• ই-পেপার

ময়নাতদন্ত শেষে বাড়িতে আনা হবে লাশ, আসরের পর জানাজা

লালপুর

বাঁশপণ্য টিকিয়ে রাখতে নারীর লড়াই

আব্দুল জব্বার সুজন, লালপুর (নাটোর)
বাঁশপণ্য টিকিয়ে রাখতে নারীর লড়াই
বাঁশ দিয়ে ঝুড়ি বুনছেন জেলেখা বাওয়া। সম্প্রতি নাটোরের লালপুর উপজেলার কারিগরপাড়া গ্রামে। ছবি: কালের কণ্ঠ

গ্রামের নাম কারিগরপাড়া। নাটোরের লালপুর উপজেলার এই গ্রামে একসময় প্রায় ৫০০ পরিবার বাঁশের পণ্য তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিল। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই ঝুড়ি তৈরির শব্দ শোনা যেত। এখন আর  সেই দিন নেই। 

প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতার কাছে হার মেনেছে বাঁশপণ্যের কারিগরদের অধিকাংশই। যে কয়জন টিকে রয়েছেন, জেলেখা বেওয়া তাদের একজন।  ৭০ বছর বয়সী এই নারীর দিন কাটছে দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করে। তবু আকড়ে ধরে রেখেছেন এই শিল্প। 

সম্প্রতি জেলেখার বাড়িতে তার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। জেলেখা জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে মারা যান তার স্বামী রিয়াজ উদ্দিন। এরপর দুই সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন নিঃস্ব জেলেখা। কোনো জমিজমা নেই, নেই স্থায়ী বসবাসের জায়গা। 

এ সময় জেলেখা পারিবারিক পেশা হিসেবে বাঁশের ঝুড়ি তৈরিকে বেছে নেন। হাতে তৈরি ঝুড়ি স্থানীয় হাটবাজারে বিক্রি করে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে তার সংসার। তবে সেই আয় এত সামান্য যে, তা দিয়ে ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করাও কঠিন।

তীব্র হতাশা নিয়ে জেলেখা বলেন, ‘সারাদিন বসে ঝুড়ি বানাই, কিন্তু বিক্রি কম। যা পাই, তা দিয়ে ঠিকমতো খেতেও পারি না।’ 

স্থানীয় সূত্র জানায়, কারিগরপাড়া গ্রামে একসময় প্রায় ৫০০ পরিবার বাঁশের ঝুড়ি তৈরির পেশায় যুক্ত ছিল। কিন্তু প্লাস্টিক পণ্যে সহজলভ্যতায় বাঁশ পণ্যের চাহিদা দিন দিন কমছে। তাই ৫০০ পরিবার থেকে কমতে কমতে এখন এই পেশায় কোনোরকম টিকে রয়েছে মাত্র ২০টি পরিবার। 

গ্রামের কারিগর মানিকের ভাষ্য, ‘এই ঝুড়ি শুধু আমাদের রুজি-রুটি না, এটা আমাদের পূর্বপুরুষের পরিচয়। কিন্তু এখন কাজ কমে গেছে, টিকে থাকা কঠিন।’ একই সুরে কথা বলেন আরো দুই কারিগর সেন্টু ও রন্টু। তারা বলেন, ‘আগের মতো এখন আর চাহিদা নেই। ফলে আয় কমে গেছে; অনেকে পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে।’

স্থানীয় কৃষক আব্দুর রশিদ মাস্টার বলেন, ‘বাঁশের ঝুড়িতে ফল ভালো থাকে, বাতাস চলাচল করে বলে ফল নষ্ট হয় না। কিন্তু এখন অনেকেই প্লাস্টিক ব্যবহার করছে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।’ 

তবে প্রতিবছর গ্রীষ্ম মৌসুমে এই শিল্পে কিছুটা প্রাণ ফিরে আসে বলে জানান ফল ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, আম ও লিচুর মৌসুমে বাঁশের ঝুড়ির চাহিদা বাড়ে। কৃষকেরা গাছ থেকে সংগ্রহ করা ফল ঝুড়িতে করে বাজারে নিয়ে যান। 

বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান ড. ফয়েজ  উদ্দিন মিয়া বলেন, বাঁশের ঝুড়ি শুধু একটি পণ্য নয়, এটি গ্রামবাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এর ব্যবহার বাড়ানো সময়ের দাবি। প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশ রক্ষায় বাঁশের মতো প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।

লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, ‘বাঁশের তৈরি ঝুড়ি পরিবেশবান্ধব এবং ফল সংরক্ষণে অত্যন্ত কার্যকর। এটি ফল সতেজ রাখে এবং পরিবহনের সময় ক্ষতি কমায়। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন সরকারি সহায়তা ও মানুষের  সচেতনতা।’

উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মৃদুল রায় বলেন, ‘কারিগরদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ এবং বাজারজাত করার  সুযোগ বাড়ানো গেলে এই শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে এই পেশায় আগ্রহী করে তুলতে হবে।’

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস

শিশুশ্রমকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
শিশুশ্রমকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন
সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর আয়োজনে মানববন্ধন থেকে শিশুশ্রমকে লাল কার্ড দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। 

