• ই-পেপার

পর্দা উঠল ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার

কৃষক স্মার্ট কার্ডধারী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ বিতরণে নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক
কৃষক স্মার্ট কার্ডধারী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ বিতরণে নির্দেশনা

কৃষক স্মার্ট কার্ডধারী প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষক এবং সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ প্রদানে অগ্রাধিকার দিতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিভাগ (এফআইডি) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার লেটার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘১০, ৫০ ও ১০০ টাকার হিসাবধারী প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষক, নিম্নআয়ের পেশাজীবী, স্কুল ব্যাংকিং হিসাবধারী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য গঠিত পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’র আওতায় কৃষকদের ঋণ সহায়তা আরও সহজ ও কার্যকর করতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রণীত ‘কৃষক স্মার্ট কার্ড নীতিমালা-২০২৫’-এর আলোকে কৃষক স্মার্ট কার্ডধারী প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের ১০ টাকার ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তবে একই সঙ্গে কার্ডবিহীন প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকরা যেন এ স্কিমের আওতায় ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া সাম্প্রতিক গ্রীষ্মকালীন অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে পাকা ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষাপটে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ সহায়তায় অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের হাওর এলাকার কৃষকদের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলায় অতিবৃষ্টিজনিত ফসলহানির শিকার প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকরাও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ সুবিধা পাবেন। 

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ বিষয়ে পূর্বে জারি করা সংশ্লিষ্ট সার্কুলার ও সার্কুলার লেটারের অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।

তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক
তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের স্থিতি ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা ছাড়ায়, যা ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

প্রতি ত্রৈমাসিকে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের তথ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক তথা ৩১ মার্চের তথ্য গতকাল প্রকাশ করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর দেশের ব্যাংক খাতে বিতরণকৃত ঋণ স্থিতি ছিল ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা ছিল খেলাপি। সে হিসাবে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণ স্থিতি মাত্র ৩ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা বেড়েছে। মার্চ শেষে বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকায়। এর মধ্যে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকাই ছিল খেলাপি। সে হিসাবে খেলাপি ঋণের হার ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে ঠেকেছে। অবশ্য এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল।

খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘খেলাপি ঋণের হিসাবায়নের ক্ষেত্রে অতীতের মতো কোনো লুকোচুরি নেই। খেলাপির যোগ্য সব ঋণই এখন ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হচ্ছে। এ কারণে তা কিছুটা বেড়েছে। তবে এক্ষেত্রে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বিরাজমান পরিস্থিতিরও কিছুটা প্রভাব রয়েছে।’

আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘২০০৯ সাল-পরবর্তী ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে যেসব ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল, সেগুলো খেলাপি হলেও নানা কৌশলে গোপন রাখা হতো। কিন্তু ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে লুকিয়ে রাখা খেলাপি ঋণ সামনে আসে। ব্যাংকগুলো সাধারণত বছরের শেষ প্রান্তিকে ঋণ পুনঃতফসিলে বিশেষ জোর দেয়। এ কারণে গত বছরের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমেছিল। এখন নতুন করে কিছু ঋণ খেলাপি হওয়ায় এর পরিমাণ বেড়েছে। ব্যাংক খাতে সুশাসন ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ব্যাংকগুলোর সঞ্চিতি (প্রভিশন) ঘাটতির পরিমাণও বেড়েছে। গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে সঞ্চিতি ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা। কিন্তু মার্চ শেষে এ ঘাটতি ২ লাখ ৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। ব্যাংকগুলোর খেলাপি হওয়া ঋণের প্রায় ৯৪ শতাংশের মান এখন মন্দ বা ক্ষতিজনক। অর্থাৎ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ৫ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকার ঋণ আদায়ের সুযোগ নেই।

গত মার্চ শেষে খেলাপির হারে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। এ ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার এখন ৪৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এ সময়ে ব্যাংকগুলো ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর ১ লাখ ৩ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা প্রভিশন রাখার কথা থাকলেও তারা মাত্র ২৮ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা প্রভিশন রাখতে পেরেছে। সে হিসাবে প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৪৭১ কোটি টাকায়। তবে সঞ্চিতি ঘাটতির এ পরিমাণ প্রকৃত চিত্র নয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নীতি ছাড় নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সঞ্চিতি ঘাটতির পরিমাণ কম দেখাচ্ছে।

