• ই-পেপার

বেনামি ঋণে ব্যাংকিং খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

অনলাইন ডেস্ক
আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
সংগৃহীত ছবি

বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে ওঠানাম করছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার।

দেশীয় বাজারে মার্কিন ডলারসহ আন্তর্জাতিক প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ওঠানামা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী আজকের (৩০ জুন ২০২৬) মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা

ইউএস ডলার : ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা
ইউরো : ১৪০ টাকা ২৯ পয়সা
পাউন্ড : ১৬২ টাকা ৮৫ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার : ৮৬ টাকা ৪২ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৪ টাকা ৫৯ পয়সা
চাইনিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ০৬ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৪ টাকা ৯৮ পয়সা
ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৯ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ৩২ পয়সা
সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৮৪ পয়সা
কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৮১ পয়সা
কুয়েতি দিনার : ৩৯৮ টাকা ৪২ পয়সা
আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৬০ পয়সা

*মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলা বাজার ও অফিশিয়াল রেটের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। বিগত এক মাসে ডলারের গড় বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে, যা আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক।

বুধবার ‘ব্যাংক হলিডে’, বন্ধ থাকবে লেনদেন

অনলাইন ডেস্ক
বুধবার ‘ব্যাংক হলিডে’,  বন্ধ থাকবে লেনদেন
সংগৃহীত ছবি

আগামীকাল বুধবার (১ জুলাই) ব্যাংক হলিডে। এদিন ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাক‌বে। একই সঙ্গে বন্ধ থাকবে শেয়ারবাজারের লেনদেনও। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা খোলা থাক‌বে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিবছর ১ জুলাই দেশের ব্যাংক খাতে ‘অর্ধবার্ষিক সমাপনী’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ সময় ব্যাংকগুলো ছয় মাসের হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করে। এই কাজের সুবিধার্থে দিনটি ব্যাংক হলিডে হিসেবে পালন করা হয়।

এদিন ব্যাংকের কোনো শাখা থেকে টাকা জমা বা উত্তোলন করা যাবে না। বন্ধ থাকবে চেক নিষ্পত্তি, ডিমান্ড ড্রাফট, পে অর্ডার, এটিএম ট্রানজেকশন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আন্তঃব্যাংক লেনদেনসহ যাবতীয় কার্যক্রম। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাখা সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। এসব অফিসে শুধু প্রশাসনিক ও হিসাবসংক্রান্ত কার্যক্রম চলবে।

প্রসঙ্গত, ১ জুলাই বিভিন্ন শাখা থেকে পাঠানো হিসাব একত্রিত করে অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করে ব্যাংকগুলো। এটি একটি সময়সাপেক্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এ সময় ব্যাংক কর্মকর্তারা যেন নির্বিঘ্নে অভ্যন্তরীণ হিসাব ও প্রশাসনিক কাজ করতে পারেন সে জন্য গ্রাহকদের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকে।

আরো কমল সোনার দাম, ভরি যত?

অনলাইন ডেস্ক
আরো কমল সোনার দাম, ভরি যত?
সংগৃহীত ছবি

দেশের বাজারে সোনার দাম আরো কমানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম কমানো হয়েছে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বাজুস।

আজ মঙ্গলবার স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাজুস। এই নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে বলে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গতকাল ২৯ জুন ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হয় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। ফলে দুই দিনে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমল ৬ হাজার ৫৯০ টাকা।

নতুন দাম অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার  দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ও ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা।

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের বিতর্কিত ধারা বাতিল হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের বিতর্কিত ধারা বাতিল হচ্ছে

ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬–এর বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে এ ধারা বিলোপের সিদ্ধান্ত হয় বলে মন্ত্রী গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর দেওয়া সমাপনী বক্তব্যে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যারা জনগণের সম্পদ লুট করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। 

এ সময় একীভূত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের পথনকশা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমানতকারীদের অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের করা ব্যাংক রেজল্যুশন আধ্যাদেশটি গত ১০ এপ্রিল আইনে পরিণত করে বিএনপি সরকার। আইনটি সংসদে পাসের আগে ১৮(ক) নামে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়।

ওই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক রেজল্যুশনের আওতায় যাওয়ার আগে যারা এর শেয়ার ধারক ছিলেন, তারা চাইলে পরে আবার সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও এ সুযোগ দিতে পারবে।

এদিকে ধারাটি যুক্ত করার পর শুরু হয় বিতর্ক। সংসদে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, এস আলমসহ বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের হাতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতেই এই ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

 

একীভূত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের বিষয়ে গতকাল অর্থমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তিগত আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা তুলতে পারবেন। অবশিষ্ট অর্থ ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে। ক্যানসার ও কিডনি ডায়ালাইসিস রোগী, হজ সঞ্চয়কারী এবং ডিপিএস গ্রাহকদের জন্য বিশেষ মানবিক সুবিধাও রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে অর্থ বিলে একগুচ্ছ সংশোধনী আনা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, জিরো কুপন বন্ডের আয় করমুক্ত করা, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কম্পানির জন্য করছাড়, ব্যাংকিং চ্যানেলে সব লেনদেন সম্পন্ন করা কম্পানিকে অতিরিক্ত করসুবিধা এবং লভ্যাংশের ওপর করহার কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ডে কর রেয়াতের জন্য পাঁচ লাখ টাকার বিনিয়োগসীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাবও করা হয়েছে।

গত মে মাস পর্যন্ত ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় দেশে ও বিদেশে প্রায় ৭২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ১৩টি দেশে ২৩টি ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট’ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বড় ঋণগ্রহীতা ছয়টি গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রথম ধাপে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ ছয় হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, ৬০টি পণ্যের উৎসে কর কমানো, ব্যবসা সহজ করতে ডিরেগুলেশন, সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাজারে কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। 

তিনি জানান, মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে সরকার শুধু অর্থনৈতিক কর্মসূচি নয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করছে।