kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ১ অক্টোবর ২০২০। ১৩ সফর ১৪৪২

ছোট্ট মিনুর হার্টে ছিদ্র, চিকিৎসার জন্য ঘুরছে দ্বারে দ্বারে

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি   

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছোট্ট মিনুর হার্টে ছিদ্র, চিকিৎসার জন্য ঘুরছে দ্বারে দ্বারে

যশোরের চৌগাছায় দরিদ্র পিতামাতার সন্তান সাড়ে চার বছরের শিশু মিনু খাতুন গুরুতর অসুস্থ হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। যে বয়সে তার খেলাধুলা আর ছোটাছুটি করার কথা সেই বয়সে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবনটি যেন অন্ধকার। অবুঝ এই শিশুটি স্নেহময়ী মায়ের কোলে বা বিছানায় শুয়ে এখন মৃত্যুর প্রহর গুনছে। এ অবস্থায় সরকার কিংবা সমাজের বিত্তবানদের কাছে সন্তানের চিকিৎসার জন্য সাহয্যের জন্য হাত বাড়িয়েছেন অসহায় পিতামাতা। সহৃদয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চিকিৎসার সাহায্যে এগিয়ে আসলে বাঁচতে পারে ফুটফুটে শিশুটির জীবন।

উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামের দিনমজুর মনিরুল ইসলাম ও আকলিমা খাতুনের একমাত্র মেয়ে মিনু খাতুন। সাড়ে চার বছর বয়সে সে হার্টের ছিদ্র রোগে ভুগছে। শিশু মিনু খাতুন ভূমিষ্ট হওয়ার দেড় বছর পর তার শরীরে এই জটিল রোগ শনাক্ত হয়। এরপর শিশুটির পিতামাতা বহু ডাক্তার কবিরাজের কাছে মিনুকে নিয়ে গেছেন। কিন্তু কোনো কিছুতেই মিনু সুস্থ হয়ে ওঠেনি। 

সম্প্রতি তারা মিনু খাতুনকে নিয়ে যান যশোরের চিকিৎসক জয়ন্ত কুমার পোদ্দারের নিকট। নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক তাদেরকে বলেন, শিশুটির হার্টে ছিদ্র আছে। এই রোগের একমাত্র চিকিৎসা অপারেশন করা। অপারেশন করতে পারলে মিনু খাতুন সুস্থ উঠবে, ব্যয় হবে প্রায় ৩/৪ লাখ টাকা।
চিকিৎসকের পরামর্শ শেষে একবুক হতাশা নিয়ে বাড়িতে ফেরেন অসহায় পিতামাতা। কোথায় পাবে এত টাকা, কে দাঁড়াবে অবুঝ শিশু মিনুর পাশে। এসব দুশ্চিন্তার মধ্যেই তাদের দিনাতিপাত। এরই মধ্যে মিনু খাতুন শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়ে। দিশেহারা পিতামাতা প্রিয় সন্তানকে নিয়ে দ্রুত ছুটে আসেন চৌগাছা পল্লবী ক্লিনিকের ডাক্তার মিজানুর রহমানের কাছে। 

তিনি রোগীর বর্তমান পরিস্থিতি দেখে এবং স্বজনদের কথা শুনে উন্নত চিকিৎসার কথা জানান। এরপর তাদের অসহায়ত্ব ও দারিদ্র্যের কথা শুনে তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি জানান। খবরটি জেনে তাৎক্ষণিক পল্লবী ক্লিনিকে ছুটে যান কয়েকজন সংবাদকর্মী। 

শিশু মিনু খাতুনের পিতা মনিরুল ইসলাম বলেন, তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে। পাঁচ শতক জমির ওপর তার বসবাস। এই জমিটুকু ছাড়া তার আর কোনো কিছুই নেই। রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে থেকে দিনে যা আয় হয় তা দিয়ে চলে তার সংসার। মেয়ে মিনুর বয়স যখন দেড় বছর তখন তার হার্টের ছিদ্র ধরা পড়ে। কিন্তু টাকার অভাবে তাকে সেভাবে চিকিৎসা করতে পারেনি। এখন তার বয়স যত বাড়ছে ততই সে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ডাক্তার বলেছে, মিনুকে সুস্থ করে তুলতে হলে দ্রুত অপারেশন করতে হবে। কিন্তু অপারেশনের টাকা জোগাড় করা সম্ভব না। 

কান্নাজড়িতে কণ্ঠে শিশুটির মা আকলিমা খাতুন জানান, আমি আমার সন্তানকে বাঁচাতে চাই। সকলের কাছে সন্তানের জন্য সহযোগিতা চাই। তিনি এ সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্য চাই। 

যোগাযোগের ঠিকানা : ০১৭১৯-২৬৬৫৫৭ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা