রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চলছে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শিক্ষামেলা-২০২৬। গতকাল শুক্রবার মেলার দ্বিতীয় দিনে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেতে সেখানে যান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
আয়োজকরা জানান, গতকাল সারা দিন প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মেলায় এসেছেন। তাঁরা সরাসরি দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিন দিনব্যাপী এ মেলা শেষ হবে আজ রাত ৮টায়।
গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এ মেলায় ৩৫টি স্টলে ৪৫টিরও বেশি দেশের দুই হাজার ৫০০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এখানে স্কলারশিপ, ভর্তিপ্রক্রিয়া, ভাষা পরীক্ষার প্রস্তুতি, ভিসা গাইডলাইন ও ক্যারিয়ার পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ইউরোপিয়ান, মালয়েশিয়ান ও ইউকে
এডুকেশন এক্সপো, পাশাপাশি রয়েছে বিটুবি বিজনেস ডিল ও নেটওয়ার্কিং সেশনে অংশ নেওয়ার সুবিধা।
গতকাল আইসিসিবির গুলনকশা হলে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি স্টলে শিক্ষার্থীদের পদচারণ।
কয়েকটি স্টলে শিক্ষার্থীদের ভিড় ছিল বেশি। কেউ যুক্তরাজ্য, কানাডা কিংবা অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে জানতে চাইছেন। আবার কেউ ইউরোপ ও মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি শর্ত, বৃত্তি ও সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে তথ্য নিচ্ছেন। অনেকেই একই দিন কয়েকটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে নিজের পরিকল্পনা গুছিয়ে নিচ্ছেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আর্থিক সহায়তা বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধিদেরও দেখা যায়।
তাঁরা বাইরে পড়তে যাওয়ার আর্থিক বিষয়ে সহজ সমাধানও বাতলে দিচ্ছেন।
রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া। এখানে এসে একই জায়গায় বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পেরেছি। স্কলারশিপ, টিউশন ফি, ভর্তিপ্রক্রিয়া এবং পড়াশোনা শেষে ক্যারিয়ারের সুযোগ সব বিষয়ে বাস্তব তথ্য মিলেছে।’
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসনিয়া রহমান বলেন, ‘বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে অনেকের কাছে অনেক কিছু জেনেছি, কিন্তু তা নিয়ে সংশয়ে ছিলাম। মেলায় পূর্ণাঙ্গ ধারণা পেলাম। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সরাসরি জানতে পেরেছি। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।’
এনসিসি ব্যাংকের কর্মকর্তা মেহেদি ইসলাম বলেন, ‘বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সহজ শর্তে শিক্ষা লোনের ব্যবস্থা করে থাকি। নামমাত্র গ্যারেন্টারের বিপরীতে দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা লোন দিয়ে থাকি।’
ফেয়ার কনভেনার ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ গালিব বলেন, বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন আজ আর সীমানায় আটকে নেই। প্রতিটি শিক্ষার্থী সঠিক তথ্য ও দিকনির্দেশনা পেয়ে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিজের জায়গা করে নিক। দ্বিতীয় দিনের এই বিপুল উপস্থিতিই প্রমাণ করে, বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
প্রতিষ্ঠানটির ডিরেক্টর অব ইভেন্টস অ্যান্ড সেলস আশিকুর রহমান তানভীর বলেন, ‘মেলা চলবে আর মাত্র এক দিন। বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন থেকে স্কলারশিপ, ভিসা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার সব বিষয়ে এক জায়গায় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ মিলবে। যাঁরা এখনো আসেননি, তাঁদের জন্য আজই শেষ সুযোগ।’