• ই-পেপার

মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পেলেন বীরাঙ্গনা ববিজান বেওয়া

জামালপুরে ভাতিজার হাতে প্রাণ গেল চাচার

জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরে ভাতিজার হাতে প্রাণ গেল চাচার
প্রতীকী ছবি

জামালপুর সদর উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে মো. হক মিয়া নামের একজনের মৃত্যু হয়। 

শনিবার (৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের লক্ষ্মীরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।‌

মৃত হক মিয়া (৪৫) ওই এলাকার মনছুর মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন হক মিয়া এবং তার ভাতিজা সালাম মিয়ার মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। শনিবার সকালে বাড়ির পাশে ধানের কাজ করার সময় উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে ভাতিজা সালাম দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মারা যান হক মিয়া। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, ‘জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটেছে। অভিযুক্তকে আটকের জন্য অভিযান চলছে।’

জয়পুরহাটে যানবাহন চলাচল বন্ধ, দুই ঘণ্টা পর স্বাভাবিক

শ্রমিককে ‘মারধরের’ প্রতিবাদ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটে যানবাহন চলাচল বন্ধ, দুই ঘণ্টা পর স্বাভাবিক
বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে শ্রমিককে মারধর করার অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে জয়পুরহাট শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অবরোধ সৃষ্টি করেন মোটর শ্রমিকরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে শ্রমিককে মারধর করার অভিযোগ এনে এর  প্রতিবাদে শনিবার (৬ জুন) দুপুরে জয়পুরহাটের সব রুটে যাত্রীবাহী বাসসহ যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। তবে এর দুই ঘণ্টা পরই অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন তারা। 

আন্দোলনকারী মোটর শ্রমিকদের অভিযোগ, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জয়পুরহাট-বগুড়া আঞ্চলিক সড়কের নিশ্চিন্তা এলাকায় জয়পুরহাটগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসকে অতিক্রম করছিল বিজিবির একটি গাড়ি। এ সময় বিজিবি সদস্যরা ওই বাসের হেলপার সাদ্দাম হোসেনকে মারধর করেন এবং বাসটির কাগজপত্র কেড়ে নেন। 

ওই ঘটনার প্রতিবাদে জয়পুরহাটের সব রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধের ডাক দেন মোটর শ্রমিকরা। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ১১টা থেকে জেলার সব রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মোটর শ্রমিকরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও শহরের পাঁচুর মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচলে বাধা দেন। তারা দোষী বিজিবি সদস্যদের বিচার চেয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সহসভাপতি গোলাম মর্তুজা শিপলু, সাধারণ সম্পাদক উম্মত আলী হিম্মত, দপ্তর সম্পাদক হেলাল উদ্দীন, শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গীর কবির প্রমুখ। পরে প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা হলে দুই ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হলে বেলা দেড়টা থেকে জেলায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, জয়পুরহাট-বগুড়া আঞ্চলিক সড়কের নিশ্চিন্তা এলাকায় শ্যামলী পরিবহনের বাসটিকে অতিক্রম করছিল বিজিবির একটি গাড়ি। কিন্তু বাসটি বিজিবির গাড়িকে অতিক্রম করার সুযোগ না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হন বিজিবি সদস্যরা। একপর্যায়ে তারা বাসটির হেলপার সাদ্দামকে মারধর করেন। 

এদিকে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধের খবর পেয়ে দুপুর ১২টার পর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নুরুল ইসলাম, জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হমুদুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফুল ইসলা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের শ্রমিক কার্যালয়ে আসেন। তারা শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর বিষয়টি সমাধান করেন।

বৈঠকে শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী হেলপারকে মারধর করার বিষয়ে ভুক্তভোগীকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। বিষয়টির চূড়ান্ত সমাধানে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনারও সিদ্ধান্ত হয় ওই বেঠকে। পরে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলে দুপুর দেড়টা থেকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক উম্মত আলী হিম্মত বলেন, ‘বাসের হেলপারকে অন্যায়ভাবে বিজিবির সদস্যরা মারধর করার প্রতিবাদে তারা সকাল সাড়ে ১১টা থেকে জেলায় সব প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে আশ্বাসের ভিত্তিতে দুই ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

হবিগঞ্জে বসতঘর থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জে বসতঘর থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় বিউটি আক্তার নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত বিউটি আক্তার (২৫) ওই গ্রামের ওমানপ্রবাসী ইব্রাহিম মিয়ার স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা বসতঘরের ভেতরে বিউটি আক্তারের নিথর দেহ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম সালিমুল হক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বাঞ্ছারামপুর

