kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মিন্নিকে দেখতে কারাগার প্রাঙ্গণে উৎসুক জনতার ভিড়

বরগুনা প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৯:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিন্নিকে দেখতে কারাগার প্রাঙ্গণে উৎসুক জনতার ভিড়

ছবি : কালের কণ্ঠ

অবশেষে সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। 

আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা কারাগারের সদর গেট থেকে বাবার হাত ধরে বের হতে দেখা যায় মিন্নিকে। এ সময় কারাগারের পাশে উৎসুক জনতার ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর, মিন্নির একমাত্র ভাই মুকিম হাসান, চাচা আবু সালেহ কাউন্সিলর, মিন্নির আইনজীবী অ্যাড. মাহবুবুল বারী আসলাম, অ্যাড. গোলাম মোস্তফা কাদের এবং মামা সুজন মোল্লা প্রমূখ।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে মিন্নির জামিনের আদেশ বরগুনার আদালতে পৌঁছায়। সেখানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে জামিনের আদেশের কপি কারাগারে পাঠানো হয়।

মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, মিন্নিকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিনের আদেশের স্বাক্ষরিত কপি দুপুর ১২ টার দিকে বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এসে পৌঁছে। পরে মিন্নির পক্ষে বেলবন্ড দাখিলের অনুরোধ করা হয়। বিচারক বেলবন্ড গ্রহণ করে কারা কর্তৃপক্ষকে রিলিজ অর্ডার পাঠান। সব দাপ্তরিক কাজ শেষে বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে কারামুক্ত হন মিন্নি।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায কারাগারে থাকা ১৪ জন অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার দিন ধার্য থাকায় মঙ্গলবার বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে তাদের হাজির করা হয়। আদালতে হাজিরের জন্য একটি প্রিজনভ্যানে বরগুনা জেলা কারাগার থেকে প্রথমে ১৩ পুরুষ অভিযুক্তকে আনা হয়। এরপর একই ভ্যানে রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ।

এরই মধ্যে গত রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় পুলিশ। একই সঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এ চার্জশিটে মিন্নিকে সাত নম্বর অভিযুক্ত করা হয়। চার্জশিটে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করার পেছনে একাধিক কারণ দেখানো হয়। একটি মোবাইলেরর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিবাদের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়।

এ মামলায় অভিযুক্ত রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজী রাব্বি আকন এবং টিকটক হৃদয়ের দেওয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ হত্যাকাণ্ডের সাথে মিন্নির সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া মিন্নি নিজেও এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

গত ২৬ জুন শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফকে বরগুনার কলেজ গেটের সামনে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর ভিডিও চিত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরদিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা