• ই-পেপার

আদালতের নিষোধাজ্ঞা অমান্য

রামগঞ্জে ব্যবসায়ীর জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ

কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় যুবদল নেতার ক্ষোভ প্রকাশ

মো. নুরে আলম
কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় যুবদল নেতার ক্ষোভ প্রকাশ
সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সাবেক জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সুমন চৌধুরী। দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকা সত্ত্বেও কমিটিতে তাকে রাখা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। 

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অবদানের কথা তুলে ধরে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে বিচার চান তিনি।

ওই ভিডিওতে সুমন চৌধুরী দাবি করেন, তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে হরতাল, অবরোধসহ দলের প্রতিটি কঠিন কর্মসূচিতে অগ্রভাগে ছিলেন তিনি। এমনকি পুলিশের ভয়ে নিজ বাড়িতে ঘুমানোর সুযোগ না থাকায় দিনের পর দিন মানবেতর জীবনযাপন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন সুমন।

সুমন বলেন, ‘আমি দলের জন্য ঘাম ঝরিয়েছি, রাজপথে গুলি খেয়েছি। আমার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দলের প্রতি আমার নিবেদনের কথা বাবা জানতেন। আমাকে কমিটিতে মূল্যায়ন না করায় তিনি চরম মানসিক কষ্ট পেয়েছিলেন, যা তার স্ট্রোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমার বাবা আজ বেঁচে নেই, কিন্তু আমার ওপর অবিচার করা হয়েছে।’

কমিটি থেকে বাদ পড়ার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণ করা হোক। যদি প্রমাণ করতে পারেন তাহলে আমি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। কিন্তু আমাকে কেন বাদ দেওয়া হলো, সেটি জানতে চাই।’

সুমন জানান, জেলা যুবদলের বর্তমান সভাপতি হুমায়ূন কবিরসহ স্থানীয় নেতাদের আহ্বানে তিনি সবসময় রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।

এ বিষয়ে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এ ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে পদবঞ্চিত হওয়ার পর থেকে জেলা যুবদলের তৃণমূল পর্যায়ে এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সোনারগাঁয়ে মেঘনায় গোসল করতে নেমে দুই স্কুলছাত্রের মৃত্যু

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ:
সোনারগাঁয়ে মেঘনায় গোসল করতে নেমে দুই স্কুলছাত্রের মৃত্যু
ছবি: কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বন্ধুদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া রাজধানীর দুই স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে নিখোঁজের প্রায় চার ঘণ্টা পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন রাজধানীর কদমতলী থানার শনিরআখড়া এলাকার রাজু মিয়ার ছেলে মেরাজ হোসেন (১৫) এবং ধনিয়া এলাকার ফারুক ভূঁইয়ার ছেলে কায়েস ভূঁইয়া (১৩)। মেরাজ বর্ণমালা স্কুলের দশম শ্রেণির এবং কায়েস একে স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

সহপাঠীরা জানায়, বুধবার দুপুরে স্কুল ফাঁকি দিয়ে সাত বন্ধু সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদীতে ঘুরতে আসে। পরে তারা নদীতে গোসল করতে নামে। এ সময় কয়েকজন পানিতে বিপদে পড়লে তাদের উদ্ধার করা হলেও মেরাজ ও কায়েস নদীর তীব্র স্রোতে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বিকেলে প্রথমে মেরাজ এবং পরে কায়েসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্বজনরা জানান, পরিবারের কাউকে না জানিয়েই তারা বন্ধুদের সঙ্গে নদীতে বেড়াতে এসেছিল। তাদের কেউই সাঁতার জানত না। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের জোন-২ এর উপ-পরিচালক মো. ওসমান গনি বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডুবুরি দল উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টার পর দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহাবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিএনপি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

বগুড়া অফিস
বিএনপি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
ছবি: কালের কণ্ঠ

বিএনপি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ। পর্যায়ক্রমে এদেশের প্রতিটি পরিবার এই কার্ডের আওতায় আসবে। 

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আলিয়ারহাট রোকেয়া সাত্তার স্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভোটের আগে মানুষের মনে সন্দেহ ছিল যে এই সরকার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু মানুষের সেই সন্দেহ দূর করে তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

মীর শাহে আলম বলেন, বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ২০টি স্থানে একযোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বগুড়ার শিবগঞ্জে ৪২৮টি পরিবারের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হলো। এ সময় কার্ডের সঙ্গে একটি চারাগাছ বিতরণ করা হয়।

বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, বিভাগীয় সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক সৈয়দ মুক্তার হাসান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার শিবগঞ্জ সার্কেল রবিউল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আব্দুল মোমিন, ওসি শাহীনুজ্জামান শাহীন, উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল হান্নান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপি সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব, বিএনপি নেতা বুলবুল ইসলাম, আব্দুল করিম, মীর আবু জাকের মাকু, যুবদল সভাপতি খালিদ হাসান আরমান প্রমুখ।

ড. খন্দকার মারুফ

বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সবাই নিরাপদে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারে

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সবাই নিরাপদে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারে
সংগৃহীত ছবি

বিএনপি যখনই ক্ষমতায় থাকে সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় ও সংস্কৃতির অনুষ্ঠান নিরাপদে পালন করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।

বুধবার (১৭ জুন) কুমিল্লার লুটেরচর ইউনিয়নের কান্দারগাঁও নূরানী তালিমুল কুরআন দাখিল ও হিফজ মাদরাসা চত্বরে ২০২৬ সালের কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে এসব বলেন তিনি।

ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, বিএনপি যখনই ক্ষমতায় থাকে, সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় ও সংস্কৃতির আচার অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে নিরাপদে পালন করতে পারে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ধর্মীয় নেতা এবং প্রখ্যাত আলেম-ওলামাদের আয়নাঘরে বন্দি রেখে অমানুষিক নির্যাতন করেছে, মিথ্যা মামলায় তাদের কারান্তরীণ রেখেছে। পবিত্র কুরআন তাফসির মাহফিল অনুষ্ঠান করতে দেয়নি। তারা সব ক্ষেত্রে এক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দেশকে বসবাসের অযোগ্য বানিয়েছে।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বলেন, দেশের অগ্রগতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি খুবই অপরিহার্য। জাতীয় স্বার্থরক্ষায় বিএনপি সরকার সর্বদাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব ধর্মের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও শ্রদ্ধাশীল। আর্থিক সচ্ছলতার জন্য তিনি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং ভিন্ন ধর্মের পুরোহিত বা নেতাদের জন্য মাসিক সম্মানির ব্যবস্থা করেছেন। দেশের মসজিদ, মাদ্রাসা এবং মন্দির, গির্জা নির্মাণ ও উন্নয়নে প্রচুর অনুদান বরাদ্দ দিচ্ছেন। চলতি বাজেটে ধর্মীয় এসব খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, তারেক রহমান স্বল্প সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রের প্রচুর জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের  হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে সরকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসাবে বিশ্বে শির উঁচু করে দাঁড়াবে, ইনশাআল্লাহ।

অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও বৃত্তি তুলে দেন এবং নৈতিক শিক্ষা ও মেধা বিকাশে অধিক মনোযোগী হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি নেতা অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা ড. মো. হুমায়ুন কবির, মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজউদ্দিন লন্ডনী, সদস্যসচিব এম এম মিজানুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সালাউদ্দিন সরকার, মাদরাসা কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল হক বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

রামগঞ্জে ব্যবসায়ীর জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ | কালের কণ্ঠ