• ই-পেপার

অহংকারী ব্যক্তি চেনার ১০ উপায়

বৃদ্ধ বয়সে প্রশস্ত রিজিকের জন্য পঠিতব্য দোয়া

মুফতি ওমর বিন নাছির
বৃদ্ধ বয়সে প্রশস্ত রিজিকের জন্য পঠিতব্য দোয়া
সংগৃহীত ছবি

জীবনের শুরুতে মানুষ শক্তি, সামর্থ্য ও কর্মক্ষমতার ওপর ভর করে জীবিকা অর্জন করে। কিন্তু বয়স যখন বাড়তে থাকে, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং উপার্জনের পথও অনেক সময় সংকুচিত হয়ে আসে। এমন সময় একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় ভরসা হন মহান আল্লাহ। কারণ তিনিই রাজ্জাক (সর্বশ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা)। তাই বৃদ্ধ বয়সেও যেন অভাব, অসহায়ত্ব বা মানুষের মুখাপেক্ষী হতে না হয়, সে জন্য আল্লাহর কাছে প্রশস্ত ও বরকতময় রিজিকের প্রার্থনা করা উচিত। তেমনি একটি দোয়া হলো, 

 اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ أَوْسَعَ رِزْقِكَ عَلَيَّ عِنْدَ كِبَرِ سِنِّيْ , وَانْقِطَاعِ عُمُرِيْ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাজ আল আওসাআ রিজক্বিকা আলাইয়া ইনদা কিবারি সিন্নি, ওয়ানক্বিত্বাই উমুরি।

অর্থ : হে আল্লাহ ! আপনার দেওয়া রিজককে আমার বৃদ্ধ বয়সে এবং জীবনের সমাপ্তি পর্যন্ত প্রশস্ত করে দিন। (তররানি শরিফ, হাদিস : ৩৬১১)

মানুষ যেসব কারণে ফেরেশতা ও জিন জাতিকে দেখতে পায় না

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মানুষ যেসব কারণে ফেরেশতা ও জিন জাতিকে দেখতে পায় না
সংগৃহীত ছবি

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হয়েও ফেরেশতা ও জিন দেখতে পায় না। যদি আমরা এ বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা ও উপলব্ধি করি, তাহলে দেখতে পাব যে এর পেছনে আছে অত্যন্ত প্রজ্ঞাময় কিছু কারণ, যা সুস্থ বিবেক ও সঠিক যুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

অদৃশ্য বিষয়ের প্রতি ঈমানের পরীক্ষা : ফেরেশতা ও জিনকে আমাদের দৃষ্টির আড়ালে রাখার অন্যতম বড় হিকমত হলো, এটি আমাদের গায়েবের প্রতি ঈমানের পরীক্ষা। মহান আল্লাহ চান, আমরা যেন এমন বিষয়েও বিশ্বাস স্থাপন করি, যা আমাদের চোখে দেখা যায় না। আর এটিই প্রকৃত ঈমানের মূল বৈশিষ্ট্য।

যদি আমরা ফেরেশতা ও জিনকে সরাসরি দেখতে পেতাম, তাহলে তাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা একটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় হয়ে যেত। তখন অন্তরের বিশ্বাস, চিন্তা ও আত্মসমর্পণের যে মূল্য রয়েছে, তা কমে যেত।

মহান আল্লাহ মুত্তাকিদের প্রশংসা করে বলেন, ‘এই সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই; এটি মুত্তাকিদের জন্য হেদায়েত। যারা গায়েবের প্রতি ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।’ (সুরা : আল-বাকারাহ, আয়াত : ২-৩)

ফেরেশতা ও জিন দেখতে না পাওয়া রহমতস্বরূপ : একটু কল্পনা করুন, যদি আমরা ফেরেশতা ও জিনদের তাদের বিশাল সংখ্যা ও প্রকৃত আকৃতি নিয়ে দেখতে পেতাম, তাহলে আমাদের অবস্থা কেমন হতো?

ফেরেশতারা মহান নুরের সৃষ্টি। আর জিনদের মধ্যে রয়েছে ভালো ও মন্দ উভয় ধরনের সৃষ্টি। যদি অদৃশ্য জগতের সবকিছু আমাদের সামনে প্রকাশ হয়ে যেত, তাহলে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ত। মানুষ ভয়, আতঙ্ক ও মানসিক চাপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ত। সুতরাং তাদের না দেখা আমাদের প্রতি আল্লাহর এক মহান রহমত এবং আমাদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক নিরাপত্তার অংশ।

ফেরেশতা ও জিন দেখতে না পাওয়া পরীক্ষাস্বরূপ : শয়তান মানুষের শরীরে রক্তের মতো চলাচল করে, তাকে কুমন্ত্রণা দেয় এবং মন্দ কাজকে সুন্দর করে দেখায়। যদি আমরা তাকে দেখতে পেতাম, তাহলে এই পরীক্ষার প্রকৃতিই পরিবর্তিত হয়ে যেত। কিন্তু আল্লাহর হিকমত হলো আমরা যেন অদৃশ্য শত্রুর মোকাবেলায় আল্লাহর ওপর নির্ভর করি, তাঁর কাছে আশ্রয় চাই, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই সে (শয়তান) এবং তার দল তোমাদের এমন স্থান থেকে দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদের দেখতে পাও না। নিশ্চয়ই আমি শয়তানদের তাদের অভিভাবক করেছি, যারা ঈমান আনে না।’ (সুরা : আল-আরাফ, আয়াত : ২৭)

জিন ও শয়তানের এই অদৃশ্য থাকার ক্ষমতা তাদের সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্যের অংশ এবং এটি আমাদের জন্য একটি পরীক্ষা—কে আল্লাহর পথ অনুসরণ করে আর কে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে।

সৃষ্টির প্রকৃতিগত পার্থক্য : আল্লাহ প্রত্যেক সৃষ্টিকে ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। মানুষের চোখ নির্দিষ্ট সীমার আলো দেখতে পারে, মানুষের কান নির্দিষ্ট মাত্রার শব্দ শুনতে পারে। আমরা ফেরেশতা ও জিনকে দেখতে পাই না—এটি আমাদের কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি সৃষ্টির প্রকৃতিগত পার্থক্য।

ফেরেশতা ও জিন আমাদের দেখতে পারে, অথচ আমরা তাদের দেখতে পাই না—এটি আমাদের মর্যাদা কমায় না, বরং এটি আল্লাহর নির্ধারিত দায়িত্ব ও সৃষ্টির ব্যবস্থার অংশ।

আদম সন্তানকে দেওয়া আল্লাহর সম্মান হলো একটি পূর্ণাঙ্গ সম্মান, যা মানুষের অস্তিত্ব, চিন্তা, আত্মিক উন্নতি এবং পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত। আসল মর্যাদা হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর আনুগত্য এবং নেক আমলের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন করা।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ১ ‍জুলাই ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ১ ‍জুলাই ২০২৬

আজ বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩, ১৫ মহররম, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ০৬ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪২ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫৪ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ২০ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৫০ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৪ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

বান্দার ছোট্ট যে দোয়ায় রহমতের দরজা খুলে দেয়া হয়

অনলাইন ডেস্ক
বান্দার ছোট্ট যে দোয়ায় রহমতের দরজা খুলে দেয়া হয়
সংগৃহীত ছবি

ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন-বিধান। আর পৃথিবী হলো ক্ষণস্থায়ী আবাসস্থল। পরিপূর্ণ এই জীবন-বিধান অনুসরণ করে ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর পরীক্ষায় উত্তম আমলের মাধ্যমে উত্তীর্ণরাই পরকালে সফল হিসেবে বিবেচিত হবেন। যাদের চিরস্থায়ী ঠিকানা হবে জান্নাত। আর সফল হতে না পারাদের জন্য রয়েছে চিরশাস্তির জাহান্নাম।

এজন্য পরকালে সফল হতে বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে উম্মতদের যেমন নানা বিষয়ে আদেশ-নিষেধের কথা জানিয়েছেন নবীজি (সা.), তেমনি বাতলে দিয়েছেন মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের পথও। এর মধ্যে একটি হাদিসে দুনিয়াবি জীবনে বান্দার ছোট্ট একটি দোয়ায় আল্লাহ তা’আলার রহমতের দরজা খুলে দেয়ার কথা এসেছে। যা হাদিসের ভাষায় আসমানের দরজা উন্মোচন হিসেবে পরিচিত।

ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একবার আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সালাতরত ছিলাম। এমন সময় মুসল্লিদের একজন বলল-

اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلاً

বাংলা : আল্লাহু আকবারু কাবিরান, ওয়ালহামদুহু লিল্লাহি কাছিরান ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতান ওয়া আসিলান।

অর্থ : আল্লাহ মহান, অতি মহান, আল্লাহ তা’আলার জন্য অনেক অনেক প্রশংসা এবং সকাল-সন্ধ্যা আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- কে এই দোয়া পাঠ করেছে? তখন উপস্থিত একজন বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা.) আমি। এরপর নবীজি (সা.) বললেন, আমার খুব আশ্চর্য লেগেছে। এই কালিমাগুলোর জন্য আসমানের সব দরজা খুলে দেয়া হয়েছে। ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল (সা.) এর কাছে এই কথা শোনার পর থেকে আমি এই কালিমাগুলো বলা কখনও পরিত্যাগ করিনি। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৯২)