• ই-পেপার

পুঁজিবাজার : সূচকের উত্থানে চলছে লেনদেন

বিশ্ববাজারে বাড়ছে সোনা-রুপার দাম

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববাজারে বাড়ছে সোনা-রুপার দাম
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ফের বেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে টানা তিন কার্যদিবস ধরে চলা দরপতনের অবসান ঘটল। সোমবার (২২ জুন) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ার বিষয়টিকে সোনার দাম বাড়ার পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) কঠোর মুদ্রানীতির কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনো এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে।

বাজারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৮ দশমিক ৫৮ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে গত শুক্রবার ধাতুটির দাম গত ১১ জুনের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। অন্যদিকে, আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন সোনার ফিউচার বা ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২২৬ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

স্বাধীন বাজার বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, ‘তেল বাজার থেকে বিনিয়োগকারীরা গরম টাকা তুলে নিয়ে পুনরায় সোনার বাজারে খাটানোর কারণে সোনা এই মুহূর্তে কিছুটা সুবিধা পাচ্ছে।’

খবরে বলা হয়েছে, সুইজারল্যান্ডে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রথম দফার বৈঠক শেষ হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, আলোচনায় বেশ ভালো অগ্রগতি হয়েছে। গত এপ্রিলে দুই দেশের মধ্যে সম্মত হওয়া একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও অন্তত ৬০ দিন বাড়ানোর লক্ষ্যে গত সপ্তাহে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এরপরই এই দুই দেশ আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসল।

দুই দেশের এই ইতিবাচক আলোচনার খবর সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে যায়। লন্ডনের বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ হ্রাস পায়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের তীব্র বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছিল, যা মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে জোরালো করে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে সোনার আকর্ষণ কমে যায়, কারণ সোনা থেকে কোনো নিশ্চিত লভ্যাংশ বা সুদ পাওয়া যায় না।

রস নরম্যান আরো জানান, সোনার বাজার এখনই পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়িয়েছে—এমনটা বলার সময় এখনো আসেনি, বিশেষ করে ফেডারেল রিজার্ভ যেখানে তাদের কঠোর অবস্থান বজায় রাখছে।

গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান। তবে ঠিক কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে সুদহার বৃদ্ধি পেছানো হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো আভাস দেননি। তার এই বক্তব্য বাজারে এই ধারণাকে আরও পোক্ত করেছে যে, নিকট ভবিষ্যতেই সুদের হার বাড়তে পারে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা এখন আগামী ডিসেম্বরে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৮৯ শতাংশ মনে করছেন, যা ফেডের বৈঠকের আগে ছিল ৬১ শতাংশ।

মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক মর্গ্যান স্ট্যানলির বিশ্লেষকরা এক পূর্বাভাসে জানিয়েছেন, ‘আমরা সোনার দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনার পক্ষেই আছি। তবে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ভাগে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২০০ ডলারে পৌঁছানো এখন মূলত গোল্ড ইটিএফ-এ নতুন করে বিনিয়োগ এবং তেলের কম দাম কীভাবে সুদের হারের পূর্বাভাসকে প্রভাবিত করে, তার ওপর নির্ভর করছে।’

এদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়লেও যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অস্থিরতার কারণে ব্রিটিশ পাউন্ডের মান কিছুটা কমে গেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর পাউন্ডের এই দরপতন ঘটে।

সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারও সোমবার ছিল চাঙ্গা। স্পট সিলভারের (রুপা) দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৪১ ডলার হয়েছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৭৮ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ২৭৪ ডলার।

দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ২৪৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ২০৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না : বাংলাদেশ ব্যাংক

অনলাইন ডেস্ক
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না : বাংলাদেশ ব্যাংক
সংগৃহীত ছবি

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে নিয়ে কোনো ধরনের রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (২২ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো ব্যাংক খাতের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই ব্যাংকটিতে দ্রুত সৎ, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হবে।

এর আগে সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের দাবি জানান।

আন্দোলনকারীরা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে রাখা যাবে না। একই সঙ্গে ২০১৭ সালের আগে যারা ব্যাংকটির মালিকানার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাদের পুনর্বহাল করতে হবে।

বিক্ষোভকারীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের আলটিমেটাম দেন। অন্যথায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করার কথাও জানান তারা।

এর আগে গত ১৬ জুন পরিচালনা পর্ষদ দ্রুত গঠন ও এস আলমের শেয়ার পুরনো মালিকদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিল ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

মূলত গত ১ জুন থেকে সদ্যবিদায়ী চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের পদত্যাগের দাবিতে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়। ১৩ জুন ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পুরো পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তীতে ব্যাংটির সার্বিক দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে।

ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আগে ব্যবসা শুরু করতে যেখানে আগে প্রায় এক বছর সময় লাগতো, সেখানে এখন মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসা শুরুর সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সঠিক পরিস্থিতিতে একটি কম্পানি ১৫তম দিনেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারবে।

সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শোভন কাজের এজেন্ডা সমন্বয়’ বিষয়ক ডিব্রিফিং সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যৌথ এই আয়োজনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সিডিপি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সময়সীমা নিয়ে যে সুপারিশ দিয়েছে, সেটিকে শুধু অতিরিক্ত সময় পাওয়ার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এটিকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। এই রূপান্তরকালকে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা শক্তিশালীকরণ, উৎপাদনভিত্তি বহুমুখীকরণ এবং এলডিসি-উত্তর বাস্তবতার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি উপস্থাপিত বাজেটে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ অর্থনীতির কথা বলা হয়েছে। এ শব্দগুলো শুধু অলংকার নয়; বরং বর্তমান সরকার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণের মূল ভিত্তি। বাজেটে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, লাইসেন্সিং ব্যবস্থার জটিলতা হ্রাস এবং বাজার বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকার স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, নিয়ম-নীতি প্রতিপালন এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের ওপর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এখন পরিবেশগত সুরক্ষা, শ্রম অধিকার, মানবাধিকার, যথাযথ পর্যালোচনা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে নতুনভাবে গড়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, এই নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতায় যেসব দেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও টেকসই উন্নয়নের সমন্বয় ঘটাতে পারবে, তারাই টিকে থাকবে এবং সমৃদ্ধ হবে। বাংলাদেশ সরকারও এ রূপান্তরকে সমর্থন করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট সেল’ প্রতিষ্ঠা করেছে। এটি সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে উন্নত সমন্বয়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

তিনি জানান, আগামী জুলাই মাসে এসব পরিবর্তন কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে একটি জন ঘোষণা দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এক্সিকিউটিভ মেম্বার মো. হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেকজনিয়াক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি (দ্বিপাক্ষিক-পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

জ্বালানি ও সার আমদানি

আইটিএফসি থেকে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চায় বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
আইটিএফসি থেকে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চায় বাংলাদেশ

জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও সার আমদানির অর্থ জোগাতে আন্তর্জাতিক ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইটিএফসি) কাছ থেকে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন (২৮০ কোটি) ডলার ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ সরকার।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই অর্থায়ন নিয়ে সৌদি আরবের জেদ্দায় ২১ থেকে ২৪ জুন অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক অর্থায়ন পরিকল্পনা সভায় আলোচনা করবে বাংলাদেশ ও আইটিএফসি। বৈঠকে চূড়ান্ত অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ইআরডি সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। তার সঙ্গে থাকবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ।

জ্বালানি আমদানিতে সবচেয়ে বেশি অর্থায়ন
ইআরডি সূত্র অনুযায়ী, প্রস্তুতি সভায় প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে- বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি তেল আমদানির জন্য ২ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার, পেট্রোবাংলা এলএনজি আমদানির জন্য ৬০০ মিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সার আমদানির জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন চাইবে।

বিপিসি জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে জ্বালানি আমদানিতে তাদের প্রয়োজন ছিল ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৭০০ মিলিয়ন ডলার এরই মধ্যে ছাড় হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আগামী অর্থবছরের জন্য বেশি অর্থায়ন সীমা চেয়েছে সংস্থাটি।

