• ই-পেপার

বৈরী সময়ে আসছে বড় রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা

  • ♦ আগামী অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা
  • ♦ এনবিআরকে দেওয়া হচ্ছে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্য

সবজিতে স্বস্তি, ডিম ও মুরগির দামও কমেছে

অনলাইন ডেস্ক
সবজিতে স্বস্তি, ডিম ও মুরগির দামও কমেছে

নতুন অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা হলে বাজারে অন্যান্য পণ্যের মতো সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। তবে এবার এর প্রভাব পড়েনি। আগেই মতোই স্থিতিশীল রয়েছে সবজিসহ পেঁয়াজ ও দাম। এ ছাড়া অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে ডিম ও মুরগির দামে। 

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির সরবরাহ বেড়েছে। বেশিরভাগ সবজির দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। তবে হাতেগোনা কয়েকটি সবজির দাম কিছুটা বেশি। এর মধ্যে করলা ৭০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, ধুন্দুল ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি কেজি পেঁপে ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা ও বরবটি ৬০ কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আলু ২৫ টাকা কেজি, ধনেপাতা ১০ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে আর কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গোল বেগুনের কেজি ৬০ টাকা। লম্বা বেগুনের দাম ৬০ টাকা কেজি। শসা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। আর কাঁচামরিচ ৮০ টাকা কেজি। বাজারে বড় আকারের লেবু প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। আর ১০ টাকায় মিলছে ছোট লেবু। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি কেজি ৩২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ঈদুল আজহার পর গরুর মাংসের দাম বাড়েনি। বর্তমানে ৮০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ডজনপ্রতি ডিমের দাম রয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা।

অন্যদিকে, মাছের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। প্রতি কেজি পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকা (জীবিত ও মৃত উপরে দাম নির্ধারণ), রুই ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা, টাকি ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ির দাম বেশি দেখা গেছে। আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।

তেলে কারসাজি : ৫০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিল টিকে গ্রুপ

অনলাইন ডেস্ক
তেলে কারসাজি : ৫০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিল টিকে গ্রুপ

ভোজ্যতেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও সরবরাহে কারসাজির মাধ্যমে মাত্র দুই মাসে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করে ৫০০ কোটি টাকার বেশি মুনাফা করেছে চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী টিকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩২ কোটি টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, বাজারে সংকটের পরিবেশ তৈরি এবং মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিপুল মুনাফা করেছে কম্পানিটি।

অনলাইন নিউজ পোর্টাল এনপিবি নিউজের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২ সালে সরবরাহ ঘাটতির কথা বলে দেশের ৮টি প্রতিষ্ঠান সরকারকে তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য করে। অথচ তখন এ আটটি কম্পানির গুদামে তেলের কোনো সংকট ছিল না। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা ছিল টিকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

শবনম ভেজিটেবল অয়েল কম্পানির সঙ্গে জড়িত একটি সরবরাহ আদেশে দেখা যায়, কম্পানিটি তার পরিবেশকদের কাছে তেল সরবরাহে প্রায় ২৫ দিন সময় নেয়। যেখানে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে চাহিদাকৃত পণ্য সরবরাহ করার নিয়ম রয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক নিয়োগ আদেশ ২০১১ এর অনুচ্ছেদ ৯-এর(৩) অনুযায়ী একটি সাপ্লাই অর্ডারের মেয়াদ থাকে ১৫ দিন। এর বেশি মেয়াদ কোনোভাবেই বাড়ানো যাবে না।

অথচ এই আইনের তোয়াক্কা না করেই শবনম ভেজিটেবল অয়েল ও এর পরিবেশকদের মধ্যে একটি পরোক্ষ চুক্তি হয়। যা বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা আইন ২০১২-এর ধারা ১৫-এর উপধারা ১ অনুযায়ী অন্যায়। এই পরোক্ষ যোগসাজশে ভোজ্যতেলের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করায় বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখা দেয় এবং তেলের চাহিদা বাড়ে। আর আট কম্পানির এই কারসাজির ফলে তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয় সরকার।

এর প্রমাণও মেলে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সে মাসে ভোজ্যতেলের দাম এক লাফে বাড়ে ৮ টাকা। ১৬০ টাকা প্রতি লিটারে বিক্রি হওয়া তেল ১৬৮ টাকা নির্ধারণ করলেও এই দামে বিক্রি হয়নি। বরং সে সময় ১৭৫ টাকার নিচে তেল পাওয়া যায়নি।

এনপিবির অনুসন্ধানে দেখা যায়, শবনম ভেজিটেবল অয়েল কম্পানি তাদের তৎকালীন উৎপাদন ক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগায়নি। কৃত্রিম সংকট তৈরি করার লক্ষ্যে তাদের ক্ষমতার অর্ধেকে নামিয়ে আনে তেলের উৎপাদন। এ সময় কম্পানিটি যা উৎপাদন করত তার পুরোটাও বাজারে সরবরাহ করেনি। সে সময়ে কম্পানিটির অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের ব্যাপক মজুদ পাওয়া যায়।

২০২২ সালের এপ্রিলে রমজান মাস উপলক্ষে তেলের চাহিদা অনেক বেশি বেড়ে যায়। ঠিক এ সময়টিকেই বেছে নেয় কম্পানিটি তেলের সিন্ডিকেট করে বাজার নিয়ন্ত্রণের।

সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য মতে, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসের তুলনায় মে মাসে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে ৩০ শতাংশ। বাজারে তেলের ঘাটতির অজুহাতে ২২ দশমিক ৪৭ ও ২৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ দাম বাড়ে ভোজ্যতেলের। ঠিক এ সময়ে তেল পরিবেশকরা তাদের সাপ্লাই অর্ডার বা পরিবেশন আদেশ হাতবদল করে দাম বাড়ায়। এরমধ্যেই শবনম ভেজিটেবল অয়েল কম্পানিটি তাদের কাছে থাকা পণ্যের আদেশ অনুযায়ীও তেল সরবরাহ করেনি।

২০২২ সালের এই সময়টিতে তেলের দাম বাড়িয়ে টিকে গ্রুপের কম্পানি শবনম অয়েল প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করে। এ ছাড়া শুধু ৫০০ কোটি টাকার বেশি মুনাফা করে। যার পুরোটাই সাধারণ মানুষের পকেটের টাকা। সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি দিয়ে সরকারকে জিম্মি করে মানুষের পকেট কেটে মুনাফা করে টিকে গ্রুপ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন একটি অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। সেখানে কম্পানির কাছে লিখিত জবাব জানতে চায় কমিশন। এ ছাড়া শুনানিও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থাপিত যুক্তি তর্ক এবং আইনের বিশ্লেষণ করে কমিশন কম্পানিটির কারসাজির ব্যাপারে নিশ্চিত হয়।

অভিযোগ ও জরিমানাসহ তেল সিন্ডিকেটের সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে টিকে গ্রুপের ডিরেক্টর মোস্তফা হায়দারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে এনপিবি নিউজ। তার ব্যক্তিগত নাম্বারে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পাশাপাশি তার হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে মেসেজ করা হলেও তিনি তার রিপ্লাই দেননি। পরবর্তীতে টিকে গ্রুপের হেড অব ব্রান্ডের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এ বিষয়ে টিকে গ্রুপের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয় কম্পানিটির এমডি মো. আবুল কালামের সঙ্গে। প্রতিযোগিতা কমিশন কর্তৃক তেল সিন্ডিকেটের অভিযোগে জরিমানার প্রসঙ্গটি তুলতেই ‘আমি জানি না’ বলে ফোন কেটে দেন তিনি। এরপরে একাধিকবার ফোন দিয়েও তার বক্তব্য জানা যায়নি। পরবর্তীতে তার ব্যক্তিগত নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

তবে কম্পানি সূত্রে জানা গেছে, জরিমানার বিষয়টি এমডি আবুল কালামসহ কম্পানির ঊর্ধ্বতন সবাই জানেন। এ বিষয়ে তাদের আলোচনাও হয়েছে। তারা হাইকোর্টে প্রতিযোগিতা কমিশনের রায়কে চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মুনাফা ৫০০ কোটির বিপরীতে জরিমানা মাত্র ৩২ কোটি
বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের আইনে জরিমানা করার নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। কোনো কম্পানির কারসাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সে কম্পানির বার্ষিক টার্নওভারের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা যায়, শবনম ভেজিটেবল অয়েল কম্পানির ২০২২ সালের বার্ষিক টার্নওভার ছিল ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সেখানে কমিশন জরিমানা করেছে মাত্র ৩২ কোটি টাকা। যেখানে তেল সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করায় শুধু লাভই হয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ জরিমানা করার সর্বোচ্চ সীমার মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে কম্পানিটিকে।

জরিমানা করার বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসনের সঙ্গে। তিনি এ বিষয়ে কমিশনের সদস্য আফরোজা বিলকিসের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

পরবর্তীতে কমিশনের আইন শাখার সদস্য আফরোজা বিলকিস বলেন, ‘এই কম্পানির বিরুদ্ধে কমিশনে এইটাই প্রথম মামলা। তাই আমরা সর্বোচ্চ জরিমানা না করে একটা অংকের জরিমানা করেছি। সবাইকেই তো আসলে রিফর্মের সুযোগ দিতে হয়। আমরাও তাই দিয়েছি। যদি এরপরে আরো কোনো মামলা হয় তবে আরো বেশি জরিমানা করা হবে। এ ছাড়া কম্পানিটি একা এই অপরাধ করেনি। আরো চার-পাঁচটি কম্পানি জড়িত ছিল। সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব তানভীর আহমেদ বলেন, ‘প্রতিযোগিতা কমিশন যেহেতু মামলায় রায় দিয়েছে এতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ ব্যাপারে যদি বাণিজ্যমন্ত্রী মনে করেন কম্পানির কাছ থেকে ব্যাখ্যা নেবেন তবে মন্ত্রণালয় থেকে আমরা চিঠি দেব।’

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলেও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক যুগ্মসচিব সেবাস্টিন রেমা কোনো কথা বলতে রাজি হননি। উল্লেখ্য, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে সরকার এখনো কাউকে নিয়োগ দেয়নি।

এ বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি নাজের হোসাইন বলেন, ‘জরিমানা যত টাকাই করুক, এক টাকাও শেষমেশ আদায় হয় না। শুরুর দিকে একটু হইচই হয়, পরবর্তী বাণিজ্য সচিবের কাছে গেলেই মাফ হয়ে যায়। এটাই সমস্যা। আপিল অথরিটি সম্পূর্ণ জরিমানা মাফ করে দিতে পারে। আমরা এই আইনের সংশোধন চেয়েছি।’

সোনার দামে বড় পতন, ভরি কত?

অনলাইন ডেস্ক
সোনার দামে বড় পতন, ভরি কত?
সংগৃহীত ছবি

দেশের বাজারে সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের নতুন দাম  ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। 

টানা দুই দফা মূল্যবৃদ্ধি ও এক দফা ভ্যাট সমন্বয়ের পর এই নতুন দাম শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাজুস।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন প্রতি ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির দামে ২ হাজার ৫০৮ টাকা ভ্যাট যুক্ত করা হয়েছে। এতে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩৯ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৩৭ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

ভবন করতে ট্যাক্স দিতে হলে কেউ বাড়ি বানাবে না : রিহ্যাব সভাপতি

অনলাইন ডেস্ক
ভবন করতে ট্যাক্স দিতে হলে কেউ বাড়ি বানাবে না : রিহ্যাব সভাপতি

শীর্ষ আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি ড. মো. আলী আফজাল বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ৫ কাঠা জমিতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রায় দেড় কোটি টাকা কর এবং ডেভেলপারদের নির্মিত ফ্ল্যাটের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপ দেশের জন্য একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ প্রতিদিনের ইউটিউবে প্রকাশিত এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

রিহ্যাব সভাপতি বলেন, ধরুন, একজন মানুষ সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে ৫ কাঠা জমি কিনেছেন। ভবন নির্মাণের পর যদি তাকে অতিরিক্ত দেড় কোটি টাকা কর দিতে হয়, তাহলে তিনি হয়তো ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্তই নেবেন না। জমিটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকবে। এতে আবাসন খাতে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও কমে যাবে।

তিনি বলেন, আরেকটি বিষয় হলো, এই অতিরিক্ত করের প্রভাব শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের ওপরই গিয়ে পড়বে। কারণ কোনো ডেভেলপার কোম্পানি লোকসান দিয়ে ব্যবসা করবে না। অন্যদিকে জমির মালিকরাও চেষ্টা করবেন অতিরিক্ত করের দায় ডেভেলপারদের ওপর চাপিয়ে দিতে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যয় বাড়বে এবং সেই ব্যয় ফ্ল্যাটের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

‘অর্থাৎ অতিরিক্ত কর আরোপের ফলে ফ্ল্যাটের দাম বাড়বে এবং এর চূড়ান্ত বোঝা বহন করতে হবে সাধারণ ক্রেতাদের। তাই আমি মনে করি, এই সিদ্ধান্ত শুধু আবাসন খাত নয়, সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

ড. মো. আলী আফজাল বলেন, জমির মালিকরা স্বাভাবিকভাবেই ডেভেলপারদের কাছে জানতে চাইবেন, অতিরিক্ত করের চাপের মধ্যে তারা কত শতাংশ সুবিধা পাবেন। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ডেভেলপারদের নির্মাণ ব্যয় আরো বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, একদিকে নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং কাঁচামালের উচ্চমূল্য; অন্যদিকে নতুন করের বোঝা—সব মিলিয়ে আবাসন প্রকল্পের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে। এর ফলে যে ফ্ল্যাট আজ একটি নির্দিষ্ট মূল্যে বিক্রি করা সম্ভব, অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে সেটি আরো বেশি দামে বিক্রি করতে হবে।

রিহ্যাব সভাপতি বলেন, এই অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত বহন করবে দেশের সাধারণ মানুষ। কারণ ডেভেলপাররা বাড়তি খরচ ফ্ল্যাটের মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করতে বাধ্য হবে। ফলে ফ্ল্যাটের দাম বাড়বে, যা সরাসরি ক্রেতাদের ওপর প্রভাব ফেলবে।

ড. আলী আফজাল বলেন, এ ধরনের কর বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ জনগণ—উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। তাই প্রস্তাবিত এই কর অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত।

তিনি আরো বলেন, আবাসন খাত দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে অবহেলিত। অনেকের মধ্যে এমন ধারণা রয়েছে যে, এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই ধনী এবং তাদের কর দেওয়ার সক্ষমতা অনেক বেশি। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

রিহ্যাব সভাপতি বলেন, যদি মনে করা হয় আবাসন খাত একটি ‘ট্যাক্স আদায়ের মেশিন’, যেখানে চাপ দিলেই রাজস্ব পাওয়া যাবে, তাহলে সেটি একটি ভুল ধারণা। রাষ্ট্রের এমন ধারণা হয়েছে, এই খাতে অতিরিক্ত কর আরোপ করলেই সহজে রাজস্ব আদায় করা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে অতিরিক্ত কর আরোপের ফলে বিনিয়োগ কমবে, নির্মাণ ব্যয় বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যও ব্যাহত হতে পারে।

তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশে ফ্ল্যাট ক্রেতাদের বড় অংশ ধনী বা উচ্চবিত্ত শ্রেণির মানুষ নন। বরং মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং বিভিন্ন পেশাজীবী, বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীরাই আবাসন খাতের প্রধান ক্রেতা। তাদের অধিকাংশেরই ৫ কোটি, ১০ কোটি বা ২০ কোটি টাকার ফ্ল্যাট কেনার সামর্থ্য নেই। তারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট আকারের ফ্ল্যাট কিনে আবাসনের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, নতুন কর আরোপ ও ব্যয় বৃদ্ধি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। কারণ অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রভাব শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাটের মূল্যের ওপর পড়বে।

রিহ্যাব সভাপতি আরো বলেন, আবাসন মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর অন্যতম। মাথা গোঁজার একটি স্থায়ী ঠিকানা প্রত্যেক মানুষের প্রয়োজন। বাংলাদেশে সামাজিক বাস্তবতায়ও নিজের বাড়ি বা ফ্ল্যাটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি ছেলে-মেয়ের বিয়ের ক্ষেত্রেও প্রায়শই প্রথম প্রশ্ন আসে—নিজস্ব বাড়ি আছে কি না।

তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ আবাসনকে মৌলিক প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করে প্রথমবার বাড়ি নির্মাণ বা ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে থাকে। অনেক দেশে সরকার সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেয়, আবার কোথাও স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়।

উদাহরণ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে প্রথমবার বাড়ি কিনলে সরকার নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সহায়তা হিসেবে প্রদান করে।

রিহ্যাব সভাপতি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে প্রথমবার বাড়ি নির্মাণ বা কেনার ক্ষেত্রে সরকার সরাসরি সহায়তা প্রদান করে। প্রথম বাড়ি নির্মাণকারীদের অনুদান দেওয়া হয়, আবার অনেক দেশে অত্যন্ত স্বল্প সুদে ঋণের সুবিধাও রয়েছে।

‘আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনেকাংশেই আবাসন খাতের গতিশীলতার ওপর নির্ভর করে। এর বহু উদাহরণ বিশ্বে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে একসময় বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিলে সরকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করে মাত্র ১ শতাংশ সুদে আবাসন ঋণ প্রদান করে। এর ফলে আবাসন খাত চাঙ্গা হয় এবং অর্থনীতিও ঘুরে দাঁড়ায়।’

শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, ইউরোপ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশও আবাসন খাতকে গুরুত্ব দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে এই খাতটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত।

‘এ ছাড়া বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১৩ থেকে ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এত উচ্চ সুদে ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। একদিকে নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়েছে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির প্রভাব রয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, নির্মাণ ব্যয় এরই মধ্যে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন রিহ্যাব সভাপতি ড. মো. আলী আফজাল।

বৈরী সময়ে আসছে বড় রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা | কালের কণ্ঠ