kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ব্যয় ও সময় বাড়লেও নির্মিত হয়নি ৩৪ সারের গুদাম

♦ ৪৮৫ কোটি ৪৮লাখ টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব ♦ শুরুতে ব্যয় ধরা হয় ১৯৮৩ কোটি টাকা ♦ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে মাত্র ১৮ শতাংশ ♦ চার বছর ধরে চলছে প্রকল্পের কাজ

সজীব হোম রায়   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৯:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্যয় ও সময় বাড়লেও নির্মিত হয়নি ৩৪ সারের গুদাম

সার সংরক্ষণ ও বিতরণের সুবিধার্থে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাফার গুদাম নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে এই গুদাম নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত ৩৪টির মধ্যে ২৪টির জন্য জমি পাওয়া গেলেও ১০টি গুদামের জায়গা নির্ধারণ করাই সম্ভব হয়নি। এর পরও প্রকল্পের ডিপিপিতে আনা হয়েছে সংশোধন।

বিজ্ঞাপন

এ কারণে ৪৮৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটি এক হাজার ৯৮৩ কোটি চার লাখ টাকায় বাস্তবায়নের জন্য একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। এরপর শিল্প মন্ত্রণালয় প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ায়। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় এর কাজ থমকে আছে। তাই শিল্প মন্ত্রণালয় প্রকল্পের ব্যয় ২৪.৩৩ শতাংশ বাড়িয়ে দুই হাজার ৪৬৫ কোটি ৫২ লাখ টাকার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরেছে। পাশাপাশি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পের প্রথম সংশোধন প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রথম সংশোধনীর খুঁটিনাটি যাচাই করতে সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় এসব বিষয় উঠে এসেছে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশে সারের মজুদ সুনিশ্চিত করা, আপৎকালীন সময়ের জন্য সার মজুদকরণ এবং দ্রুত সময়ে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে সার পৌঁছানোর জন্য দেশে আরো ৩৪টি বাফার গোডাউন নির্মাণ করা।

৪ বছরে প্রকল্পের অগ্রগতি ১৮ শতাংশ

সভা সূত্রে জানা যায়, সভায় বিসিআইসির চেয়ারম্যান জানান, ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় ২২২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, এটি প্রকল্প ব্যয়ের ১১.২১ শতাংশ। এর বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ১৮.১৫ শতাংশ।

১০ গোডাউনের জন্য জমি পাওয়া যায়নি

প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার জটিলতা, প্রস্তাবিত জমির মধ্যে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকা, রেলওয়ের জমি, খাসজমি ও নদী শ্রেণির জমি থাকা, রাস্তাসংক্রান্ত জটিলতা, পরিবেশ ছাড়পত্র প্রাপ্তিতে বিলম্ব, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জমি পরিবর্তনের প্রস্তাব, করোনাকালীন সাধারণ ছুটি ও লকডাউনের কারণে জমি অধিগ্রহণ তথা প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের আওতায় ৩৪টির মধ্যে ২৪টি গোডাউনের জন্য জমি পাওয়া গেছে। বাকি জমিগুলো অধিগ্রহণের কাজ চলমান।

মেয়াদ শেষ হওয়ার ২ মাস পর সংশোধনের প্রস্তাব

প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াকরণসংক্রান্ত পরিপত্র অনুসারে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তিন মাস আগে সংশোধন প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাতে হয়। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হওয়ার পর সংশোধিত ডিপিপি প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের অগ্রগতি সংক্রান্ত উপস্থাপনা থেকে দেখ যায়, ছয়টি জমির অধিগ্রহণ ২০১৯ ও ২০২২ সালের মধ্যে এবং ১০টি জমির অধিগ্রহণ ২০১১ সালের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু টেন্ডার আহ্বান করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় দুটিই বেড়েছে। বিষয়টি ওই সভায় সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানও স্বীকার করেছেন।

সভায় তিনি বলেন, ‘যেহেতু ২০১৮ সাল থেকে চার বছরে জমির অধিগ্রহণ কার্যক্রমই সম্পন্ন হয়নি এবং বাকি ১০টি গুদামের জন্য জমি কবে পাওয়া যাবে তা-ও সুনির্দিষ্ট নয়, সেহেতু প্রল্পটি শুধু প্রাপ্ত ২৪টি জায়গায় গুদাম নির্মাণের জন্য সুনির্দিষ্ট রেখে ডিপিপি পুনর্গঠন করলে প্রকল্পটির ব্যয় সংকোচন করা সম্ভব হবে। আর এতে প্রকল্পের বাস্তবায়নও ত্বরান্বিত হবে। ’



সাতদিনের সেরা