আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে আবারও বাড়তে শুরু করেছে। টানা পতনে দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নামার পর, শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকে মূল্যবান এই ধাতুর দাম আবারও বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, মূল্যস্ফীতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। খবর গালফ নিউজ ও খালিজ টাইমস
দুবাইয়ের বাজারে শুক্রবার লেনদেনের শুরুতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম বেড়ে প্রতি গ্রাম ৫৪৪.০ দিরহামে দাঁড়িয়েছে, যা বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বাজার বন্ধের সময় ছিল ৫৪১.২৫ দিরহাম। এর আগে গত ২৭ মে এর দাম কমে দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ৫৩৭.০ দিরহামে নেমেছিল।
অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে ২২ ক্যারেট সোনার দাম বেড়ে প্রতি গ্রাম ৫০৩.৭৫ দিরহাম, ২১ ক্যারেট ৪৮৩.০ দিরহাম, ১৮ ক্যারেট ৪১৪.০ দিরহাম এবং ১৪ ক্যারেট সোনা ৩২৩.০ দিরহামে বিক্রি হচ্ছে। বুধবার (২৭ মে) ২২ ক্যারেট সোনার দামও ৫০০ দিরহামের নিচে নেমে গিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম আজ ০.২২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫১১ ডলারে লেনদেন হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে ফিউচার মার্কেটে সোনার দাম ১৬.৩৭ পয়েন্ট বা ০.৩৬ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫১৮.২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে রুপার বাজার আজ স্থিতিশীল ছিল, প্রতি আউন্স বিক্রি হয়েছে ৭৫.৭২ ডলারে।
সেঞ্চুরি ফাইন্যান্সিয়ালের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা বিজয় ভালেচা মনে করেন, কারিগরি দিক থেকে সোনার বাজারের এই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকতে পারে। তবে ক্যাপিটাল ডট কমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েল হাথর্ন কিছুটা ভিন্ন মত দিয়েছেন। তার মতে, সাম্প্রতিক বড় পতনের পর বাজার এখনো কিছুটা ভঙ্গুর। বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধি এবং মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়ায় সোনা কিছুটা চাপের মুখেও রয়েছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে দুই পক্ষ একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি।
ইরান সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বেড়েছে। এর ফলে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ আগামী বছর পর্যন্ত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আবার ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগ শুরু করেছেন, যার ফলে সোনার মতো নিরাপদ আশ্রয়ে বিনিয়োগের চাহিদা কিছুটা কমেছে।






