kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

পরিবহন ধর্মঘটের জের

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডে পরিবহন সংকট, দুর্ভোগ চরমে

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডে পরিবহন সংকট, দুর্ভোগ চরমে

ছবি: কালের কণ্ঠ

নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাতিলের দাবিতে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্যপরিষদের ডাকা ধর্মঘটের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডে গণপরিবহন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এতে আজ বুধবার সকাল থেকে সারাদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারণ যাত্রী, স্কুল শিক্ষার্থী, রোগীসহ সব ধরনের যাত্রীদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়ক পরিবহনের নতুন আইন বাতিলের দাবিতে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্যপরিষদ বুধবার একযোগে সারাদেশে ধর্মঘট আহবান করায় বুধবার সকাল থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা ছিল খুবই কম। এমনকি পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়া বাস-মিনিবাস-হিউম্যান হলারসহ অন্যান্য যাত্রীবাহী গাড়ির মালিক-শ্রমিকদের কোন ধর্মঘট না থাকলেও বিশৃঙ্খলার আশংকায় যাত্রীবাহী গাড়িও খুব বেশি চলাচল করছিল না। তবুও অল্প কিছু যাত্রীবাহী গাড়ি ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে যাতায়াত করতে থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পণ্যবাহী গাড়ির শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে পড়ে সব ধরনের যান চলাচলে বাধা দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে বেলা ১১টার পর থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকরা গণপরিবহন চলাচলও বন্ধ করে দেয়।

ফলে লোকাল সব বাস, মিনিবাস, সিএনজি অটোরিকশাসহ সব যান চলাচল ব্যাহত হয়ে দুপুরের দিকে গণপরিবহন উদার হয়ে যায়। এমনকি ঢাকা, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যাত্রীবাহী গাড়িগুলোকে চট্টগ্রাম মহানগরীর সিটি গেট এলাকায় আটকে দেওয়া হয়। ফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে মহাসড়কে। সরেজমিনে এদিন সীতাকুণ্ড উপজেলাধীন মহাসড়ক থেকে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় ঘুরে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ দেখা গেছে। 

বুধবার দুপুর ১টায় সীতাকুণ্ড সদর বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায় ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখি বাসের অপেক্ষায় অসংখ্য সাধারণ যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা দাঁড়িয়ে রয়েছে। উপজেলার বড় দারোগারহাট এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী ইন্দ্রজিত চক্রবর্তী জানান, তার এক আত্মীয়ের বিয়ের কথা চূড়ান্ত করতে চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ গোসাইল ডাঙ্গা এলাকায় যেতে গলদঘর্ম অবস্থা হয়েছে তার। দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে একটি যাত্রীবাহী গাড়িতে চট্টগ্রামের কাছাকাছি পৌঁছালেও অবরোধকারীদের বাধায় সিটি গেট অতিক্রম করা যায়নি।

এরপর সেখান থেকে দেড় কিলোমিটার হেঁটে অলংকার পৌঁছানোর পরও কোনো গণপরিবহন নেই! শেষে অনেক অপেক্ষা করে একটি সিএনজি অটোরিকশায় প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া ২০০ টাকা দিয়ে আগ্রাবাদ পৌঁছান তিনি। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান শেষে ফিরতে গিয়ে আরো দুরাবস্থার শিকার হন। বাস না পেয়ে একবার চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে ট্রেন মিস করার পর সিএনজি, রিকশাযোগে কয়েক ঘণ্টায় সিটি গেট এলাকায় আসার পর আর কোন ঢাকামুখি বাস পাওয়া যাচ্ছিল না। রাত প্রায় ৮টা পর্যন্ত সেখানে অপেক্ষার পর র‌্যাব পাহারায় কিছু যাত্রীবাহী গাড়ি বের হতে দেখেন তিনি।

শেষে একটি নোয়াখালীর গাড়িতে উঠে বাড়ি বড় দারোগারহাটের উদ্দেশে রওনা দেন। সীতাকুণ্ডের পন্থিছিলা এলাকার বাসিন্দা প্রভোক্স গাড়ি চালক মো. শাহীন জানান, মহাসড়কে শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে তিনি চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন না। কিন্তু বিকালে একটি জরুরী রোগী নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের উদ্দেশে রওনা দেন। সন্ধ্যার পর তিনি উপজেলার ফৌজদারহাট সলিমপুর এলাকায় গিয়ে পৌঁছে দেখেন সামনে বিশাল যানজন। চট্টগ্রাম অভিমুখে আর যাওয়া যাচ্ছে না।

আবার কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে করতে পেছনেও অনেক গাড়ির লাইন হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে পেছনেও আসতে পারছিলেন না। রাত ৮টা পর্যন্ত তিনি একই স্থানে আটকে ছিলেন বলে জানান। এদিকে পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, ধর্মঘটে অংশগ্রহণকারীরা শুধু দূরপাল্লার যানবাহন নয়, সব ধরনের গণপরিবহনকে বাধা দেয়। ফলে সাধারণ মানুষ, অফিস যাত্রী, শিক্ষার্থী ও অন্যরা চরম দুর্ভোগ পোহান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বাস-মিনিবাস-হিউম্যান হলার মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম বলেন আসলে বর্তমানে সড়ক পরিবহনের যে নতুন আইনটি হয়েছে তা আমাদের কোনো মতামত না নিয়েই করা হয়েছে। এতে আমরা চরম জটিলতার শিকার হচ্ছি। এ কারণে পণ্যবাহী গাড়ির মালিক-শ্রমিকরা ধর্মঘট ডাকলেও পরবর্তীতে আমাদের শ্রমিকরাও যানবাহন বের করেনি। এতে যাত্রী দুর্ভোগ হলেও কিছু করার ছিল না।

তিনি এ আইনটি পুনর্বিবেচনা করে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের হয়রানি থেকে বাঁচানোর জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেন। এদিকে পরিবহন ধর্মঘটে যানবাহন কিছুটা কম চললেও মহাসড়কে কোনো বাধা ছিল না বলে জানান বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি মো. আবদুল আওয়াল। তবে সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. শামীম শেখ বলেন অবরোধে মহাসড়কে গাড়ি কম থাকলেও সিটি গেটে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে বিকালের দিকে সেখান থেকে ভাটিয়ারী পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়। আমরা অনেক চেষ্টা চালিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা