী নামে দুই ফার্মেসিকে ওষুধ সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ না করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কালারুকা বাজারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোজাহিদুল ইসলাম এবং সুনামগঞ্জ জেলা ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক (ড্রাগ সুপার) মিঠুন সাহার যৌথ নেতৃত্বে এ মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ, ফিজিশিয়ান স্যাম্পলস মজুদ রাখা, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি এবং ফ্রিজে রাখার মতো তাপ সংবেদনশীল ওষুধ যথানিয়মে সংরক্ষণ না করার অপরাধে এই দুই ফার্মেসিকে জরিমানা করা হয়।

অভিযান প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জের ড্রাগ সুপার মিঠুন সাহা জানান, ইনসুলিন ও ভ্যাকসিনসহ বেশ কিছু তাপ সংবেদনশীল ওষুধ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ফ্রিজে সংরক্ষণ করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এই দুই ফার্মেসিতে এসব তাপ সংবেদনশীল ওষুধ যথানিয়মে সংরক্ষণ না করে সাধারণ তাপমাত্রায় ফেলে রাখা হয়েছিল। এতে ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। 

তিনি আরো জানান, জীবন রক্ষাকারী ওষুধের গুণগত মান বজায় রাখতে আমাদের এই কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোজাহিদুল ইসলাম জানান, ফার্মেসিগুলোকে শতভাগ নিয়ম মেনে ওষুধ বিক্রি করতে হবে। জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এবং ওষুধের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

পাবনার আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস

ঝাড়ুদার করছেন অফিস সহায়কের কাজ, নিচ্ছেন অনৈতিক সুবিধা

প্রবীর সাহা, পাবনা
ঝাড়ুদার করছেন অফিস সহায়কের কাজ, নিচ্ছেন অনৈতিক সুবিধা
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঝাড়ুদার পদে অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত হাসান আলী খাঁ অফিস সহায়কের চেয়ারে বসে কম্পিউটারে কাজ করছেন। ছবি : কালের কণ্ঠ।

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঝাড়ুদার পদে অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত হাসান আলী খাঁ অফিস সহায়কের কম্পিউটারে কাজ করে সেবা নিতে আসা মানুষের কাছ থেকে নিচ্ছেন অনৈতিক সুবিধা। মাসে মাত্র ৩ হাজার টাকায় ঝাড়ুদারের চাকরি করে গ্রামে করেছেন বিলাসবহুল বাড়ি। হাসানের গ্রামের বাড়ি আতাইকুলা বাজার এলাকার রঘুনাথপুর গ্রামে গেলে তার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একতলা বিলাসবহুল সেই বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়।

গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কাজ করছেন হাসান আলী খাঁ নামে এক যুবক। আতাইকুলা ইউনিয়নের মাধপুর আমেনা খাতুন ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২১ সালে এইচ.এস.সি পাস করা হাসান চাকরি করেন ঝাড়ুদার পদে।

আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে তিনি ঝাড়ুদার পদে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত। কিন্তু জনবল সংকট থাকায় চাকরির প্রথম থেকেই ঝাড়ুদারের পাশাপাশি অফিস সহায়কের কাজ করছেন হাসান। কাজের সুবাধে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে হাসানের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী মো. নবী বলেন, ‘প্রায় ৯ বছর আগে অস্থায়ী পদ ঝাড়ুদার হিসাবে হাসান আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদানের পরপরই এই চতুর হাসান ভূমি অফিসের অফিসার দাবি করে অফিস সহায়কের কম্পিউটারে বসে নোটিশসহ বিভিন্ন অনলাইন আবেদনের কাজ করে আসছে। ওই অঞ্চলের সেবা গ্রহীতারা সাধারণ বেশিরভাগ কৃষক। সাধারণ কৃষকের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদেরকে জমির কাগজপত্র বিভিন্ন ভুল আছে ভয় দেখিয়ে খারিজ খাজনা প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিলাসবহুল বাড়ি করেছেন।’

