kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী সিরাজের জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া   

২৫ জুন, ২০১৯ ০৮:৫৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী সিরাজের জয়

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ নির্বাচিত হয়েছেন। বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে স্থাপিত নির্বাচন কমিশনের কন্ট্রোল রুম থেকে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। 

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৭৪২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী টি জামান নিকেতা নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩২ হাজার ২৯৭ ভোট। এ ছাড়া জাপা প্রার্থী নুরুল ইসলাম ওমর লাঙল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন সাত হাজার ২৭১ ভোট। নির্বাচনে এক লাখ ৩৩ হাজার ৮৭০ ভোট পড়েছে, যা মোট ভোটের ৩৪.৫৫ শতাংশ। 

অন্যদিকে, বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল যথেষ্ট কম। শহরের বাইরের কেন্দ্রগুলোতে সকালের দিকে কিছুটা উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেলেও দুপুরের পর ফাঁকা হয়ে যায়। ভোটাররা বলছে, ইভিএম নিয়ে সংশয়ের কারণে অনেকে ভোটকেন্দ্রে আসেনি। দুপুর ২টা পর্যন্ত সদর উপজেলার কেন্দ্রগুলোর গড় ভোট ২০ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে ছিল।

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহাজোট সমর্থিত জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমরকে প্রায় দেড় লাখ ভোটে পরাজিত করে বিজয়ী হন। শপথ না নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এবার এ আসনে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৮৭ হাজার ৪৫৮। ১৪১টি কেন্দ্রে ৯৬৫টি কক্ষে ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে) ভোটগ্রহণ করা হয়।

গতকাল সোমবারের নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ছাড়াও সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সকাল ১১টা পর্যন্ত  প্রথম দুই ঘণ্টায় শহর ও শহরের বাইরে বেশির ভাগ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। কোনো কোনো কেন্দ্রের বুথে প্রথম এক ঘণ্টায় ভোট পড়েছে দুই থেকে তিনটি। উপস্থিতি কম হলেও ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট প্রার্থীরা।

সকাল ১০টায় পিটিআই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী টি জামান নিকেতা বলেন, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইভিএমে ভোট দিতে পেরে খুশি ভোটাররা। বিএনপি শপথ না নেওয়ায় এই নির্বাচন হচ্ছে। এ কারণে ভোটে মানুষের আগ্রহ কম। একইভাবে নিজের সন্তুষ্টি জানিয়ে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জি এম সিরাজ বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ হচ্ছে।

ইভিএমে ভোট দেওয়ার পর শহরের রহমাননগর এলাকার ভোটার আব্দুল মালেক চৌধুরী বলেন, ইভিএম নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল। তবে ভোট দেওয়ার পর নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা হলো।

সদর উপজেলার বুজর্গধামা ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা দুই হাজার ৮১১। শুরুর পর দেড় ঘণ্টায় এখানে ভোট পড়ে ১৫০টি।

শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় বগুড়া জিলা স্কুল কেন্দ্রে প্রথম এক ঘণ্টায় ভোট পড়ে মাত্র ২০টি। প্রিসাইডিং অফিসার আবুল হোসেন বলেন, এই কেন্দ্রে মোট ভোটার এক হাজার ৯৭৭ জন। বেলা দেড়টায় পুনরায় ওই কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভোট পড়েছে ৩৫৫টি।

বগুড়া সেন্ট্রাল উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, তিন হাজার ৯৬৬ ভোটারের মধ্যে সকাল ১১টা পর্যন্ত ১৯০ জন ভোট দিয়েছে।

এই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা ভোটার হালিম ও আবুল মিয়া জানান, ইভিএমে ভোটগ্রহণ হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হলেও পদ্ধতিটি তাদের ভালো লেগেছে। তবে এ ব্যাপারে না জানার কারণে অনেকে ভোটকেন্দ্রে আসেনি।

১৯৭৯ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত এ আসনটি একচ্ছত্র দখলে ছিল বিএনপির। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর এ আসনে সংসদ সদস্য হন। এবার আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেওয়ার কারণে জাতীয় পার্টি আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়।

বগুড়া-৬ শূন্য আসনের নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার এস এম জাকির হোসেন বলেন, নির্বাচন চলাকালে কোথাও কোনো অরাজকতার খবর পাওয়া যায়নি। কোনো প্রার্থীও কোনো অভিযোগ করেননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা