• ই-পেপার

দুই বছরে বন্ধ ৪৫৭ প্রতিষ্ঠান

  • চাকরি হারিয়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক
  • কার্যাদেশ কমে যাওয়া, জ্বালানিসংকট ও আর্থিক দুরবস্থায় বিপর্যস্ত শিল্প খাত পুনরায় চালুতে আর্থিক সহায়তা চান উদ্যোক্তারা

ব্যাংক আইনের নতুন ধারায় আপত্তি আইএমএফের

সংস্কারের পরিকল্পনা চেয়েছে সংস্থাটি আগের মালিকদের ফেরার সুযোগ বাতিল হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
ব্যাংক আইনের নতুন ধারায় আপত্তি আইএমএফের

দেশের ব্যাংক খাতে ব্যাপক সংস্কারের জন্য আবারও সময়সীমাভিত্তিক একটি কর্মপরিকল্পনা চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বিশেষ করে ব্যাংক কোম্পানি আইনে নতুন সংযোজিত ধারা ১৮ (এ) নিয়ে কাঠামোগত আপত্তি জানিয়েছে সংস্থাটি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সরকার ১ জুন আইএমএফের কাছে নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করার পর চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে এসব শর্ত সামনে এসেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ধারা ১৮ (এ) নিয়ে আইএমএফ গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আইনের এ ধারার মাধ্যমে জোরপূর্বক একীভূত (মারজার) বা পুনর্গঠিত ব্যাংকের মালিকানা আগের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আইএমএফের মতে এ বিধান আর্থিক খাতের সুশাসন ও জবাবদিহিতা দুর্বল করে এবং এটি কার্যত একটি আইনি ফাঁকফোকর তৈরি করেছে। এ অবস্থায় আইএমএফের শর্তপূরণ এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সরকার নীতিগতভাবে ব্যাংক কোম্পানি আইন থেকে ধারা ১৮ (এ) পুরোপুরি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন। বিতর্কিত এ ধারা বাতিলের পাশাপাশি খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা, দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একীভূতকরণ কার্যকর করা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংক পরিচালনায় রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ বন্ধের বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে আইএমএফ।

ব্যাংক খাতের বাইরে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায়ও কঠোর শর্ত দিয়েছে সংস্থাটি। আইএমএফ সব খাতে অভিন্ন ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) কার্যকর এবং ব্যাপকভাবে টার্নওভার কর আরোপের পক্ষে মত দিয়েছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার একক হারে ভ্যাট আরোপের ধারণার সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত হলেও হার ১০ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা করতে চায়।

এ ছাড়া সরকার তাৎক্ষণিকভাবে টার্নওভার কর আরোপে অনাগ্রহী। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে কোনো প্রতিষ্ঠান লোকসানে থাকলেও মোট লেনদেনের ওপর কর পরিশোধ করতে হয় এমন ব্যবস্থায় ব্যবসা খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবব্যবস্থার আধুনিকায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর এ কর চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করবে। সফরকালে তারা দেশের অর্থনৈতিক প্রস্তুতি ও কাঠামোগত সংস্কারের অগ্রগতি মূল্যায়ন করবে। এ মূল্যায়নের ভিত্তিতে আগামী অক্টোবরে থাইল্যান্ডে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় চূড়ান্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে ডিসেম্বরে নতুন ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। আইএমএফের প্রচলিত কোটাভিত্তিক নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ গ্রহণের সক্ষমতা সর্বোচ্চ ৪৬৪ কোটি এসডিআর, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৬১৫ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

বাংলাদেশে ৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব চীনের

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশে ৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব চীনের

বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে মোট ৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে চীনের ১১টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও শীর্ষ কর্মকর্তারা এ প্রস্তাব দেন।

গত ২৫ জুন বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার (২৭ জুন) সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। এই বার্তা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে সফলভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যার ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের করনীতি-সংক্রান্ত পূর্বাভাস (ট্যাক্স আউটলুক) প্রকাশ করেছে। এটি বিনিয়োগকারীদের কাছে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতার বার্তা হিসেবে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ প্রস্তাব

