• ই-পেপার

১৬ বছরের পাওনা, ১৮ মাসের আন্দোলনেও সুরাহা নেই

  • ২০১০-১২ সালের ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়াসহ প্রতিজনে প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকার পাওনা দাবি
  • আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান চান আন্দোলনকারীরা

আজ ব্যাংক হলিডে, বন্ধ থাকবে লেনদেন

অনলাইন ডেস্ক
আজ ব্যাংক হলিডে, বন্ধ থাকবে লেনদেন

ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে আজ (বুধবার) দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে গ্রাহক পর্যায়ের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে বন্ধ থাকবে দেশের শেয়ারবাজারের লেনদেনও।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাখা সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। এসব কার্যালয়ে শুধু প্রশাসনিক ও হিসাবসংক্রান্ত কাজ পরিচালিত হবে, গ্রাহকদের কোনো ধরনের ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিবছর ১ জুলাই ব্যাংক খাতে অর্ধবার্ষিক সমাপনী উপলক্ষে ব্যাংক হলিডে পালন করা হয়। এ সময় জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসের হিসাব-নিকাশ চূড়ান্ত করে অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ব্যাংকগুলো।

এ কারণে বুধবার কোনো শাখা থেকে টাকা জমা বা উত্তোলন করা যাবে না। বন্ধ থাকবে চেক নিষ্পত্তি, ডিমান্ড ড্রাফট, পে-অর্ডারসহ শাখাভিত্তিক সব ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম। তবে এটিএম, কার্ডভিত্তিক লেনদেন ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে। আন্তঃব্যাংক নিষ্পত্তিনির্ভর কিছু সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে।

প্রতি বছরের ১ জুলাই ও ৩১ ডিসেম্বর দুদিন ব্যাংক হলিডে। প্রথা অনুযায়ী আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার জন্য বার্ষিক হিসাব-নিকাশ শেষ করতে প্রতিবছর এ দুই দিন ব্যাংক হলিডে পালন করা হয়। অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই এবং পঞ্জিকা বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর তফসিলি ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ রাখা হয়। তবে এ দুদিন বাংলাদেশ ব্যাংকসহ তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ শাখার দাফতরিক কার্যক্রম চলে।

এক বছরে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৫৪৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার

অনলাইন ডেস্ক
এক বছরে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৫৪৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার

এক বছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে তিন হাজার ৫৪৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ জুলাই থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩ হাজার ২১ কোটি ৩০ লাখ (৩০.২১৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার।

এদিকে চলতি জুন মাসের প্রথম ২৯ দিনে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ (২.৬৮৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ২৭০ কোটি ৭০ লাখ (২.৭০৭ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। ফলে জুন মাসের প্রথম ২৯ দিনের হিসেবে রেমিট্যান্স আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।

ঋণের মূল টাকা পরিশোধ করেই পার পাবেন খেলাপিরা

অনলাইন ডেস্ক
ঋণের মূল টাকা পরিশোধ করেই পার পাবেন খেলাপিরা

খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে ও ব্যাংকগুলোর নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ এক্সিট সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নীতিমালার আওতায় আর্থিক সংকটে পড়লেও যেসব ঋণগ্রহীতার ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, তারা ঋণের মূল টাকা এককালীন পরিশোধ করে দায় নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে সোমবার এ-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে খেলাপি ঋণ আদায় ত্বরান্বিত করতে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ‘মন্দ’ ও ‘ক্ষতিজনক’ শ্রেণিতে থাকা ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন এবং ব্যাংকার গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিশেষ এক্সিট সুবিধা দেওয়া যাবে। তবে এ বিশেষ এক্সিট সুবিধা পেতে কিছু শর্ত রয়েছে।

সেগুলো হলো, ঋণগ্রহীতাকে এককালীন পুরো বকেয়া পরিশোধ করতে হবে, সব আরোপিত ও অনারোপিত সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে আগের দুটি সার্কুলারের (২০২২ সালের ২১ এপ্রিল জারি করা সার্কুলারের তহবিল ব্যয় আদায় নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত শর্ত এবং ওই বছরের ২৪ মে জারি করা রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকের আয় খাত বিকলন না করার শর্ত) শিথিল থাকবে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত যেসব ‘মন্দ’ বা ‘ক্ষতিজনক’ মানের ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে, সেগুলোও এই সার্কুলারের আওতায় বিশেষ এক্সিট সুবিধা পাবে এবং কৃষি খাতের স্বল্পমেয়াদি কৃষি ঋণ ও সিএমএসএমই খাতের কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র ঋণগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

আজ থেকে বাধ্যতামূলক বাংলা কিউআর

কমবে জাল টাকা ও খুচরার ঝামেলা

অনলাইন ডেস্ক
আজ থেকে বাধ্যতামূলক বাংলা কিউআর

ছেঁড়া-ফাটা নোট, জাল ও খুচরা টাকার সংকট কমিয়ে দেশে ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আজ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হচ্ছে বাংলা কিউআর। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই একীভূত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় ধাপে ধাপে ট্রেড লাইসেন্স, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন, হাসপাতালের বিল, পরিবহন টোলসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবার অর্থও ডিজিটালভাবে পরিশোধ করা হবে বলে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি মাত্র কিউআর কোড ব্যবহার করে যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ পরিশোধের সুযোগ তৈরি হওয়ায় নগদ অর্থের ব্যবহার কমবে। ফলে জাল নোট গ্রহণের ঝুঁকি, খুচরা টাকার সংকট এবং নগদ অর্থ বহনের ঝামেলাও অনেকাংশে কমে আসবে।

জাল নোট প্রতিরোধের পাশাপাশি প্রায়ই খুচরা টাকার অভাবে ক্রেতাদের টাকা ফেরত দিতে সমস্যায় পড়তে হয়। তাদের মতে, ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়লে এসব সমস্যার সমাধান হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এ ব্যবস্থায় একজন মার্চেন্টের জন্য একটি বাংলা কিউআর কোডই যথেষ্ট হবে। গ্রাহকরা নিজ নিজ ব্যাংক বা এমএফএসের অ্যাপ ব্যবহার করে একই কিউআর স্ক্যানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা আলাদা কিউআর ব্যবহারের প্রয়োজন থাকবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, নতুন বা নবায়ন করা সব ট্রেড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন ক্যাশলেস পদ্ধতিতে গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে। একই ভাবে বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও বাংলা কিউআর চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবার অর্থ পরিশোধে বাংলা কিউআর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে, যাতে দেশের ডিজিটাল লেনদেন আরো বিস্তৃত ও কার্যকর হয়। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; উদ্যোগটির সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষের আর্থিক সচেতনতা বা ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি এখনো সন্তোষজনক নয়। তাই স্কুলপর্যায় থেকেই আর্থিক শিক্ষা চালু করা এবং আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে জনগণকে ডিজিটাল আর্থিক সেবায় দক্ষ করে তুলতে হবে। তাহলেই বাংলা কিউআরের মতো উদ্যোগ থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কার্যকর বাস্তবায়ন, শক্তিশালী প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা এবং সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলা কিউআর দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা করবে। একই সঙ্গে এটি নগদনির্ভর অর্থনীতি থেকে স্বচ্ছ, নিরাপদ ও আধুনিক ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে আরো বেগবান করবে।