• ই-পেপার

পাকুন্দিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা বজলুল করিমের ইন্তেকাল

বদলি আদেশের পরও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না ইউএনও খসরুর

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
বদলি আদেশের পরও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না ইউএনও খসরুর
সংগৃহীত ছবি

বদলি আদেশের পরও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরুর। এবার তার বিরুদ্ধে গ্রাম পুলিশের চাকরি দেওয়ার নাম করে অসহায় নারীর কাছে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

রেহেনা বেগম উর্মি নামে তেঁতুলিয়ার ওই নারী তার ছেলের চাকরি জন্য ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরুকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। ইউএনওর কাছে চাকরি বা টাকা ফেরত চাওয়ার এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই নারী লাইভে এসে ইউএনওর কাছে টাকা ফেরত চান। এ বিষয়ে গত সোমবার জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আফরোজ শাহীন খসরু। 

অভিযোগ থেকে জানা যায়, তেঁতুলিয়া উপজেলার মাগুরা এলাকার বাসিন্দা রেহেনা বেগম উর্মি তার ছেলের কর্মসংস্থানের জন্য তেঁতুলিয়ার ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরুর কাছে গেলে তিনি তাকে গ্রাম পুলিশের চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে চাকরি দিতে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন তিনি। ছেলের কর্মসংস্থানের আশায় ধারদেনা করে ওই নারী গত বছরের ডিসেম্বরে প্রথম দফায় ইউএনওকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন। চাকরির পর বাকি টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল তার। কিন্তু টাকা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে চাকরি দিতে তিনি গড়িমসি করেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।

এরই মধ্যে গত ২৪ জুন ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরুকে তেঁতুলিয়া থেকে তারাগঞ্জ উপজেলায় বদলি করে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়। এতে ওই নারী আরও চিন্তিত হয়ে পড়েন। সোমবার দুপুরে তিনি উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন। লাইভে থাকা অবস্থায় তাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে টাকা চাইতে দেখা যায়। তাকে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শোনা যায় ‘আপনি আমাকে জেলে দেন, ফাঁসি দেন কিন্তু আমার টাকাটা ফেরত দেন, আমির গরিব মানুষ। আমি টাকার চিন্তায় ঘুমাতে পারি না। আপনি হয় চাকরি দেন না হয় টাকা ফেরত দেন।’ এ সময় উপজেলা প্রশাসনের লোকজন তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

ভুক্তভোগী রেহেনা বেগম বলেন, অভিযোগ করায় আমাকে মোবাইল কোর্টে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও আফরোজ শাহিন খসরু বলেন, আমি ওই নারীকে চিনি না। তার সঙ্গে কোনো দিন দেখা হয়নি। এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। যে নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে সেটি বাতিল হয়েছে। সেখানে তার ছেলের নামে কোনো আবেদনও নেই।

এর আগে তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম ওই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকল্পপ্রতি ১৫ শতাংশ ঘুষ নেওয়াসহ অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন।

এদিকে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে উপজেলার প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা উপজেলা পরিষদের সামনে ইউএনওর পক্ষে মানববন্ধনে অংশ নেন।

নেত্রকোনা

ধলাই নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ শিশু, ২০ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
ধলাই নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ শিশু, ২০ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোনার পূর্বধলায় ধলাই নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে হোসাইন (১০) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের কালডোয়ার দক্ষিণপাড়া গ্রামের রুক্কু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে হোসাইন (১০), সাইমন (৬) ও আরিয়ান (১০) খেলার ছলে কালডোয়ার পশ্চিমপাড়া এলাকার ধলাই নদীতে গোসল করতে যায়। সাঁতার না জানায় একপর্যায়ে তিনজনই পানিতে তলিয়ে যায়। পরে সাইমনের বড় বোন আখি (১৪) ভাইকে খুঁজতে এসে নদীতে ভাসতে দেখে পানিতে নেমে সাইমন ও আরিয়ানকে উদ্ধার করে। তবে হোসাইন নিখোঁজ থাকে। খবর পেয়ে পূর্বধলা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এবং ময়মনসিংহ থেকে আসা ডুবুরি দল বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালায়। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান করেও হোসাইনের সন্ধান না পাওয়ায় সন্ধ্যায় অভিযান স্থগিত করা হয়। 

মঙ্গলবার পুনরায় সকালে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্বজনেরা নদীতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নদীতে ভাসমান অবস্থায় হোসাইনের মরদেহ দেখতে পান তার বাবা রুক্কু মিয়া। পরে তিনি মরদেহটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

পূর্বধলা থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে শিশুটির মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অপরাধে যুবকের যাবজ্জীবন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ে বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অপরাধে যুবকের যাবজ্জীবন
সংগৃহীত ছবি

ঠাকুরগাঁওয়ে বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় প্রধান আসামি মো. আব্দুল মমিন নামের যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

রায়ে অর্থদণ্ডের পুরো টাকা ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। প্রয়োজনে দণ্ডিতের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিত মো. আব্দুল মমিন রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ী (বগুড়াপাড়া) গ্রামের মৃত জালাল বৈরাগী ওরফে প্রামাণিকের ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ভুক্তভোগী ১৪ বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে নিজ বাড়িতে রেখে তার মা পাশের বাড়িতে যান। রাত ৯টার দিকে ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, প্রতিবেশী আব্দুল মমিন শিশুটিকে ধর্ষণ করছে। এ সময় তিনি বাধা দিতে গেলে অভিযুক্ত তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বিচার চাওয়া হলেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার রাণীশংকৈল থানায় মামলা করে।

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রমে সাক্ষীদের সাক্ষ্য, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় মো. আব্দুল মমিনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায়ে আদালত আরো উল্লেখ করেন, অর্থদণ্ডের পুরো অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। দণ্ডিতের বিদ্যমান সম্পদ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকেও তা আদায় করা যাবে। এক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের দাবিই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৬ ধারা অনুযায়ী জেলা প্রশাসককে দণ্ডিতের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই মামলার অপর আসামি মো. এরশাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. এনতাজুল হক বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
 

সাভারে হেরোইনসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
সাভারে হেরোইনসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

সাভারে পৃথক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পেশাদার দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় তাদের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম।

এর আগে সোমবার (২৯ জুন) রাতে সাভারের সিএন্ডবি মোড় এবং নবীনগর সেনা শপিং সেন্টারের পশ্চিম পাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

গ্রেপ্তাররা হলেন- টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি থানার শিহরাইল গ্রামের মো. দুলালের ছেলে আনোয়ার হোসেন ওরফে রাসেল মন্ডল (৪২) এবং মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার হাঠাইল মধুপুর গ্রামের মৃত হরমত মেকারের ছেলে উজ্জল (৫০)।

ডিবি পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভিনের নির্দেশনায়‌ এবং ঢাকা জেলার ডিবির (উত্তর) পরিদর্শক সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে সাভারের সিএন্ডবি মোড় এবং নবীনগর সেনা শপিং সেন্টারের পশ্চিম পাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে পেশাদার দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে।

ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তাররা পেশাদার মাদক কারবারি। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মাদক উদ্ধারের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মাদক নির্মূলে ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

পাকুন্দিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা বজলুল করিমের ইন্তেকাল | কালের কণ্ঠ