১. চায়না ফিউচার এনার্জি গ্রুপ হোল্ডিং লিমিটেড
বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উন্নয়নে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।

২. সাংহাই এসইউএস এনভায়রনমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড
দেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ (ওয়েস্ট-টু-এনার্জি) উৎপাদন প্ল্যান্ট স্থাপনে ৮৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

৩. চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি)
মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, বন্ডেড গুদাম নির্মাণ এবং মোংলাকে আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাবে রূপান্তরে ৬৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। এ প্রকল্পে প্রায় ৫০ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।

৪. শেনজেন কাইফা টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড
বাংলাদেশে স্মার্ট বৈদ্যুতিক মিটার উৎপাদনে ২৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

৫. এসএফ এক্সপ্রেস
মোংলায় কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস ও বন্ডেড গুদাম সুবিধা গড়ে তুলতে ১৮০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। এতে ই-কমার্স ও রপ্তানি খাত আরও শক্তিশালী হবে।

৬. হুয়াক্সিন টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি লিমিটেড
পায়রা বন্দর শিল্পাঞ্চলে পুনর্ব্যবহৃত তুলা ও সুতা উৎপাদন সম্প্রসারণ, সিলিন্ড্রিক্যাল লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদন এবং নিজস্ব ব্যবহারের জন্য ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে ১৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা জানিয়েছে।

৭. ঝংসিন এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন গ্রুপ
পায়রা বন্দর শিল্পাঞ্চলে ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও নিষ্পত্তি শিল্পপ্রকল্প স্থাপনে ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।

৮. সিআরআরসি জিয়ান কোম্পানি লিমিটেড
বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ)-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রেলগাড়ির যন্ত্রাংশ সংযোজন কারখানা স্থাপনে ১৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

৯. সিচুয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড
জাতীয় সংযোগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পিপিপি প্রকল্পে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।

১০. চায়না কেপাই এডুকেশন গ্রুপ
দীর্ঘমেয়াদে ৩০ হাজার শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি আধুনিক অ্যাপ্লাইড বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা শিল্পপার্ক নির্মাণে ২৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা জানিয়েছে।

১১. চায়না শানডং ঝংসিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড
বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে চীনা ভেষজ উদ্ভিদের চাষ এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প গড়ে তুলতে ১৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

বাংলাদেশে ৯.২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব ১১ চীনা প্রতিষ্ঠানের

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশে ৯.২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব ১১ চীনা প্রতিষ্ঠানের
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে মোট ৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে চীনের ১১টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও শীর্ষ কর্মকর্তারা এ প্রস্তাব দেন।

গত ২৫ জুন বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার (২৭ জুন) সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।

এই বার্তা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে সফলভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যার ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের করনীতি-সংক্রান্ত পূর্বাভাস (ট্যাক্স আউটলুক) প্রকাশ করেছে।

এটি বিনিয়োগকারীদের কাছে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতার বার্তা হিসেবে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ প্রস্তাব

১. চায়না ফিউচার এনার্জি গ্রুপ হোল্ডিং লিমিটেড

বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উন্নয়নে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।

২. সাংহাই এসইউএস এনভায়রনমেন্ট কম্পানি লিমিটেড

দেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ (ওয়েস্ট-টু-এনার্জি) উৎপাদন প্ল্যান্ট স্থাপনে ৮৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

৩. চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি)

মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, বন্ডেড গুদাম নির্মাণ এবং মোংলাকে আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাবে রূপান্তরে ৬৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। এ প্রকল্পে প্রায় ৫০ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।

৪. শেনজেন কাইফা টেকনোলজি কম্পানি লিমিটেড

বাংলাদেশে স্মার্ট বৈদ্যুতিক মিটার উৎপাদনে ২৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

৫. এসএফ এক্সপ্রেস

মোংলায় কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস ও বন্ডেড গুদাম সুবিধা গড়ে তুলতে ১৮০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। এতে ই-কমার্স ও রপ্তানি খাত আরো শক্তিশালী হবে।

৬. হুয়াক্সিন টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কম্পানি লিমিটেড

