• ই-পেপার

বিজয়ের ৫৪ বছর

অর্থনৈতিক মুক্তি মেলেনি, এখনো সমাজে বৈষম্য

ইসলামী ব্যাংকে দ্রুতই এমডি নিয়োগ দেওয়া হবে : অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
ইসলামী ব্যাংকে দ্রুতই এমডি নিয়োগ দেওয়া হবে : অর্থমন্ত্রী

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগে মনোনয়ন চূড়ান্ত, দ্রুতই এই পদে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংসদে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর এবং সচল করতে আপনার (অর্থমন্ত্রী) মন্ত্রণালয়ের কী কী পরিকল্পনা রয়েছে।

জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম, ২০২৫ অনুসারে রেজল্যুশনের আওতাধীন পাঁচটি ব্যাংকের গ্রাহকরা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে তাদের আমানত উত্তোলন করতে পারছেন। এরই মধ্যে সরকার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিচালক পর্ষদের চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়েছে এবং তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তা ছাড়া পর্ষদে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের জন্য মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান। নতুনভাবে গঠিত পরিচালনা পর্ষদ এ বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধানে ব্যাংকটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ কার্যকর ও পূর্ণ লেনদেন চালু করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সাংগঠনিক কাঠামো এবং চাকরি প্রবিধানমালা প্রস্তুতকরণ, আইটি, সিবিএস, জনবল এবং শাখাসমূহ একীভূতকরণ, কম্পানি সেক্রেটারি, চিফ ফাইন্যান্স অফিসার এবং চিফ টেকনোলজি অফিসার নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান। এসব সম্পন্ন করার মাধ্যমে স্বাভাবিক ব্যাবসায়িক কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।

রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

নিজস্ব প্রতিবেদক
রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
সংগৃহীত ছবি

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বেড়ে ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে। বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ১০৩ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ৩৬ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারের সমান। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১.৫৫ বিলিয়ন ডলার।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

এর আগে ২৩ জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৫ হাজার ৭৯৮ দশমিক ১১ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩১ হাজার ২৪৪ দশমিক ২২ মিলিয়ন ডলার। আর ২২ জুন গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৫ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৬১ মিলিয়ন ডলার, যেখানে বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩১ হাজার ১৮১ দশমিক ০৬ মিলিয়ন ডলার। ধারাবাহিকভাবে কয়েকদিনের ব্যবধানে রিজার্ভ বৃদ্ধির এই প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, নিট রিজার্ভ হিসাব করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায় বাদ দিলে নিট বা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমায় রিজার্ভে এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে।

সঞ্চয়পত্র বিক্রি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক
সঞ্চয়পত্র বিক্রি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নির্দেশ
সংগৃহীত ছবি

সঞ্চয়পত্র বিক্রির তালিকাভুক্ত ব্যাংক হওয়া সত্ত্বেও গ্রাহকদের বিভিন্ন উপায়ে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সঞ্চয়পত্র বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট (ডিএমডি) থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) কাছে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে, সঞ্চয়পত্র বিক্রির জন্য অনুমোদিত থাকা সত্ত্বেও কিছু ব্যাংক নানা প্রক্রিয়ায় গ্রাহকদের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করছে। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এসেছে।

এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সঞ্চয়পত্র রুলস, ১৯৭৭-এর অনুচ্ছেদ-৩ অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে সঞ্চয়পত্রের ইস্যু অফিস হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের কাছে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান এবং সেবার মান নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর শাখা পর্যায়ে সঞ্চয়পত্র সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করতে হবে। পাশাপাশি গ্রাহকদের অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা শাখার দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন এবং অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ডিএমডির পরিচালক ইস্তেকমাল হোসেন সই করা নির্দেশনায় সঞ্চয়পত্র বিক্রিসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবা যথাযথভাবে নিশ্চিত করার জন্য ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

ব্যাংক খাত শক্তিশালী করতে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

অনলাইন ডেস্ক
ব্যাংক খাত শক্তিশালী করতে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ভিত্তি শক্তিশালী করতে ৪৫০ মিলিয়ন (৪৫ কোটি) ইউএস ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বোর্ড। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তরান্বিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির পূর্বশর্ত হিসেবে এই অর্থায়ন করা হচ্ছে।

বুধবার (২৪ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস।

এর আগে গত বুধবার (২৩ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তর থেকে এই অর্থায়ন অনুমোদন করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’-এর আওতায় এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ছোট আমানতকারীদের সুরক্ষায় ‘আমানত সুরক্ষাব্যবস্থা’ জোরদার করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা ও পদ্ধতি গড়ে তোলা।

এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার এবং ব্যাংক রেজল্যুশনের ভিত্তি তৈরি করবে এই প্রকল্প। এটি আমানত সুরক্ষা তহবিলের মূলধন বাড়িয়ে এর সক্ষমতা বাড়াবে। পাশাপাশি জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা, ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশল তৈরি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কারে সহায়তা করবে।

বিশ্বব্যাংক জানায়, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে দুর্বল করপোরেট গভর্ন্যান্স, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতা এবং বেআইনি ঋণ প্রদানের কারণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের শেষ নাগাদ দেশে খেলাপি ঋণের  হার দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য ব্যাংকের গড় হারের (৭ দশমিক ৯ শতাংশ) চেয়ে অনেক বেশি। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পুরো ব্যাংক খাতে ঝুঁকি-ভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধনের অনুপাত ছিল ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেসমে বলেন, ‌‌‘বাংলাদেশ এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তার জন্য একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত প্রয়োজন। কিন্তু ব্যাংক খাত—যা মোট আর্থিক খাতের সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ—বর্তমানে তীব্র চাপের মুখোমুখি।’

তিনি আরো বলেন, ‌‘এই প্রকল্পটি ছোট আমানতকারীদের রক্ষা করতে এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, ব্যবস্থা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। এটি ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে।’

অর্থনৈতিক মুক্তি মেলেনি, এখনো সমাজে বৈষম্য | কালের কণ্ঠ