দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক পূবালী ব্যাংক পিএলসির ৪৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পূবালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান মনজুরুর রহমান। বার্ষিক সাধারণ সভায় পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকবৃন্দ- হাবিবুর রহমান, রুমানা শরীফ, আজিজুর রহমান, মো. আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল, রানা লায়লা হাফিজ, মুস্তফা আহমদ, আরিফ আহমেদ চৌধুরী, ড. শাহিনুজ্জামান ইয়াকুব, কবির আহমেদ ও স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মদ নওশাদ আলী চৌধুরী এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শেয়াররহোল্ডারগণ ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
এসময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ আলী, সিএফও ও মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ লিটন মিয়া এফসিএ এবং কোম্পানী সচিব ও মহাব্যবস্থাপক মো. আনিসুর রহমান ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন।
৪৩তম বার্ষিক সাধারণ সভায় পূবালী ব্যাংক পিএলসির সম্মানিত শেয়ারহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের জন্য ১০% ক্যাশ ডিভিডেন্ড ও ২০% স্টক ডিভিডেন্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।
বার্ষিক সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডারবৃন্দ ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে তাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং এই মাইলফলক অর্জনে অক্লান্ত অবদান রাখায় পূবালী ব্যাংকের নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান।
সভায় শেয়ারহোল্ডারবৃন্দের উদ্দেশ্যে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মনজুরুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও পূবালী ব্যাংক ২০২৫ সালে সুশাসন, বিচক্ষণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং শক্তিশালী মূলধন ভিত্তির মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল ও আস্থাশীল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে। শেয়ারহোল্ডারদের জন্য পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশকৃত ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার প্রতি পরিচালনা পর্ষদের আস্থার প্রতিফলন। প্রযুক্তিনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টি এবং সকল অংশীজনের স্বার্থ সংরক্ষণে পূবালী ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আলী তাঁর বক্তব্যে বলেন, চ্যালেঞ্জপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিবেশেও ২০২৫ সালে পূবালী ব্যাংক শক্তিশালী আর্থিক প্রবৃদ্ধি, সুদৃঢ় সম্পদমান এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ব্যাংকের মোট সম্পদ ১,১৮,০১৩ কোটি টাকা, আমানত ৮৯,৫১৯ কোটি টাকা এবং নিট মুনাফা ১,০৭৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে মাত্র ২.২০ শতাংশ ঘচখ অনুপাত বজায় রেখে পূবালী ব্যাংক একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও সুশাসনভিত্তিক ব্যাংকিং কাঠামো নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘ডিজিটাল রূপান্তরের ধারাবাহিকতায় পূবালী ব্যাংকের চও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় ব্যবহারকারী সংখ্যা ৫.২৮ লক্ষ্যে পৌঁছেছে এবং এর মাধ্যমে ১.৮৬ কোটি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা কিউওয়ার্ড, পিইও নেটওয়ার্কস, সেলফ সার্ভিস ব্যাংকিং এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ শাখা ও উপ-শাখা নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে পূবালী ব্যাংক দেশের অন্যতম শক্তিশালী ‘Phygital Banking Ecosystems’ গড়ে তুলছে, যেখানে গ্রাহকরা নিরাপদ, সহজ ও সুবিধাজনক উপায়ে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।’
ব্যবস্থাপনা পরিচালক উল্লেখ করেন, প্রযুক্তিনির্ভর, নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দায়িত্বশীল ব্যাংকিংই ভবিষ্যতের পথ। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে পূবালী ব্যাংক গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও বৃহত্তর অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উদ্ভাবন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে ব্যাংকটি একটি শক্তিশালী ও টেকসই ব্যাংকিং ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।
সবশেষে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মহোদয় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।




