• ই-পেপার

কুঠিবাড়ির চুরি যাওয়া তরবারি তিন বছরেও উদ্ধার হয়নি

ধানক্ষেতে মিলল নিখোঁজ নৈশপ্রহরীর মরদেহ

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
ধানক্ষেতে মিলল নিখোঁজ নৈশপ্রহরীর মরদেহ
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় একদিন আগে একটি স্কুলের নিখোঁজ নৈশপ্রহরী স্বপন বড়ুয়া নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড়ুয়াপাড়া এলাকায় একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত স্বপন বড়ুয়া (৫২) কদলপুর ইউনিয়নেরই বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় গৌরচন্দ্র যতীন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ছিলেন। 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে স্বপন বড়ুয়ার মুঠোফোনে একটি কল আসে। বাড়ির পাশের একটি দোকানে একজন তাঁকে ডাকছেন বলে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন। এ কথা বলে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে যান। কিন্তু রাতে আর বাড়িতে ফেরেননি। রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায় নি। সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ধানখেতে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। যে জায়গা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে সেখান থেকে তাঁর বাড়ি প্রায় ৩০০ মিটার দূরে। 

গৌরচন্দ্র যতীন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য শাসন রক্ষিত জানান, স্বপন বড়ুয়া আমাদের বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ছিলেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানাই।

পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তির শরীরের রক্তাক্ত জখম অন্য কারও আঘাত থেকে কিনা তা স্পষ্ট নয়। ঘটনাস্থলের পাশে একটি বিষের বোতল পাওয়া গেছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, বিষপানের পর ধানখেতে ছটফট করতে গিয়েও তিনি রক্তাক্ত হতে পারেন। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে একটি টিউবওয়েল রয়েছে। সেখানে লেগেও হয়তো আঘাত পেয়েছেন তিনি।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আদালতে হাজিরা দিতে এসে আসামির মৃত্যু

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
আদালতে হাজিরা দিতে এসে আসামির মৃত্যু
ছবি: কালের কণ্ঠ

পঞ্চগড় আদালতে হাজিরা দিতে এসে ময়নুল হক (৫৯) নামের এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে পঞ্চগড় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ ঘটনা ঘটে। 

মৃত ময়নুল হক জেলার আটোয়ারী উপজেলার বারো আউলিয়া এলাকার বাসিন্দা।

তার মামলার আইনজীবীর সহকারী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ময়নুল জমিসংক্রান্ত একটি মামলার হাজিরা দিতে আদালতে এসেছিলেন। কিন্তু বিচারপতি পরিদর্শনে আসায় আদালত বসেনি। পরে তিনি এজলাসের ভেতর কিছুক্ষণ বসেছিলেন। সেখানে একবার বমি করেন। পরে বাইরে এসে বেঞ্চে বসেন। তিনি স্বাভাবিকভাবে মাথায় হাত দিয়ে শুয়ে ছিলেন। দীর্ঘসময় তার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে কাছে গিয়ে দেখি মারা গেছেন ময়নুল? পরে বিষয়টি পুলিশ ও তার পরিবারকে জানানো হয়। 

চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দীপেন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, আমরা লাঞ্চে যাওয়ার সময় ময়নুলকে ডাকি। পরে লোকজন এসে কাছে গিয়ে দেখতে পান তিনি মারা গেছেন। 

মৃত ময়নুল হকের ভাতিজা ফয়সাল কবির বলেন, আমার চাচার কোনো অসুখ ছিল না। তিনি নিজে মোটরসাইকেল চালিয়ে আদালতে যান। হঠাৎ খবর পাই তিনি মারা গেছেন।

কোর্ট ইন্সপেক্টর খান মো. শাহরিয়ার বলেন, ময়নুল বেঞ্চে শুয়ে ছিলেন। অনেকক্ষণ তার কোনো সাড়া না পেয়ে আমরা তাকে হাসপাতালে পাঠাই। তবে অনেকেই বলছিলেন তিনি এখানেই মারা গেছেন। 

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুমন কুমার বণিক বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

কেরানীগঞ্জে ছিনতাইকারীদের হামলায় যুবকের মৃত্যু, মোটরসাইকেল ছিনতাই

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
কেরানীগঞ্জে ছিনতাইকারীদের হামলায় যুবকের মৃত্যু, মোটরসাইকেল ছিনতাই
প্রতীকী ছবি

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ছিনতাইকারীদের হামলায় তরিকুল ইসলাম পবন (২৭) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম।

তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তেঘরিয়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর বাজার ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত তরিকুল ইসলাম পবন ঢাকার শ্যামপুর থানার পোস্তগোলা কলিমুল্লাহ বাগ এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম মাসুদের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে পবন মোটরসাইকেলযোগে আব্দুল্লাহপুর বাজার ব্রিজ এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার মোটরসাইকেলের পেছনে এক নারী যাত্রী ছিলেন। তবে ওই নারীর পরিচয় জানা যায়নি।

পথে একদল ছিনতাইকারী মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পবনের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে সড়কে পড়ে যান। পরে দুর্বৃত্তরা তার মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পথচারীদের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় পবনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি সাইফুল আলম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বগুড়া

প্রশাসক পেল নবগঠিত সেই চার ইউনিয়ন পরিষদ

বগুড়া অফিস
প্রশাসক পেল নবগঠিত সেই চার ইউনিয়ন পরিষদ

বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলায় উপজেলায় নবগঠিত চার ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের কাছে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়া নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান এসব ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তাব পাঠান।

ইউএনও স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে বলা হয়, বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় নবগঠিত মীর বাড়ি, স্বর্ণগ্রাম, সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়ন গঠিত হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুয়ায়ী নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ওইসব  ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা প্রয়োজন।

এতে চারজন সরকারি কর্মকর্তার নাম প্রস্তাব করা হয়। তারা হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার মীরবাড়ি ইউনিয়নের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান, মোকামতলা উপজেলার স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়নের জন্য শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের জন্য শিবগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশল নাজমুল হোসাইন এবং দিগন্ত ইউনিয়ন পরিষদের জন্য শিবগঞ্জ উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আল মামুন।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গেজেট অনুযায়ী, ময়দানহাট্টা ইউনিয়ন ভেঙে স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। ১৭টি মৌজা নিয়ে গঠিত এ ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৮ হাজার ৯৩৪ জন। একইভাবে সৈয়দপুর ইউনিয়ন বিভক্ত করে গঠন করা হয়েছে সীমান্ত ইউনিয়ন। ১১টি মৌজা নিয়ে গঠিত এ ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৬ হাজার ২৬৭ জন। 

এছাড়া দেউলী ইউনিয়ন থেকে পৃথক করে দীগন্ত ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। আটটি মৌজা নিয়ে গঠিত এ ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৭ হাজার ৭৫৯ জন।

এর আগে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলের নামে দুই ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। পরে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেন, তিনি নিজের সন্তানদের নামে কোনো ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণ করেননি। এটি কাকতালীয় ঘটনা।

কুঠিবাড়ির চুরি যাওয়া তরবারি তিন বছরেও উদ্ধার হয়নি | কালের কণ্ঠ