kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মেডিক্যালে ভর্তি হচ্ছেন হাজীগঞ্জের পান্না, লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন স্থানীয় সাংসদ

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি   

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ১২:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেডিক্যালে ভর্তি হচ্ছেন হাজীগঞ্জের পান্না, লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন স্থানীয় সাংসদ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের মেধাবী শিক্ষার্থী পান্না আক্তার মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে সুযোগ পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু ভর্তি হওয়ার আর্থিক সামর্থ্যও নেই তার পরিবারের। এ সংক্রান্ত খবর গত বৃহস্পতিবার দৈনিক কালের কণ্ঠ অনলাইনসহ বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এরপরই গতকাল সন্ধ্যায় স্থানীয় সাংসদ মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম দরিদ্র পরিবারের এই মেয়েটির ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসেন। তিনি পান্নার লেখাপড়ার দায়িত্ব নেন। 
 
রাতের পান্না ও তার পরিবারের সাথে মুঠোফোনে কথা বলেন সাবেক এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিকে, এমন খবরে মেয়েটির পরিবারে বইছে খুশির বন্যা। পান্না হাজীগঞ্জের বেলচোঁ উচ্চ বিদ্যালয় এইচএসসি এবং হাজীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ থেকে  জিপিএ ৫ পেয়ে পাশ করেন। মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় পান্না ৬৭২তম স্থান অর্জন করেন। কিন্তু মেডিক্যালে ভর্তি বা সেখানে পড়াশোনার খরচ যোগানোর সাধ্য তার পরিবারের নেই। ফলে তার চিকিৎসক হওয়ার সুযোগ অধরাই থেকে যাবে বলে ভাবছিলেন সবাই। কিন্তু আশার আলো নিভে যায়নি। একই দিন সন্ধ্যার পর চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খাঁন মেয়েটির ভর্তির ব্যয়ভার বহন করবেন বলে মেয়েটির পরিবার ও তার কলেজ অধ্যক্ষকে নিশ্চিত করেন। 
 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাজীগঞ্জের বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের রায়চোঁ গ্রামের দিনমজুর আর ইট ভাটার শ্রমিক দুলাল মিয়া ও কোহিনুর বেগমের মেয়ে পান্না আক্তার সম্প্রতি প্রকাশিত মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে স্থান করে নেন। কিন্তু দিন মজুর বাবার পক্ষে কোনভাবেই ভর্তির টাকা যোগানো সম্ভব ছিলো না। ভর্তির টাকা যোগাতে না পারলে পান্নার কোনকালেই মেডিকেলে পড়া হতো না। 
 
পান্নার মা কোহিনূর বেগম জানান, রাতে এমপি স্যার মোবাইল ফোনে আমাদের সাথে কথা বলেছেন। আমরা স্যারের কাছে আজীবনের জন্য কৃতজ্ঞ হয়ে থাকবো। 
 
কান্নাজড়িত কণ্ঠে পান্না কালের কণ্ঠেকে জানান, আজ আমি অনেক খুশি। মনে হচ্ছে আমার মতো পৃথিবীতে কেউ এমন খুশি নেই। আমাকে পড়ালেখার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হচ্ছে। ভালো খাবার কিংবা ভালো জামা-কাপড় কি জানি না। পড়ালেখায় ভালো বলে স্কুলে থাকতে স্কুলের স্যারদের কারণে এসএসপি পাশ করি। হাজীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির পর থেকে পাশ করা পর্যন্ত সবকিছু ফ্রি করে দিয়েছেন কলেজের স্যাররা। এইচএসসি পরীক্ষার পর কলেজের স্যাররা আমাকে কুমিল্লায় আমার এক ম্যাডামের বাসায় রেখে মেডিক্যালের কোচিং করিয়েছেন। এই স্যাররা আমার জন্য এতোটা না করলে আমি ডাক্তারি পড়ায় চান্স পেতাম না। স্যারদের সহায়তা চান্স পেয়েছি। কিন্তু এখন আমি কীভাবে ভর্তি হতাম...আর কথা বলতে পারলেন না পান্না। 
 
হাজীগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাছান রাব্বী কালের কণ্ঠকে জানান, মাননীয় এমপি স্যারের নির্দেশে আমি পান্নাদের বাড়ি যাই। ওই সময় এমপি স্যার পান্না ও তার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলে পান্নার দায়িত্ব নেন। পান্নার পরিবার খুশি দেখে অনেক ভালো লেগেছে। তারা এমপি সাহেবের জন্যে অনেক দোয়া করেছেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা