• ই-পেপার

ডিম-মুরগি উৎপাদন বন্ধের কর্মসূচি প্রত্যাহার

দর বাড়ার পর আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

অনলাইন ডেস্ক
দর বাড়ার পর আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

দেশের বাজারে সর্বশেষ সমন্বয়ে বাড়ানো হয়েছে সোনার দাম। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মূল্যবান এই ধাতু দুটি বিক্রি হচ্ছে সর্বশেষ নির্ধারিত দামে।

সবশেষ গত ১৫ জুন সোনার দাম বাড়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতু দুইটির দাম যথাক্রমে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা ও ২৩৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। সেদিন সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
 
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতিভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতিভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতিভরি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি সোনা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এর আগে, সবশেষ গত ১৩ জুন সকালে দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতিভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতিভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি সোনার দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ৩৯ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৩৬ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

চার্জশিটের খসড়া চূড়ান্ত

রিজার্ভ চুরিতে ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান

অভিযুক্তদের মধ্যে সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ ১০ জন বাংলাদেশের ১৫০ পৃষ্ঠার খসড়া চার্জশিটের মতামত চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে সিআইডির চিঠি

মোবারক আজাদ
রিজার্ভ চুরিতে ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ দেশি-বিদেশি ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বহুল আলোচিত এ মামলার খসড়া অভিযোগপত্র ও ডকেট প্রস্তুত করে আইনি মতামতের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জমা দিয়েছে।

ওই সব নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক কেলেঙ্কারির এ ঘটনায় বাংলাদেশসহ সাত দেশের মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জড়িত ছিল। এর মধ্যে ফিলিপাইনের ৩৬, বাংলাদেশের ১০, নর্থ কোরিয়ার দুই, চীনের তিন, শ্রীলঙ্কার আট, জাপানের  এক, ভারতের চার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।

১৫০ পৃষ্ঠার খসড়া অভিযোগপত্রে ফরেনসিক এই মামলার প্রমাণ হিসেবে রয়েছে বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং অর্থপাচারের জটিল নেটওয়ার্কের বিস্তারিত বিবরণ। মামলার প্রমাণক হিসেবে রয়েছে ১০ হাজার পৃষ্ঠার কাগজপত্র।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত অভিযোগপত্র আদালতে উপস্থাপন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করা গেলে তা দেশের আর্থিক খাতে সংঘটিত অপরাধের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

সিআইডির একটি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের অভিযুক্তদের মধ্যে ড. আতিউর রহমান ছাড়াও রয়েছেন আনিস এ খান, কে এম আব্দুল ওয়াদুদ, শুভংকর সাহা, রেজাউল করিম, জোবায়ের বিন হুদা, এ এফ এম আসাদুজ্জামান, মেজবাউল হক, আবুল কাসেম ও মো. সুলতান মাসুদ আহমেদ। এ ছাড়া ভারতের মধ্যে রয়েছে প্রিথাম রেড্ডি, সুধীন্দ্র আথ্রেশ, নীলাভান্নান মাদুক্কুর  আনন্দন ও রাশে আস্থানা।

জানতে চাইলে রিজার্ভ চুরির মামলার সর্বশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির ফিন্যানশিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে।

আমরা শতভাগ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একটি নির্ভুল খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছি। তবে আমাদের এখনো অ্যানালিসিস চলছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের আইনি মতামত পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা ধারণা করছি, ৬০ জনের বেশি চার্জশিটে নাম থাকবে। এর বেশি কিছু এই মুহূর্তে বলা সম্ভব না।’

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সিআইডি চাচ্ছে দ্রুত শতভাগ নির্ভুল একটি চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দিতে। এই মামলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনেক পরিশ্রম করে দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করেছেন।

এর আগে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ কবির। তিনি ২০২৫ সালের মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ এবং প্রধান অভিযুক্তকে শনাক্ত করার কাজ করেন। তিনি জানান, ফরেনসিক বিশ্লেষণের পর মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সহায়তায় নর্থ কোরিয়ার হ্যাকার পার্ক জিন হিয়ক ও তাঁর নেতৃত্বাধীন ‘লাজারাস গ্রুপকে’ মূল অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। একই সময় ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের মাধ্যমে পাচার হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলারের গতিপথও শনাক্ত করা হয়।

সিআইডি সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অজ্ঞাতপরিচয় হ্যাকাররা সুইফট পেমেন্ট সিস্টেমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি করে। ঘটনার প্রায় ৪০ দিন পর ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করে বাংলাদেশ ব্যাংক। শুরু থেকেই মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি। গত বছরের ১১ মার্চ সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। ওই কমিটির তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্ত চূড়ান্ত করা হয়। পরে চলতি বছরের ১ এপ্রিল খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয় এবং আইনি মতামত চাওয়া হয়।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মামলাটির তদন্ত করেন সিআইডির তৎকালীন অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ ইয়াসিন। এ সময় মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মং থোয়াই মারমা।

মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বর্তমান অতিরিক্ত ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত তদন্ত পরিচালনা করেন। তিনি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) প্রক্রিয়ায় দেশি-বিদেশি ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার তথ্য সংগ্রহ করেন এবং চুরি হওয়া অর্থের একটি অংশ ফেরত আনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেন।

সাত বছরের তদন্তের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘চুরির ৪০ দিন পর মামলা দায়ের হওয়ায় আমরা প্রকৃত ক্রাইম সিনে যেতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। এর আগেই বিদেশি ও দেশীয় কিছু অননুমোদিত ব্যক্তি ক্রাইম সিনে প্রবেশ করেছিলেন। এর পরও সিআইডির দল অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দেশ-বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে। ফিলিপাইন, ভারত ও জাপান থেকে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। ফিলিপাইনের আরসিবিসির ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মায়া দিগুতির জবানবন্দিও নেওয়া হয়, যেখানে তিনি একাধিক বিদেশি আসামির সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।’

জানা যায়, তদন্ত চলাকালে কয়েক দফা বাংলাদেশি আসামিদের নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তাঁকে (রায়হান উদ্দিন) চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কারো নাম বাদ দিতে রাজি না হওয়ায় ২০২৩ সালের আগস্টে তাঁকে তদন্তের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

জানা যায়, ২০২০ সালের ১ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে রিজার্ভ চুরিসংক্রান্ত আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠক হয়। সেখানে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রসচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, গভর্নর, হেড অব বিএফআইইউ, সিআইডির প্রধান ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তাঁরা বাংলাদেশের অপরাধীদের নাম বাদ দিয়ে চার্জশিট দিতে নির্দেশ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় এক পর্যায়ে ওই সভা থেকে তাঁকে ও মামলা তদারককারী কর্মকর্তা বিশেষ পুলিশ সুপার মোস্তফা কামালকে বের করে দেওয়া হয়।

জানা যায়, ২০২২ সালের আগস্টে মোহাম্মাদ আলী সিআইডি প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। এরপর তিনি একাধিকবার মামলা নিয়ে বসেন। প্রথম থেকেই তাঁর কথা ছিল বাংলাদেশি কোনো আসামির নামে চার্জশিট দেওয়া যাবে না। এরপর ২০২৩ সালের ৮ এপ্রিল ফরেনসিক রিপোর্ট আসার পর মোহাম্মাদ আলী বলেন, এই ফরেনসিক রিপোর্ট ইংরেজিতে করে বিদেশি একটি ল ফার্মকে দিতে হবে। কিন্তু এই ফরেনসিক রিপোর্ট কাউকে দেওয়া সম্ভব নয়। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে তিনি বাংলাদেশি আসামিদের বাদ দিয়ে চার্জশিট দিতে কয়েকবার চাপ দেন।

সূত্র জানায় সে সময় রায়হান উদ্দিন খান জানান, সব অপরাধীর সাক্ষ‍্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। এ অবস্থায় কোনোভাবেই কারো নাম বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। এরপর ৫ আগস্ট ২০২৩ সালে তাঁকে মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বদলি করা হয় সিআইডির জয়পুরহাট জেলায়। এরপর আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে তাঁকে আবার বদলি করা হয় এন্টি টেররিজম ইউনিটে (এটিইউ)। এরপর মামলার পরবর্তী আইও ডকেট ও অন্যান্য কাগজপত্র বুঝে নেন। চালানমূলে তাঁকে সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী হস্তান্তর করে এটিইউতে যোগদান করেন। পরে জানতে পারেন, ফরেনসিক রিপোর্ট পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে বিদেশি ল ফার্মকে সরবরাহ করা হয়। এটা সরবরাহ করা ঠিক হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পরে মার্চ ২০২৫ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত রায়হান এসও হিসেবেও কন্টিবিউট করেছেন বলে জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির সময় সিআইডির প্রধান ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ। তিনি বলেন, তদন্তকারী দল নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রায় শতভাগ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও যাচাই করে খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে। এতে দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্ট সব অভিযুক্তের অপরাধের ধরন ও দায়দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে ড. আসিফ নজরুলের নেতৃত্বাধীন পর্যালোচনা কমিটি সূত্রে জানা যায়, ‘সাত বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা মামলাটিকে এগিয়ে নিতে অন্তর্বর্তী সরকার উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে। তদন্তে দেশীয় ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছিল। তাদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্কতার কারণে তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার সেই চেষ্টা সফল হয়নি। প্রায় ১০ বছর পর রিজার্ভ চুরির মামলার খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত হওয়ায় দেশের আর্থিক খাতে বহুল আলোচিত এই কেলেঙ্কারির বিচারপ্রক্রিয়া অবশেষে শুরু হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