তিনি আরো জানান, সরকারি ‘ক’ তফিল ও ‘খ’ তফিল বর্ণিত সম্পত্তিগুলো কৃষকের নিজ নামে করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি  দিয়ে লাখ লাখ টাকা সাধারণ কৃষকের কাছ থেকে নিলেও সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে কোন টাকা জমা না দিয়ে নিজের পকেট ভারী করেন। হাসানের কারণে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ এবং সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। হাসানের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।  

এ বিষয়ে আরো এক ভুক্তভোগী আতাইকুলার শরিফুল ইসলাম জানান, আমার বাবা ও মায়ের নামে ক্রয়কৃত সম্পত্তির খাজনা না দেওয়ার কারণে খাস খতিয়ানে চলে যায়। এলাকার কিছু চতুর ব্যক্তি খাস খসিয়ান দেখে লিজ নেওয়ার আবেদন করে। আমি উপায়ান্তর না দেখে ভূমি অফিসে গিয়ে হাসানের সঙ্গে পরিচয় হয় হাসান বলে আপনাকে খাস আদায়কারী হিসাবে আদেশ নিয়ে দেব। আপনি আমাকে ১ লাখ টাকা দেবেন। দেন-দরবার শেষে ৬৫ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়ে হাসানকে টাকা দিই। হাসান উক্ত টাকার কোনো রশিদ আমাকে দেয়নি। সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে গিয়ে খবর নিয়ে জানতে পারি হাসান কোনো টাকা জমা দেয়নি। উক্ত টাকার রশিদ রশিদ দেও, না হলে টাকা ফেরত দাও। টাকা চাইলে আজ, দেব, কাল দেব, কাগজ করে দিয়েছি আপনার জামাইয়ের নামে কাগজ করে দিয়েছি নানা টালবাহানা করে এবং আমাকে হুমকি-ধমকি দেয়।’ সহকারী কমিশনার ভূমি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আমার আবেদন এ ধরনের চতুর লোকের বিচার চাই এবং টাকা ফেরত পাওয়ার সার্বিক সহযোগিতা চাই।

এ বিষয়ে হাসান আলী খাঁ বলেন, ‘স্যারদের মৌখিক নির্দেশে আমি চাকরির শুরু থেকেই কম্পিউটারে কাজ করি এবং পাশাপাশি ঝাড়ুদারের দায়িত্বও পালন করি।’ হাসান আরো বলেন, ‘২০১৭ সালে ঝাড়ুদার পদে আর আতাইকুলা ভূমি অফিসে ঝাড়ুদার পদে অস্থায়ীভাবে চাকরি করি এখনো স্থায়ী হয়নি। ২০১৬ সাল থেকে কম্পিউটার জানায় স্যাররা আমাকে দিয়ে কম্পিউটারে কাজ করান।’

বিলাসবহুল বাড়ি প্রসঙ্গে হাসান বলেন, ‘জমি বিক্রি ও পেঁয়াজ ও রসুনের ব্যবসা করে বাড়ি করেছি। দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে হাসান বলেন, ‘আমি অফিসের কাজ করি।  টাকা নিয়ে কাজ করি না। আপনারা তদন্ত করে দেখেন। এসব অভিযোগ মিথ্যা। 

আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. নজুরুল ইসলাম বলেন, ‘হাসান ঝাড়ুদার হিসেবে অস্থায়ী নিয়োগে ৩ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন। জনবল সংকটের কারণে তাকে দিয়ে কম্পিউটারের কাজ করানো হচ্ছে। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে অফিস করতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি নিশ্চুপ থাকেন। ঝাড়ুদার পদে কর্মরত থেকে কিভাবে একজন অফিস সহায়কের চেয়ারে বসে অফিশিয়াল কোন অনুমতি ছাড়া কাজ করছেন, এমন অভিযোগের কোনো উত্তর তিনি দেননি। এই চেয়ারে বসে স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন এমন অভিযোগে প্রশ্ন করলে বলেন, ‘এখানে কোনো অনৈতিক কাজ হয় না।’

সাঁথিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিফ রায়হান বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

দামুড়হুদার কৃষকদের পণ্য যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন বাজারে | কালের কণ্ঠ