পায়রা বন্দর শিল্পাঞ্চলে পুনর্ব্যবহৃত তুলা ও সুতা উৎপাদন সম্প্রসারণ, সিলিন্ড্রিক্যাল লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদন এবং নিজস্ব ব্যবহারের জন্য ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে ১৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা জানিয়েছে।

৭. ঝংসিন এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন গ্রুপ

পায়রা বন্দর শিল্পাঞ্চলে ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও নিষ্পত্তি শিল্পপ্রকল্প স্থাপনে ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।

৮. সিআরআরসি জিয়ান কম্পানি লিমিটেড

বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রেলগাড়ির যন্ত্রাংশ সংযোজন কারখানা স্থাপনে ১৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

৯. সিচুয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ গ্রুপ কম্পানি লিমিটেড

জাতীয় সংযোগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পিপিপি প্রকল্পে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।

১০. চায়না কেপাই এডুকেশন গ্রুপ

দীর্ঘমেয়াদে ৩০ হাজার শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি আধুনিক অ্যাপ্লাইড বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা শিল্পপার্ক নির্মাণে ২৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা জানিয়েছে।

১১. চায়না শানডং ঝংসিন ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানি লিমিটেড

বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে চীনা ভেষজ উদ্ভিদের চাষ এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প গড়ে তুলতে ১৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।

চীন-মায়ানমার করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে বিনিয়োগ বাড়বে : বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
চীন-মায়ানমার করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে বিনিয়োগ বাড়বে : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘চীন-মায়ানমার করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে ২৪ ঘণ্টায় একটি ট্রাকে করে বাংলাদেশ থেকে চীনে পণ্য পৌঁছানো যাবে। ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বিপুল গতি লাভ করবে। এতে বিনিয়োগ অবশ্যই বাড়বে।’

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির নবীনবরণ অনুষ্ঠান শে‌ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আগামী দিনগু‌লো‌তে দেশে চীনের বিপুল বিনিয়োগ দেখা যাবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দিনে চীনে রপ্তানি বাড়ানোর জন্য আমাদের স্ট্যাটেজি। চীন ইতোমধ্যে আমাদের সব পণ্য শুল্কমুক্ত করে দিয়েছে। আমাদের কাছে একটাই সম্ভাব্য উপায়, যেটি আমরা অনুসরণ করছি, বাংলাদেশে বেশি বেশি চায়নিজ বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।’

মন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামে ৮০০ একরের একটি চায়নিজ শিল্প পার্ক স্থাপনের ব্যাপারে কিছুদিন আগেই মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

আগামীতে বিপুল চায়নিজ বিনিয়োগ আসবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘চীনের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সে দেশের শীর্ষ নেতৃবন্দ ও বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যার ফলে আগামী দিনগু‌লো‌তে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ চীনা বিনিয়োগ দেখব। এ‌তে বাণিজ্য ঘাটতিও হ্রাস পাবে।’

সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘মাজার ব্যাবস্থাপনা কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে স্থান দেওয়া হয়নি, নিয়মতান্ত্রিকভাবেই কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

এর আগে আইনজীবী সমিতির নবীণবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাষ্ট্রে বিচারহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি হলে সামাজিক চুক্তি ও আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে। সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকার সমতা, বৈষম্যহীনতা, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নে আইনজীবীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির জন্য নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি আধুনিক ও নিয়মিত প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আইনবিষয়ক গবেষণা, কেস স্টাডি বিশ্লেষণ এবং আদালতে কার্যকর উপস্থাপনার ওপর ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইনজীবীদের সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে দক্ষ আইনজীবী ও বিচারক তৈরিতে সহায়ক হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় অনলাইন জুয়া প্রতিরোধকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছিলাম। এ লক্ষ্যে অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে, যা সংসদীয় প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই পাস হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম ইয়াহ-ইয়া চৌধুরীর (সুহেল) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জুবায়ের বখত জুবের, ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ এরফান উল্লাহ, বিভাগীয় স্পেশাল জজ এম আলী আহমদ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসাম ইমাম, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।