বাংলাদেশ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মালয়েশিয়ায় ২৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে; বিপরীতে দেশটি থেকে আমদানি করেছে ২ হাজার ২৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পণ্য। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশের ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৯২২ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় যা রপ্তানি করে তার চেয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি পণ্য আমদানি করে। বিশাল এই বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে মালয়েশিয়ার হালাল অর্থনীতির অংশীদার হতে চাইছে বাংলাদেশ।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুর রহিম খান (রপ্তানি) বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (আজ সোমবার) যখন মালয়েশীয় নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন, তখন অন্যান্য আলোচনার মধ্যে গুরুত্ব পাবে হালাল অর্থনীতিতে অংশীদারত্বের বিষয়টি।
আরো পড়ুন
আবার কেপ ভার্দের চমক, এবার উরুগুয়ের জালে ২ গোল
সূত্রগুলো জানায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সফরে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, সন্ত্রাসবাদ, গবেষণা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও নোট অব এক্সচেঞ্জ সই হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এসব ইস্যুর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক ইস্যুগুলোও সমহারে গুরুত্ব পাচ্ছে। যেসব বাণিজ্যিক ইস্যু আলোচনায় থাকছে : বর্তমানে বৈশ্বিক হালাল বাজারের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক মালয়েশিয়া। প্রতি বছর বিশ্বের বৃহত্তম হালাল পণ্যের প্রদর্শনী হয়ে থাকে কুয়ালালামপুরে।
বাংলাদেশ এই বিশাল আন্তর্জাতিক বাজারে নিজের অবস্থান দৃঢ় করতে মালয়েশিয়ার ‘হালাল ইকোসিস্টেম’ ও সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়াকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে বিএসটিআই ও বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল পণ্যের সার্টিফিকেশন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব ইসলামিক ডেভেলপমেন্টের (জাকিম) প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা চাওয়া হবে। এ ছাড়া ঢাকার কাছাকাছি একটি ‘হালাল অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা এবং সেখানে যৌথ উদ্যোগে কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মাংস রপ্তানিশিল্প গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনার কথা রয়েছে।
আরো পড়ুন
মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে মায়ের বকুনি, স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা
হালাল পণ্য উৎপাদনে মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন প্রস্তাবিত ইকোনমিক জোনে সহজে কারখানা স্থাপন এবং উৎপাদন বাড়াতে পারে, সেজন্য বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সুযোগসুবিধা ও সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও দেশটিকে জানানো হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, মালয়েশিয়ার বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থার (ম্যাটরেড) সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে বাংলাদেশের হালাল খাদ্য, ওষুধ ও প্রসাধনসামগ্রী বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে যুক্ত করার বিষয়টিও উঠে আসবে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায়। হালাল পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, ল্যাবরেটরি টেস্টিং এবং এর বৈজ্ঞানিক দিকগুলো নিয়ে দুই দেশের গবেষকদের মধ্যে যৌথ গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ওষুধশিল্পের জন্য মালয়েশিয়ার বাজার উন্মুক্ত করা এবং বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে জোর আলোচনা হবে।
আরো পড়ুন
দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
এ ছাড়া এলডিসি থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ হিসেবে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট আরসিইপিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হতে পারে। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সদ্য বিদায়ি সভাপতি সাব্বির আহমেদ খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতির আকার বর্তমানে ৭ ট্রিলিয়ন বা ৭ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি। খাদ্য ও প্রক্রিয়াজাত পণ্যের পাশাপাশি ইসলামিক ফাইন্যান্স, হালাল পর্যটন, কসমেটিকস এবং ফ্যাশন খাতের মতো বহুমুখী শিল্পে হালাল পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ হচ্ছে। প্রায় ২০০ কোটি মুসলিম ভোক্তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও ক্রয়ক্ষমতার কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ১০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর দ্রুতবর্ধনশীল এই হালাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অংশীদারি নিশ্চিত করার জন্য মালয়েশিয়ার সহযোগিতা জরুরি।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন