• ই-পেপার

বরিশালে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনে দুই ড্রেজার মালিককে জরিমানা

খালি ঘরে ঝুলছিল ১৬ বছরের কিশোরের মরদেহ

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)  প্রতিনিধি
খালি ঘরে ঝুলছিল ১৬ বছরের কিশোরের মরদেহ
স্বজনদের আহাজারি

মায়ের করা মামলায় বাবা কারাগারে, মা অবস্থান করছিলেন নানা বাড়িতে। আর একাই বসতঘরে থাকত ১৬ বছরের কিশোর তুহিন হাওলাদার। সোমবার (৮ জুন) দুপুরে সেই ঘর থেকেই তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের পুরাতন বাজার সংলগ্ন এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তুহিনের বাবা মনির হাওলাদার ও মা শেফালী বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ২০২৫ সালের শেষ দিকে শেফালী বেগম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে মনির হাওলাদারকে কারাগারে যেতে হয়। ওই মামলায় তিনি এর আগে প্রায় দেড় মাস কারাভোগ করেন। সর্বশেষ কোরবানির ঈদের এক সপ্তাহ আগে আবারও কারাগারে যান। বর্তমানে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।

অন্যদিকে তুহিনের মা দক্ষিণ চরমোন্তাজে তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ফলে তুহিন বাড়িতে একাই থাকত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পরিবারটির তিন সন্তানের মধ্যে তুহিন ছিল বড়। তার দুই ছোট বোনও মায়ের সঙ্গে নানা বাড়িতে ছিল।

প্রতিবেশীরা জানান, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়। পরে খোঁজ নিতে গিয়ে ঘরের ভেতরে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় তুহিনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে কেউ দরজা খোলা দেখেছেন, আবার কেউ বলছেন দরজা বন্ধ ছিল।

তুহিনের মা শেফালী বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে আমাকে কিছুই বলেনি। তার সঙ্গে কোনো কথাও হয়নি। মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। আমার মেয়ে আমাকে বলছিল, ভাইয়ের মোবাইল বন্ধ।’ তিনি আরো বলেন, ‘কে জানি তার গাড়ি আটকেছিল। এর সপ্তাহখানেক আগে বাজারের এক ঘরে রাতে ঢুকেছিল। মেম্বারে (ইউপি সদস্য) সালিসিও করছে।’

তবে কিশোরটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। চরমোন্তাজ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বেলাল হোসেন বলেন, ‘সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তুহিনের  বাবা ও মায়ের মধ্যে সম্পর্ক ভালো ছিল না। মায়ের মামলায় বাবা কারাগারে আছে।’

হিলিতে ১৪ বছর পালিয়ে থেকেও রক্ষা হলো না সাজাপ্রাপ্ত আসামির

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
হিলিতে ১৪ বছর পালিয়ে থেকেও রক্ষা হলো না সাজাপ্রাপ্ত আসামির

দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দীর্ঘ ১৪ বছর পলাতক থাকার পরও পুলিশের হাত থেকে রক্ষা হলো না যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মাদক মামলার আসামি মো. জামাল হোসেনের (৬০) পরে সুকৌশলে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
 
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হাকিমপুর পৌর শহরের মধ্য বাসুদেবপুর এলাকার মৃত রফিক হোসেনের ছেলে। সোমবার (৮ জুন) দুপুরে হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, ২০১১ সালের ২০ নভেম্বর জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে হাকিমপুর থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়। আদালতে বিচারকার্য শেষে আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এরপর থেকেই তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।

হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. জাকির হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জামাল হোসেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল এলাকায় তার বোনের বাড়িতে আত্মগোপনে আছেন। পরবর্তীতে পুলিশি সুকৌশলে তাকে হাকিমপুর পৌর শহরের মধ্যে বাসুদেবপুর (চুড়িপট্টি) এলাকায় এনে গ্রেপ্তার করা হয়। 

তিনি আরো জানান, পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদক মামলায় থানার আলিহাট ইউনিয়নের আলিহাট গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে নাঈম হাসান (২৫) এবং পৌর শহরের ধরন্দা (ফকিরপাড়া) মৃত আফজাল হোসেনের ছেলে আল আমিন ওরফে কালুকে (২৪) গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিসহ তিনজনকে দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

চন্দনাইশে হত্যা মামলার এজহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চন্দনাইশে হত্যা মামলার এজহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মো. সেকান্দার ইসলাম প্রকাশ রাশেদ নামে এক এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) ভোরে উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চাগাচর চৌকিদার পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে চন্দনাইশ থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত রাশেদ চন্দনাইশ থানার মামলা নং-০৪(১০)১৯, জিআর-২২৩/১৯-এর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ৩৬(১) এর ১০(ক) ধারার এজাহারভুক্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে এলাকায় চুরি, মাদকসেবনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া উপজেলার দোহাজারী নাথপাড়ার আলোচিত ফুলতলা এলাকার ব্যবসায়ী স্বপন হত্যা মামলার প্রধান আসামি।

চন্দনাইশ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেছেন আসামিকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

এবার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক এমপি শাহে আলম

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
এবার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক এমপি শাহে আলম
বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ শাহে আলমকে এবার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৮ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালত এ আদেশ দেন। এদিন কারাগার থেকে শাহে আলমকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গুলশানের শাহজাদপুর এলাকায় আন্দোলন চলাকালে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। কনফিডেন্স টাওয়ারের সামনে সংঘটিত ওই ঘটনায় ভ্যানচালক জব্বার আলী হাওলাদার গুলিবিদ্ধ হন। পরে ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর জব্বার আলী হাওলাদার বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১০৯ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় এজাহারে নাম না থাকলেও অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে সাবেক এমপি শাহে আলমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। 

২০২৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাবেক এমপি শাহে আলমকে গুলশানে মারধরের পর থানায় সোপর্দ করে বিক্ষুব্ধরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর গুলশান ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান হত্যা মামলায় এজাহারে নাম না থাকলেও অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরের দিন ১৫ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে তোলা হলে তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়, সাবেক চিফ হুইপ নুরে আলম চৌধুরী লিটন, সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান, সাবেক বিদুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ।

এর আগে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সাবেক এমপি শাহে আলমের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, হামলা, মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বরিশালের আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়। মামলাটিতে তার তিন ভাইসহ মোট ১৪ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অবৈধ সম্পদ অজর্নের অভিযোগে সাবেক এমপি শাহে আলমের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বরিশালে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনে দুই ড্রেজার মালিককে জরিমানা | কালের কণ্ঠ