দখল দূষণ আবর্জনায় নাকাল ঢোলভাঙ্গা নদী

ফয়সল আহমেদ খান, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
দখল দূষণ আবর্জনায় নাকাল ঢোলভাঙ্গা নদী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের পাশে ঢোলভাঙ্গা নদীতে। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ

মেঘনার শাখা নদী তিতাস অববাহিকায় ঢোলভাঙ্গা নদী ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের প্রাণ। সামাজিক সম্পর্ক, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি, এমনকি শিল্পকারখানা বা পরিবহনের জন্যও এ নদীর গুরুত্ব ছিল অপরিহার্য। তবে নদীটি হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, দখল, দূষণ আর আবর্জনায় একসময়ের খরস্রোতা নদী  ঢোলভাঙ্গা এখন সরু বদ্ধ নালায় পরিণত হয়েছে। শুকনো মৌসুমে এ নদীর অধিকাংশ স্থানে কোনোরকমে নৌকা চলাচলের মতোও পানি থাকে না। কোথাও কোথাও একেবারেই শুকিয়ে যায়। ফলে একসময় এ নদী ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে ব্যবহার করা হলেও এখন তা একেবারেই বন্ধ। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা ও পৌর এলাকার প্রধান বাজারের সব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে ঢোলভাঙ্গা নদীতে। এতে দুর্গন্ধে নাকে রুমাল চেপে নদী এলাকা পার হতে হয়। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন হাট-বাজারের নোংরা ও দূষিত পানি নদীতে পড়ছে। তারা জানান, পৌর এলাকার প্রতাবগঞ্জ বাজারের মাংসপট্টি এবং মুরগি ও শাক-সবজির দোকান রয়েছে, যার বর্জ্য ফেলা হয় নদীতে।

পরিবেশ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা তরী বাংলাদেশ-এর মূখ্য সমন্বয়ক শামীম আহমেদের ভাষ্য, ‘ঢোলভাঙ্গা নদীটি বাঁচাতে হলে আগে দূষণ, দখল ও  আবর্জনা বন্ধ করতে হবে। এরপর ড্রেজিং করতে হবে। নইলে একদিন এই নদীর জন্য মানুষ আপসোস করবে।’

পৌর শহরের চক বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী মুরতুজ মিয়া বলেন, ‘আগে বাজারের ব্যবসায়ীরা নৌপথে নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী থেকে চাল, ডাল-আটা ময়দা, তেল-লবণ আনতেন। নদীর গতিপথ বন্ধ হওয়ায় সড়কপথে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচ হচ্ছে, যার চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। 

সম্প্রতি সরেজমিনে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ঢোলভাঙ্গা নদীতে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীর দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে মার্কেট ও বাড়ি। এ ছাড়া নদীর কাছাকাছি গড়ে ওঠা সব বাজার ও ভবনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীতে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ বলেন, ‘ঢোলভাঙ্গা নদী আগে খনন করা জরুরি। নদীর অনেক জায়গায় প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। নদীটি খননের জন্য আমরা লিখিত আবেদন জমা দেব।’

এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুরের বাসিন্দা ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব প্রকৌশলী  আল আমীন বলেন, ‘সম্প্রতি  তিতাস নদী ড্রেজিং করার সময় ঢোলভাঙ্গা নদী খনন করা যায় কিনা- সেই  চেষ্টা‌ করা হয়েছিল।‌ দুর্ভাগ্যের বিষয়, ততদিনে তিতাস নদী খননের সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদিত হয়ে যায়। ফলে তিতাস নদী খননের  কাজটির সঙ্গে ঢোলভাঙ্গা নদী খননের কাজটি আর এগিয়ে নিতে পারিনি।‌ 

বিআইডাব্লিউটিএ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান বলেন, স্থানীয় এলাকাবাসী ও ইউএনও নদীখননের চাহিদাপত্র দিলে বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঢোলভাঙ্গা নদীর ড্রেজিংয়ের বিষয়ে ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের  সঙ্গে কথা বলেছি। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী খননের তালিকায় এ নদীর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং খননের সুপারিশ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে  সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া দখল ও দূষণ প্রতিরোধে অভিযান চলমান থাকবে।’

মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পেলেন বীরাঙ্গনা ববিজান বেওয়া | কালের কণ্ঠ