• ই-পেপার

৬৪ দিন ধরে ৬৪ জেলায় ভার্চুয়াল সম্মেলন চলবে

বাংলাদেশে ৯.২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব ১১ চীনা প্রতিষ্ঠানের

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশে ৯.২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব ১১ চীনা প্রতিষ্ঠানের
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে মোট ৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে চীনের ১১টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও শীর্ষ কর্মকর্তারা এ প্রস্তাব দেন।

গত ২৫ জুন বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার (২৭ জুন) সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।

এই বার্তা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে সফলভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যার ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের করনীতি-সংক্রান্ত পূর্বাভাস (ট্যাক্স আউটলুক) প্রকাশ করেছে।

এটি বিনিয়োগকারীদের কাছে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতার বার্তা হিসেবে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ প্রস্তাব

১. চায়না ফিউচার এনার্জি গ্রুপ হোল্ডিং লিমিটেড

বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উন্নয়নে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।

২. সাংহাই এসইউএস এনভায়রনমেন্ট কম্পানি লিমিটেড

দেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ (ওয়েস্ট-টু-এনার্জি) উৎপাদন প্ল্যান্ট স্থাপনে ৮৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

৩. চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি)

মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, বন্ডেড গুদাম নির্মাণ এবং মোংলাকে আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাবে রূপান্তরে ৬৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। এ প্রকল্পে প্রায় ৫০ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।

৪. শেনজেন কাইফা টেকনোলজি কম্পানি লিমিটেড

বাংলাদেশে স্মার্ট বৈদ্যুতিক মিটার উৎপাদনে ২৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

৫. এসএফ এক্সপ্রেস

মোংলায় কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস ও বন্ডেড গুদাম সুবিধা গড়ে তুলতে ১৮০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। এতে ই-কমার্স ও রপ্তানি খাত আরো শক্তিশালী হবে।

৬. হুয়াক্সিন টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কম্পানি লিমিটেড

পায়রা বন্দর শিল্পাঞ্চলে পুনর্ব্যবহৃত তুলা ও সুতা উৎপাদন সম্প্রসারণ, সিলিন্ড্রিক্যাল লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদন এবং নিজস্ব ব্যবহারের জন্য ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে ১৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা জানিয়েছে।

৭. ঝংসিন এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন গ্রুপ

পায়রা বন্দর শিল্পাঞ্চলে ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও নিষ্পত্তি শিল্পপ্রকল্প স্থাপনে ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।

৮. সিআরআরসি জিয়ান কম্পানি লিমিটেড

বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রেলগাড়ির যন্ত্রাংশ সংযোজন কারখানা স্থাপনে ১৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

৯. সিচুয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ গ্রুপ কম্পানি লিমিটেড

জাতীয় সংযোগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পিপিপি প্রকল্পে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।

১০. চায়না কেপাই এডুকেশন গ্রুপ

দীর্ঘমেয়াদে ৩০ হাজার শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি আধুনিক অ্যাপ্লাইড বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা শিল্পপার্ক নির্মাণে ২৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা জানিয়েছে।

১১. চায়না শানডং ঝংসিন ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানি লিমিটেড

বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে চীনা ভেষজ উদ্ভিদের চাষ এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প গড়ে তুলতে ১৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।

চীন-মায়ানমার করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে বিনিয়োগ বাড়বে : বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
চীন-মায়ানমার করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে বিনিয়োগ বাড়বে : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘চীন-মায়ানমার করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে ২৪ ঘণ্টায় একটি ট্রাকে করে বাংলাদেশ থেকে চীনে পণ্য পৌঁছানো যাবে। ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বিপুল গতি লাভ করবে। এতে বিনিয়োগ অবশ্যই বাড়বে।’

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির নবীনবরণ অনুষ্ঠান শে‌ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আগামী দিনগু‌লো‌তে দেশে চীনের বিপুল বিনিয়োগ দেখা যাবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দিনে চীনে রপ্তানি বাড়ানোর জন্য আমাদের স্ট্যাটেজি। চীন ইতোমধ্যে আমাদের সব পণ্য শুল্কমুক্ত করে দিয়েছে। আমাদের কাছে একটাই সম্ভাব্য উপায়, যেটি আমরা অনুসরণ করছি, বাংলাদেশে বেশি বেশি চায়নিজ বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।’

মন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামে ৮০০ একরের একটি চায়নিজ শিল্প পার্ক স্থাপনের ব্যাপারে কিছুদিন আগেই মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

আগামীতে বিপুল চায়নিজ বিনিয়োগ আসবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘চীনের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সে দেশের শীর্ষ নেতৃবন্দ ও বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যার ফলে আগামী দিনগু‌লো‌তে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ চীনা বিনিয়োগ দেখব। এ‌তে বাণিজ্য ঘাটতিও হ্রাস পাবে।’

সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘মাজার ব্যাবস্থাপনা কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে স্থান দেওয়া হয়নি, নিয়মতান্ত্রিকভাবেই কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

এর আগে আইনজীবী সমিতির নবীণবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাষ্ট্রে বিচারহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি হলে সামাজিক চুক্তি ও আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে। সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকার সমতা, বৈষম্যহীনতা, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নে আইনজীবীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির জন্য নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি আধুনিক ও নিয়মিত প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আইনবিষয়ক গবেষণা, কেস স্টাডি বিশ্লেষণ এবং আদালতে কার্যকর উপস্থাপনার ওপর ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইনজীবীদের সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে দক্ষ আইনজীবী ও বিচারক তৈরিতে সহায়ক হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় অনলাইন জুয়া প্রতিরোধকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছিলাম। এ লক্ষ্যে অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে, যা সংসদীয় প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই পাস হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম ইয়াহ-ইয়া চৌধুরীর (সুহেল) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জুবায়ের বখত জুবের, ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ এরফান উল্লাহ, বিভাগীয় স্পেশাল জজ এম আলী আহমদ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসাম ইমাম, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়তে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়তে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি সক্ষমতা শক্তিশালী করতে ব্যবসা শুরু, লাইসেন্স প্রদান, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি খাতে দ্রুতগতির সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত ‘শিল্প খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। বিজিএমইএ-কে দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও সংগঠিত ব্যাবসায়িক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাত—যেমন চামড়া, পাট, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও জাহাজ নির্মাণ—উন্নয়ন হলেও স্বল্প মেয়াদে কোনো খাতই তৈরি পোশাক শিল্পের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না। তাই অর্থনীতিতে এই খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ব্যবসা শুরু ও লাইসেন্স প্রাপ্তিতে গড়ে ৩৫৫ দিন সময় লাগলেও এই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কম্পানি নিবন্ধনের মাত্র ১৪ দিনের মধ্যেই উদ্যোক্তারা আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) এবং অন্যান্য প্রাথমিক অনুমোদন পেয়ে যাবেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থার পৃথক পরিদর্শনের পরিবর্তে এখন থেকে সমন্বিত পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এতে উদ্যোক্তাদের হয়রানি কমবে এবং শিল্প স্থাপনের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স, কম্পানি নিবন্ধন, শেয়ার হস্তান্তর ও কোম্পানি বিলুপ্তিসহ সব সেবা অনলাইনে প্রদান করা হবে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সফল মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বন্দর ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপারেটরদের সম্পৃক্ততার ফলে কার্গো পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, জাহাজের অপেক্ষার সময় কমবে এবং পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে। এতে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকরা বৈশ্বিক বাজারে আরো প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবেন।

জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও এলএনজি আমদানির পাশাপাশি আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত ৫৫০-৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন শুরু করতে পারেনি। তাই নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার, যা শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অংশীদারির ভিত্তিতে একটি আধুনিক, দক্ষ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য ড. রুবানা হক। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ফাউন্ডার কামাল আহমেদ, ইয়াংওয়ান করপোরেশনের চেয়ারম্যান কিহাক সাং এবং এইচএসবিসি ব্যাংকের হেড অব সাসটেইনেবিলিটি সৈয়দা আফজালুন নেসা।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কুতুবউদ্দিন আহমেদ এবং সাবেক সহ-সভাপতি ও ঊর্মি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ আশরাফসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ার কৌশল নিয়ে ঢাকায় কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ার কৌশল নিয়ে ঢাকায় কর্মশালা
ছবি: কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশি উৎপাদক ও উদ্যোক্তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি ও কৌশল বিষয়ে ঢাকায় একটি প্রিমিয়াম কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বাংলাদেশি ম্যানুফেকচারার টু ইউএস রিটেল ব্র্যান্ড অনার’ শীর্ষক এই কর্মশালার যৌথ আয়োজন করে বিজনেস গ্লোবালাইজার ও স্কাই প্রেপ সেন্টার। রাজধানীর একটি হোটেলে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৫৭ জন উৎপাদক, রপ্তানিকারক, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী অংশ নেন।

আয়োজকেরা জানান, কর্মশালাটি ছয়টি মূল সেশন ও একটি বিশেষ অতিথি সেশন নিয়ে সাজানো হয়। এতে পণ্য নির্বাচন, বাজার যাচাই, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা প্রতিষ্ঠা, ব্যাংকিং, লজিস্টিকস, ওয়্যারহাউস ব্যবস্থাপনা, ফুলফিলমেন্ট, মূল্য নির্ধারণ এবং বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতিসহ উৎপাদন থেকে ভোক্তার হাতে পণ্য পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়া বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বাজারে প্রবেশের একটি ধাপভিত্তিক রোডম্যাপও উপস্থাপন করা হয়।

কর্মশালার মূল সেশন পরিচালনা করেন বিজনেস গ্লোবালাইজারের লিড কনসালট্যান্ট ও স্কাই প্রেপ সেন্টারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এসটি এক্সপ্রেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর ইসলাম, ফ্রন্টিয়ার পেট ফুডস লিমিটেডের পরিচালক আবিদ আজাদ খান এবং ই-কম শিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোয়েব আলী শেখ। বক্তারা আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা, সীমান্তপারের ই-কমার্স ও বাজার সম্প্রসারণের নিজস্ব বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

বিজনেস গ্লোবালাইজারের লিড কনসালট্যান্ট আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘উৎপাদনই শেষ কথা নয়। একটি পণ্য যখন নিজস্ব ব্র্যান্ডের পরিচয়ে ক্রেতার হাতে পৌঁছায়, তখনই প্রকৃত যাত্রা শুরু হয়। এই যাত্রার সময় ও ব্যয় কমিয়ে এনে আমরা বাংলাদেশি ব্র্যান্ডগুলোকে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করতে চাই।’

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ১০ বছর পূর্তি উদযাপন করা বিজনেস গ্লোবালাইজার গত এক দশকে ৮ হাজারের বেশি কোম্পানি গঠনে সহায়তা করেছে এবং ৫ হাজারের বেশি ক্লায়েন্টকে সেবা দিয়েছে। অন্যদিকে স্কাই প্রেপ সেন্টার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে তিনটি ওয়্যারহাউস পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি ২৫০টির বেশি ক্লায়েন্টকে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি ২০ হাজারের বেশি পণ্য চালান ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

ওয়ার্কশপের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং ও মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উদ্যোক্তারা নিজেদের পণ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের কৌশল এবং আন্তর্জাতিক খুচরা ব্যবসার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

৬৪ দিন ধরে ৬৪ জেলায় ভার্চুয়াল সম্মেলন চলবে | কালের কণ্ঠ