জামেয়া দারুল মা‘আরিফ আল-ইসলামিয়ার প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে এক প্রাণবন্ত ও স্মৃতিময় ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর জামেয়ার হলরুমে অনুষ্ঠিত এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন পরিষদের সদস্যরা।
পরিষদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং অর্থ সম্পাদক মুফতি হামেদ ফরিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামেয়ার মুদিরে মুহতারাম আল্লামা মুহাম্মদ ফুরকানুল্লাহ খলীল। পরিষদের সহ-সভাপতি মাওলানা আফিফ ফুরকান মাদানীর আন্তরিক স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা এনামুল হক মাদানী, সেক্রেটারি ড. শোয়াইব রশিদ মাক্কী, সভাপতি শায়খ সাইফুল্লাহ মাদানী, পরিষদের উপদেষ্টা ও আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মুস্তফা কামিল মাদানী, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়া ফ্যাকাল্টির ডিন ও প্রফেসর ড. রশিদ জাহেদ, জামেয়ার শিক্ষা পরিচালক মাওলানা শহিদুল্লাহ কায়সার, মাওলানা ঈসা আমিনী মাক্কী, মাওলানা নুরুল্লাহ, মাওলানা হেলাল উদ্দিন, মুফতি হাবিবুর রহমান, মাওলানা নোমান শামস প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জামেয়ার সম্মানিত মুহাদ্দিস মাওলানা ফরিদ আহমদ আনসারী, পরিষদের উপদেষ্টা ও মুহাদ্দিস মাওলানা নুরুল আমিন মাদানী, মাওলানা ক্বারী ইসহাক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাওলানা আলাউদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাওলানা রবিউল আহসানসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শিক্ষা, গবেষণা, দাওয়াহ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনরত অসংখ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তাঁদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরো বর্ণিল ও তাৎপর্যমণ্ডিত করে তোলে।
দীর্ঘদিন পর একত্রিত হয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ, মতবিনিময় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন, যা পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করেছে।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে জামেয়ার সোনালি দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন। ছাত্রজীবনের মধুর স্মৃতি, শিক্ষকদের স্নেহমাখা দিকনির্দেশনা এবং জামেয়ার আদর্শিক পরিবেশের কথা স্মরণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে তাঁরা প্রাক্তন ছাত্রদের পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ, সমাজসেবা, শিক্ষা উন্নয়ন ও দাওয়াতি কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে যুগোপযোগী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাই তার প্রকৃত পরিচয় বহন করে। তাই জামেয়ার সুমহান ঐতিহ্য, দ্বীনি মূল্যবোধ এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে প্রাক্তন ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র একটি পুনর্মিলনী ছিল না; বরং এটি ছিল হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের সংযোগ, স্মৃতির সাথে বর্তমানের মেলবন্ধন এবং ভবিষ্যৎ পথচলার নতুন অঙ্গীকার। সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকারে মুখরিত এ আয়োজন উপস্থিত সকলের হৃদয়ে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।