২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে মোট ৫ হাজার ৭৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন খাতে ২ হাজার ১২৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ২ হাজার ৯৫২ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত মঞ্জুরি ও বরাদ্দের দাবি সম্পর্কিত সরকারি নথি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৮২২ কোটি ১৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। সেই তুলনায় আগামী নতুন অর্থবছরে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বাড়ছে প্রায় ২৫৬ কোটি টাকা।
বাজেট নথিতে আগামী অর্থবছরে ঢাকার আবাসন সমস্যা সমাধান, পরিকল্পিত নগরায়ণ ও পরিবেশ রক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- গুলশান-বারিধারা এবং গুলশান-বনানী লেকসমূহের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রকল্প। এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের মালিকানাধীন মতিঝিল এলাকায় জলাধার পার্ক ও শিশুদের খেলার মাঠসহ বিভিন্ন সেবামূলক স্থাপনা নির্মাণের একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসন সংকট নিরসনে ঢাকার আজিমপুর সরকারি কলোনির অভ্যন্তরে বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ (জোন-সি), তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় ১২৩টি ফ্ল্যাট নির্মাণ, মালিবাগ এলাকায় রাজউক কোয়ার্টারের পশ্চিম কম্পাউন্ডে কর্মচারীদের জন্য বহুতল কোয়ার্টার নির্মাণ এবং শেরে বাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকায় বহুতল সরকারি অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে।
ঢাকার বাইরে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের উন্নয়নকেও এই বাজেটে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প এবং কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু হতে চাকতাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন (গুচ্ছ প্রকল্প-১) এবং চট্টগ্রামের ৩৬টি পরিত্যক্ত বাড়িতে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পিত গ্রামীণ ও নগর উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানের ২৩টি উপজেলার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে দুটি পৃথক সমীক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। একই সাথে শহরের বহুতল ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘নগরাঞ্চলে ভবন সুরক্ষা প্রকল্প (২য় সংশোধিত)’ চালু রাখা হবে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বরাদ্দের এই অর্থ দিয়ে দেশের আবাসন সমস্যা সমাধান, সরকারি স্থাপনার আধুনিক নকশা প্রণয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ, পরিকল্পিত ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার এবং আবাসন খাতে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করা হবে।