গত মার্চ শেষে দেশের বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের স্থিতি ছিল ১৩ লাখ ৮৩ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪ লাখ ১৬ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা খেলাপিতে রয়েছে। এ হিসাবে ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩০ দশমিক ১১ শতাংশ খেলাপি। এ ব্যাংকগুলোর সঞ্চিতি ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৩১০ কোটি টাকায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ শেষে বিশেষায়িত সরকারি ব্যাংকগুলো মোট ৪৭ হাজার ৮৬ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছিল। এর মধ্যে ১৯ হাজার ১৭৫ কোটি টাকাই খেলাপির তালিকায় থেকে গেছে। সে হিসাবে এ ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ। আর বিদেশী ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ৬৭ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা ঋণের ৪ দশমিক ৮২ শতাংশ এখন খেলাপি।

দাম কমার পর আজ সোনার ভরি কত?

অনলাইন ডেস্ক
দাম কমার পর আজ সোনার ভরি কত?

দেশের বাজারে গতকাল মঙ্গলবার কমানো হয়েছে সোনার দাম। ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা, যা গতকাল সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমায় নতুন এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন
বছরজুড়ে কোরবানির ১০ শিক্ষা

বছরজুড়ে কোরবানির ১০ শিক্ষা

 

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতিভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতিভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতিভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
 
এর আগে, গত ২৫ মে সকালে দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

আরো পড়ুন
ঢাকার বৃষ্টি-তাপমাত্রা নিয়ে সুখবর দিল অধিদপ্তর

ঢাকার বৃষ্টি-তাপমাত্রা নিয়ে সুখবর দিল অধিদপ্তর

 

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতিভরি ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতিভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এদিকে সোনার দাম কমানোর সঙ্গে দেশের বাজারে কমানো হয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ১১৭ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতিভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এলডিসি উত্তরণ প্রস্তুতিকাল ২০২৯ পর্যন্ত বাড়াতে সিডিপির ইতিবাচক সুপারিশ

বাসস
এলডিসি উত্তরণ প্রস্তুতিকাল ২০২৯ পর্যন্ত বাড়াতে সিডিপির ইতিবাচক সুপারিশ

জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করার অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনার সুপারিশ করেছে। 

সিডিপির চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বাংলাদেশ সরকারকে এ বিষয়ে অবহিত করে জানিয়েছেন, কমিটির মূল্যায়ন অনুযায়ী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি করা যথাযথ হবে।

তবে সিডিপি বলেছে, বর্ধিত প্রস্তুতিকালকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে বিদ্যমান কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে হবে। কমিটির মতে, প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি কোনোভাবেই সংস্কার বিলম্বিত করার সুযোগ নয়; বরং এটি সংস্কার কার্যক্রম আরো দ্রুত বাস্তবায়নের অনুঘটক হিসেবে কাজ করা উচিত।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতিসংঘের সিডিপির কাছে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বৃদ্ধি করে ২৪ নভেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী ৬ এপ্রিল জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে প্রেরিত এক পত্রে এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন।

সিডিপির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের জন্য নির্ধারিত তিনটি সূচকের প্রতিটিতেই প্রয়োজনীয় সীমা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে অতিক্রম করেছে। একইসঙ্গে নিকট ও মধ্যমেয়াদে এ অবস্থান থেকে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিও অত্যন্ত কম। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তন এবং অন্যান্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ দেশের উত্তরণ প্রস্তুতি বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলতে পারে বলে কমিটি উল্লেখ করেছে।

কমিটি বাংলাদেশের প্রণীত ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস)’ বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকারকে স্বাগত জানিয়েছে। সিডিপির মতে, প্রস্তুতি পর্ব সম্প্রসারিত হলে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব আরো গভীরভাবে মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং উত্তরণ-পরবর্তী বাজার সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সিডিপি প্রস্তুতিকাল এবং উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে। এর মধ্যে সহজ শর্তে অর্থায়ন, এলডিসি-সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার যথাযথ সম্প্রসারণ, কারিগরি সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে কমিটি আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, কর আহরণ বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ জোরদার করা, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

বাংলাদেশ সরকার সিডিপির ইতিবাচক মূল্যায়ন ও সুপারিশকে স্বাগত জানিয়েছে। সরকারের বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি টেকসই, মসৃণ ও সফল এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।