• ই-পেপার

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম

ইসলামী ব্যাংকে চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদে মানববন্ধন

গ্রাহকরা বেঁচে থাকতে খুরশীদ আলম অফিস করতে পারবেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক
গ্রাহকরা বেঁচে থাকতে খুরশীদ আলম অফিস করতে পারবেন না
ছবি : কালের কণ্ঠ

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। সোমবার (২৫ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে সংগঠনটির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ব্যাংক ডাকাতির পথ সহজ করতেই বিতর্কিত ব্যক্তিকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকরা বেঁচে থাকতে খুরশীদ আলম ইসলামী ব্যাংকে অফিস করতে পারবেন না।

বক্তারা অবিলম্বে এই নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করে রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে, দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগের দাবি জানান।

মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে ফোরামের সভাপতি শাহিন আহমেদ খান বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়। এটি এ দেশের কোটি গ্রাহকের কষ্টার্জিত আমানতের ব্যাংক। অতীতে ব্যাংক খাতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ গ্রাহকের আস্থা ধসে পড়েছে। নতুন করে এই বিতর্কিত নিয়োগ সেই সংকট ও আস্থার সংকটকে আরো ঘনীভূত করবে।

তিনি আরো বলেন, দেশের বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনায় স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের আস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদে বসানো হলে ব্যাংকটির ভাবমূর্তি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মানববন্ধনে ফোরামের সাধারণ সম্পাদকসহ অর্থনীতিবিদ, গ্রাহক প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। তারা ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (বাংলাদেশ ব্যাংক) প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।

মানববন্ধন চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা বিতর্কিত নিয়োগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। সমাবেশ শেষে নেতারা জানান, চেয়ারম্যান নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি পেশ করবেন।

বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দামে বড় লাফ, দেশে ভরি কত?

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দামে বড় লাফ, দেশে ভরি কত?
স্বর্ণ ও রুপার গয়না। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার আভাসে বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় লাফ দেখা গেছে। ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তি হতে পারে—এমন আশা তৈরি হওয়ায় সোমবার (২৫ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম এক ধাক্কায় ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। শান্তিচুক্তির এই গুঞ্জনে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের মান এবং অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বাড়ার যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কমে এসেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, সোমবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৫৯ দশমিক ৭ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে, জুন মাসে সরবরাহযোগ্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৫৯ দশমিক ৮০ ডলারে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনার কথা বলে ট্রাম্প বাজারে আশার সঞ্চার করেছেন। কারণ এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া হতে পারে। এই সম্ভাবনা তেলের দাম কমিয়ে দিয়েছে এবং এর প্রভাবে মূল্যস্ফীতির দৃষ্টিকোণ থেকে স্বর্ণের বাজার ইতিবাচক সমর্থন পেয়েছে।’

এ ছাড়া রুপার দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৭ দশমিক ৭৯ ডলার, প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৬৬ দশমিক ৫৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৩৮৪ দশমিক ৭০ ডলার।

এদিকে দেশের বাজারে এখন প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন করে ৩ বছর মেয়াদি সংস্কার কর্মসূচিতে সম্মত বাংলাদেশ ও আইএমএফ

বাসস
নতুন করে ৩ বছর মেয়াদি সংস্কার কর্মসূচিতে সম্মত বাংলাদেশ ও আইএমএফ

বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্কারসমূহ যাতে বাস্তবসম্মত, পর্যায়ভিত্তিক এবং বাস্তবায়নযোগ্য হয়, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন করে তিন বছর মেয়াদি সংস্কার কর্মসূচির কাজ শুরু করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

আজ (সোমবার) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২১ মে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের মধ্যে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান আইএমএফ কর্মসূচির অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী সরকারের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং কাঠামোগত সংস্কার অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। 