সোমবার (১৫ জুন) ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে বর্জ্য খাতে শিশুশ্রম নির্মূলে ১২ দফা দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এ কর্মসূচিতে সহায়তা করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল, ‘শিশুশ্রমকে লাল কার্ড দেখাই : শিশুর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করি, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান গড়ি।’

মানববন্ধনে সনাকের পক্ষ থেকে সুপারিশে বলা হয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রমের ঘটনা জানাতে পৃথক হটলাইন চালু করতে হবে। পাশাপাশি ডাম্পিং সাইট, ল্যান্ডফিল ও সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলোতে বিশেষায়িত শিশুশ্রম পর্যবেক্ষণ ইউনিট গঠন করে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

মানববন্ধনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি জয়দুল হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক মো. মেহেদী হাসান এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সনাক সদস্য মো. আরজু মিয়া।

বাঞ্ছারামপুরে দেড় হাজার বৃক্ষ বিতরণ

আজকের একটি গাছ, আগামীকাল আপনার শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
আজকের একটি গাছ, আগামীকাল আপনার শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস
ছবি : কালের কণ্ঠ

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং সবুজ ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। “Plant a tree today, let a child breathe tomorrow” (আজকের একটি গাছ, আগামীকাল আপনার শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস)—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তারিকুল ইসলাম। যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসের খান (অপু)-এর অর্থায়নে উপজেলার ১৩৯ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানদের কাছে ফলদ, বনজ এবং ওষুধি—এই তিন জাতীয় দেড় হাজার চারাগাছ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আজিজ। এ ছাড়া গাছের উপকারিতা তুলে ধরে বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল আহমেদ এবং চরলহনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মমিনুল ইসলাম।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আজিজ তাঁর বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘প্রতিটি বিদ্যালয়ে যে ১০টি করে চারাগাছ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সঠিক যত্ন নিতে হবে। শুধু গাছ রোপণ করলেই হবে না, নিয়মিত সার-পানি দেওয়া এবং গাছগুলো রক্ষায় উপযুক্ত বেড়ার ব্যবস্থা করতে হবে, যেন আগামী ছয় মাস বা এক বছর পর গাছগুলো সঠিকভাবে বেড়ে ওঠে।

পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক  কামাল উদ্দিন ব্যারিস্টার নাসের খান অপুর এই মহতি ও জনস্বার্থমূলক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘তিনি একজন প্রকৃত শিক্ষানুরাগী মানুষ। বাঞ্ছারামপুরের শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে তার এই অবদান প্রশংসনীয় এবং এর মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষা আঙিনায় তার স্মৃতি অম্লান হয়ে থাকবে।’

অনুষ্ঠানে চারাগাছ সংগ্রহ, পরিবহন ও সুশৃংখলভাবে বিতরণের পেছনে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সহকারী শিক্ষক মো. মমিনুল ইসলাম।

উক্ত কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন উজানচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোহাম্মদ আলী পলাশ, হোগলাকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শাহজালাল টিপু, আছমা জাহান শম্পা, আছাদনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইরফান মিয়া, বকুল আহমেদ, ঝুটন সরকার, দরিয়াদৌলতের আহাদ খান, আব্দুল্লা আল মামুন, মাখন মিয়া, মোজাফফর রহমান, সৈয়দ ওসমান গনি, সামছুল আলম এবং স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ। পরিশেষে, বাঞ্ছারামপুরের শিক্ষা ও পরিবেশের সামগ্রিক কল্যাণে ব্যারিস্টার অপুসহ সংশ্লিষ্ট সকলের এই ধরনের নিঃস্বার্থ ও জনকল্যাণমুখী কাজ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

ঈশ্বরগঞ্জে বিপুল বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ঈশ্বরগঞ্জে বিপুল বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের বসুন্ধরা রোডের একটি বাসায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য ও নকল কসমেটিকসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ওই বাসায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমান।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের বসুন্ধরা রোডের একটি বাসায় রাজু আহমেদ (৩৩) নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিস্ফোরক দ্রব্য (আতশবাজি) ও নকল কসমেটিক সামগ্রীর ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। গোয়েন্দা তথ্য প্রাপ্তি সাপেক্ষে অভিযান চালিয়ে বাসাটি থেকে দুই কার্টন বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিপুল পরিমাণ নকল কসমেটিকস উদ্ধার করা হয় এবং সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৫৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিস্ফোরক দ্রব্য মজুদ ও বিক্রি এবং নকল কসমেটিকস পণ্য সামগ্রী দিয়ে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে রাজু আহমেদকে এ অর্থদন্ড দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভোক্তা অধিকার আইনে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযান পরিচালনাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেন ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস, থানা-পুলিশের একটি দল ও আনসার সদস্যরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অফিসার রাম প্রসাদ পাল,উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক বেদেনা আক্তার প্রমুখ।

ময়নাতদন্ত শেষে বাড়িতে আনা হবে লাশ, আসরের পর জানাজা | কালের কণ্ঠ