এছাড়া আইটিএফসির অর্থায়নে কেনা জ্বালানি এবং সরাসরি স্পট মার্কেট থেকে কেনা জ্বালানির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেন ভবিষ্যৎ দর-কষাকষিতে বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী হয়।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তুলনামূলক স্থিতিশীল অর্থনীতি, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং দেশীয় গ্যাসের মূল্য সমন্বয়ের কারণে অতিরিক্ত ঋণের প্রয়োজন কমেছিল।

তবে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বিকল্প উৎস ও স্পট মার্কেটের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে পেট্রোবাংলা বিদ্যমান চুক্তির আওতায় অনুমোদিত ৬০০ মিলিয়ন ডলারের পুরো অর্থায়ন ব্যবহার করতে চায়।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কাতার এনার্জি, ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড এবং এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিং লিমিটেড পার্টনারশিপসহ কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করেছে। ফলে বাংলাদেশকে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

পেট্রোবাংলা জুন ২০২৬-এ অন্তত দুটি এলএনজি কার্গো কেনার জন্য এই অর্থায়ন ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছে।

সার আমদানিতে অর্থায়নের শর্ত শিথিল চায় বিএডিসি
ইআরডি সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিএডিসির জন্য আইটিএফসি ৫০০ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন পরিকল্পনা করেছিল। এর মধ্যে ২০০ মিলিয়ন ডলার নিশ্চিত এবং ৩০০ মিলিয়ন ডলার জরুরি সহায়তা হিসেবে রাখা হয়েছিল।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সার আমদানির জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে আইটিএফসি সাময়িকভাবে অর্থ ছাড় স্থগিত করেছে।

বিএডিসি জানিয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ আইটিএফসির কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। তবে প্রথম পর্যায়ের ১০০ মিলিয়ন ডলার শুধু সৌদি আরব থেকে সার আমদানির জন্য নির্ধারিত থাকায় তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

সংস্থাটি চায়, ভবিষ্যৎ অর্থায়ন চুক্তিতে কোনও নির্দিষ্ট দেশের ওপর আমদানির শর্ত না রেখে বিশ্বের যেকোনও দেশ থেকে সার আমদানির সুযোগ রাখা হোক।

৩.৫ বিলিয়ন ডলারে বাড়তে পারে অর্থায়ন সীমা
ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ সফরকারী আইটিএফসি প্রতিনিধি দল দেশের বাড়তে থাকা জ্বালানি চাহিদা পূরণে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি কৃষি খাতেও অর্থায়ন সম্প্রসারণের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার আইটিএফসির কাছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট অর্থায়ন সীমা ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে।

সরকারের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, আমদানি চাহিদা বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিরাপদ রাখতে এই অতিরিক্ত অর্থায়ন প্রয়োজন।

আইটিএফসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ও অর্থায়ন প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশে আইটিএফসির দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা
সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক আইটিএফসি ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) গ্রুপের একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৭ সাল থেকে আইএসডিবি বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে আসছে।

১৯৯৭ সাল থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের জ্বালানি তেল আমদানিতে অর্থায়ন শুরু করে সংস্থাটি। ২০০৮ সালের পর থেকে এই সহায়তা আইটিএফসির মাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে।

২০০৮ সাল থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় আইটিএফসি প্রায় ২১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে।

বাংলাদেশ আবুধাবির এডিএনওসি থেকে মুরবান ক্রুড এবং সৌদি আরবের আরামকো থেকে অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড আমদানি করে। এসব আমদানির অর্থ পরিশোধে আইটিএফসি অর্থায়ন দিয়ে থাকে।

এলএনজি আমদানির জন্য ২০২৪ সালে ১০০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২৫ সালে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি হয়েছে, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

বাংলাদেশের জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী জেদ্দা বৈঠকে এই অর্থায়ন প্রস্তাবই প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে।

সূত্র : টিবিএস

পুঁজিবাজার : সূচকের উত্থানে চলছে লেনদেন | কালের কণ্ঠ