চালের দাম স্থিতিশীল—বাজার পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
চালের দাম স্থিতিশীল—বাজার পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী

বাজারে চালের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি বর্তমানে যথেষ্ট স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সরকারের হাতে চাল ও গমের সন্তোষজনক মজুদ রয়েছে।

রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা চালের বাজার পরিদর্শন শেষে আজ বুধবার এ কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। দুপুরে বাদামতলী পাইকারি চালের বাজার ও নয়াবাজারের খুচরা বাজার পরিদর্শন করেন মন্ত্রী।

একটি সংবাদপত্রে চালের বাজারে মূল্য বৃদ্ধির খবর প্রকাশিত হওয়ার পর পরিস্থিতির সত্যতা যাচাই করতে মন্ত্রী সরেজমিন যান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ঈদের পর কোনো কোনো ধরনের চালের দাম কেজিতে এক থেকে দেড় টাকা বেড়েছে বলে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন। তবে তা বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয় না।

কিছু মিল মালিক বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে জানান মন্ত্রী। কিন্তু বাজারে সেই দাম কার্যকর হয়নি এবং পরবর্তীতে তা কমে এসেছে বলে দাবি তার।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মানের চালের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই দুই থেকে চার টাকার মূল্য পার্থক্য থাকে। নতুন ও পুরনো চালের মধ্যেও দাম কিছুটা ভিন্ন হয়। নতুন চালের ফলন ভালো হলে তার দাম তুলনামূলক কম থাকে। এ ধরনের এক-দুই টাকার ওঠানামা বাজারের স্বাভাবিক প্রবণতা।

ট্রিলিয়ন ডলারের দেশে পরিণত করতে ১০ খাতকে অগ্রাধিকার

অনলাইন ডেস্ক
ট্রিলিয়ন ডলারের দেশে পরিণত করতে ১০ খাতকে অগ্রাধিকার

বাংলাদেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে আগামী অর্থবছরের বাজেটে ১০ খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। 

সরকারের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা ও কৌশল সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০৩৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে। একই সঙ্গে জনমিতিক, দীর্ঘজীবিতা ও গণতান্ত্রিক লভ্যাংশ অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। 

এ লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনার কথাও বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে।

প্রথম অগ্রাধিকার ‘সবার জন্য উন্নয়ন’। বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে সর্বস্তরের মানুষ, সব খাত ও সব অঞ্চলের সুষম অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

দ্বিতীয় অগ্রাধিকার ‘সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা’। বাস্তবমুখী, দক্ষতানির্ভর ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা এবং সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয় অগ্রাধিকার ‘সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা’। জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলে সব বয়স ও শ্রেণির মানুষের জন্য সুরক্ষা বলয় সম্প্রসারণের মাধ্যমে কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চতুর্থ অগ্রাধিকার ‘বিনিয়োগনির্ভর, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি’। পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিকে খাদ্যনিরাপত্তার কৌশলগত খাত হিসেবে আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।

পঞ্চম অগ্রাধিকার ‘বিনিয়ন্ত্রণকরণ এবং সাশ্রয়ী ও সহজিকৃত ব্যবসার পরিবেশ’। সরকারি কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও বিলম্ব কমিয়ে স্বচ্ছ, সহজ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ষষ্ঠ অগ্রাধিকার ‘আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা’। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পুঁজিবাজার সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সপ্তম অগ্রাধিকার ‘জ্বালানি নিরাপত্তা’। উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ড সচল রাখতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অষ্টম অগ্রাধিকার ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ’। প্রযুক্তিগতভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলে দেশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান আইসিটি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নবম অগ্রাধিকার ‘প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা’। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বনায়ন সম্প্রসারণ, নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার এবং খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর মাধ্যমে টেকসই ও পরিবেশ-সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

দশম অগ্রাধিকার ‘স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা’। মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগ বাস্তবায়ন আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারের মতে, এসব অগ্রাধিকার বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার পথ সুগম হবে।