বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বাড়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় অপরিশোধিত তেলের বাজার চড়া রয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ যেমন বহাল আছে, তেমনি সুদের হার আরো বৃদ্ধির পূর্বাভাস জোরালো হচ্ছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মূল্যবান এই ধাতুর বাজারে। খবর রয়টার্স
বৃহস্পতিবার (২১ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৩৬.৭২ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে বুধবার (২০ মে) যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সোনার দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছিল, যার ঠিক আগেই এটি গত ৩০ মার্চের পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যায়। অন্যদিকে, আগামী জুন মাসে সরবরাহের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে গোল্ড ফিউচার্সের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৩৭.৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরুর পর থেকেই মার্কিন ডলারের দাম চড়া। দুবাই-ভিত্তিক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ‘বাইবিট’-এর প্রধান বাজার বিশ্লেষক হ্যান তান বলেন, সোনার দাম সাড়ে চার হাজার ডলারের ঘরে আটকে থাকায় অবাক হওয়ার কিছু নেই। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পর থেকে ডলার যেভাবে শক্তিশালী হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে যেভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ চলছে, তাতে সোনার দাম আপাতত এই বৃত্তেই থাকবে।
তিনি আরো বলেন, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) নীতি নির্ধারণী কমিটির সাম্প্রতিক সভার কার্যবিবরণীতে সুদের হার বৃদ্ধির কঠোর ইঙ্গিত থাকায় সোনার দামের ঊর্ধ্বগতি থমকে গেছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ফেব্রুয়ারির শেষে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সোনার দাম ১৪ শতাংশের বেশি কমেছে। সাধারণত তেলের দাম বাড়লে সোনার দামও বাড়ে, তবে এবার জ্বালানিজনিত তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে সোনার বাজারে বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেল ১০৪.৪ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, যতক্ষণ ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হচ্ছে এবং সুদের হার কমার স্পষ্ট ইঙ্গিত না মিলছে, ততক্ষণ সোনার বাজারে বড় ধরনের সুদিন বা তেজি ভাব ফিরে আসার সম্ভাবনা কম।
সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা কেনাবেচা হয় মার্কিন ডলারে। ফলে ডলারের দাম বাড়লে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য সোনা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা সোনার চেয়ে বন্ডের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। যেহেতু সোনা নিজের কাছে জমিয়ে রাখলে আলাদা কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না, তাই উচ্চ সুদের বাজারে বিনিয়োগকারীরা সোনা সঞ্চয় রাখার চেয়ে বন্ডে বিনিয়োগ করাকে লাভজনক মনে করছেন। ফলে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হওয়া সত্ত্বেও উচ্চ সুদের হারের এই সময়ে বেশ চাপে রয়েছে সোনা।
সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও আজ কিছুটা নিম্নমুখী। রুপার দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৫.৬০ ডলারে নেমেছে। এ ছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৪৩.২৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ হাজার ৩৬৯.৪৮ ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে।
দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৪৪১ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।