জামালপুরের ইসলামপুরে লাগেজবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত মরদেহ প্রথমে শনাক্ত করতে পারেননি নিহতের পরিবারের সদস্যরাও। পরে পরনের কাপড় ও শরীরে থাকা তাবিজ দেখে মরদেহটি শনাক্ত করেন তারা। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
নিহত নায়েব আলী (৩৫) মেলান্দহ উপজেলার কাজাইকাটা এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় রিকশাচালক ছিলেন।
পিবিআই জানায়, গত ২১ জুন নায়েব আলী নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তাঁর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। দুই দিন পর, ২৩ জুন ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ারচর এলাকার একটি মাছের ঘের থেকে লাগেজবন্দি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মরদেহের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে প্রথমে পরিবারের সদস্যরা সেটি শনাক্ত করতে পারেননি। এমনকি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করেও পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। পরে নিখোঁজ ব্যক্তির জিডির তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে স্বজনদের আবার মর্গে নেওয়া হলে তারা পরনের কাপড় ও শরীরে থাকা তাবিজ দেখে মরদেহটি নায়েব আলীর বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তাররা হলেন নাহিদুল ইসলাম (৩০), সোলাইমান (৫০), শফিকুল ইসলাম (৪১), আবদুল কাদের (৫৪), রাসেল হোসেন (৩৪) ও সাগর পাশা (২৬)। তারা সবাই মেলান্দহ উপজেলার বাসিন্দা।
জামালপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, তদন্তের একপর্যায়ে নাহিদুল ইসলামের ওপর সন্দেহ হয়। পরে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় নিহতের অটোরিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশও উদ্ধার করা হয়।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, টাকার প্রয়োজন হওয়ায় নাহিদুল ও তাঁর সহযোগীরা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী নায়েব আলীকে একটি ভাঙারির দোকানে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পেছন থেকে জিআই তার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর মরদেহ একদিন একটি ড্রামের মধ্যে রাখা হয়। এদিকে অটোরিকশাটি খুলে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আলাদা আলাদা স্থানে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে মরদেহ একটি লাগেজে ভরে ইসলামপুরের বেনুয়ারচর এলাকার মাছের ঘেরে ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় ইসলামপুর থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, আদালতেও তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।