তবে বর্তমান আইএমএফ কর্মসূচি ভিন্ন অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রেক্ষাপটে গ্রহণ করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তীতে উদ্ভূত দেশীয় বাস্তবতা, রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে কিছু সংস্কার বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও বাস্তবসম্মত ও ধাপে ধাপে এগোনোর পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রেক্ষাপটকে প্রতিফলিত করে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি নবনির্বাচিত সরকারের অধীনে নতুন করে তিন বছরের কর্মসূচি প্রস্তাব করেন, যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাস্তবসম্মত সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেবে।

বৈঠকে নাইজেল ক্লার্ক বাংলাদেশের সংস্কার উদ্যোগ এবং নতুন কর্মসূচি গ্রহণের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের গঠনমূলক ও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উভয় পক্ষ দ্রুত নতুন কর্মসূচি প্রণয়নের কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে একমত হয়।

অর্থমন্ত্রী সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক গ্রুপ-আইএমএফ বসন্তকালীন বৈঠকের আলোচনার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সরকার ওই বৈঠকের আলোচনার ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা সম্পন্ন করেছে।

বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রস্তাবিত সংস্কার কর্মসূচির সফলতা নিশ্চিতে উভয় পক্ষ অঙ্গীকার ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে বৈঠকটি শেষ হয়।

ধাপে ধাপে সংস্কার বাস্তবায়নে জোর, আইএমএফের সঙ্গে নতুন সমঝোতার ইঙ্গিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
ধাপে ধাপে সংস্কার বাস্তবায়নে জোর, আইএমএফের সঙ্গে নতুন সমঝোতার ইঙ্গিত

বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সঙ্গে চলমান কর্মসূচির বাস্তবতা পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন কাঠামোয় এগোনোর ইঙ্গিত দিয়েছে। সরকার বলছে, পরিবর্তিত দেশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে (সিকোয়েন্সিং) অগ্রসর হওয়াই হবে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ। একই সঙ্গে নবনির্বাচিত সরকারের অধীনে নতুন একটি আইএমএফ কর্মসূচি নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আইএমএফ’র উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের মধ্যে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান আইএমএফ কর্মসূচির অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়।

আরো পড়ুন
কুমিল্লায় জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী মিরশানী গরুর হাট

কুমিল্লায় জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী মিরশানী গরুর হাট

 

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশিলতা বজায় রাখা এবং কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বর্তমান আইএমএফ কর্মসূচিটি ভিন্ন অর্থনৈতিক ও নীতিগত বাস্তবতায় নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক অর্থনীতি, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের কারণে কিছু সংস্কার বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সরকার সংস্কার কার্যক্রম থেকে সরে আসতে চায় না। বরং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অগ্রাধিকারভিত্তিক ও বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কার কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগিয়ে নিতে আগ্রহী। এ প্রেক্ষাপটে নবনির্বাচিত সরকারের অধীনে তিন বছর মেয়াদি নতুন একটি আইএমএফ কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন কর্মসূচিতে বাস্তবভিত্তিক সময়সীমার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্ক বাংলাদেশের সংস্কার উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের ঘনিষ্ঠ ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরো পড়ুন
ড. ইউনূসের ‘মিথ্যা আশ্বাস’, প্রতারিত রোহিঙ্গারা জড়াচ্ছে নানা অপকর্মে

ড. ইউনূসের ‘মিথ্যা আশ্বাস’, প্রতারিত রোহিঙ্গারা জড়াচ্ছে নানা অপকর্মে

 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতা এবং ব্যাংক খাতের সংস্কারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। ফলে একযোগে কঠোর সংস্কারের বদলে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন কর্মসূচির আলোচনায় করনীতি সংস্কার, জ্বালানি মূল্য সমন্বয়, ব্যাংকিং খাতের সুশাসন, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময়সীমাও আরো নমনীয় হতে পারে।

বৈঠকে উভয়পক্ষই একটি বাস্তবসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য নতুন আইএমএফ কর্মসূচি এবং এ সংক্রান্ত কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে।