kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৬ সফর ১৪৪২

তদারকি নেই, চামড়া দ্রুত বিক্রি করে দায় মুক্তির প্রবণতা

রোকন মাহমুদ    

৫ আগস্ট, ২০২০ ১০:০৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তদারকি নেই, চামড়া দ্রুত বিক্রি করে দায় মুক্তির প্রবণতা

চামড়া নিয়ে এবারও বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ছবি : শেখ হাসান

প্রথমবারের মতো বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে মনিটরিং টিম করে দিলেও প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছেনি তাদের তদারকি। ছিল না প্রচার-প্রচারণাও। ফলে প্রাথমিক বাজারে এবারও নামেমাত্র মূল্যে কেনাবেচা হয়েছে কাঁচা চামড়া। কোথাও কোথাও তা ৭০ থেকে ১০০ টাকা, কোথাও কিছু বেশি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বিক্রি হয়। বঞ্চিত হয়েছেন দেশের অতিদরিদ্র মানুষ। লোকসান গুনতে হয়েছে অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ীকে।

মাঠকর্মীরা বলছেন, লোকবল সংকট, করোনায় স্বাস্থ্যঝুঁকি, মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় সমস্যা ও বন্যার কারণে প্রান্তিক পর্যায়ে বিভাগীয় টিমগুলো ঈদের আগে চামড়া সংরক্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রচার করতে পারেনি। প্রয়োজনীয় তদারকি করা যায়নি কোরবানির পরও। ফলে লবণ দিয়ে সংরক্ষণের আগ পর্যন্ত চামড়ার প্রাথমিক বাজারে ভেল্যুচেইন ভেঙে পড়ে। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সংকট দেখা দেয়। কোরবানিদাতা বা সংগ্রহকারীদের চামড়া দ্রুত বিক্রি করে দায় মুক্তির প্রবণতা তৈরি হয়। তবে প্রাথমিক বাজারে মনিটর করতে না পারলেও লবণ দিয়ে সংরক্ষণের পর শুরু হওয়া সেকেন্ডারি বাজারে যাতে দাম ও বেচা-বিক্রির সমস্যা না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় তদারক করেছেন তাঁরা।

ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, কোরবানির চামড়া তিন হাত হয়ে ট্যানারিতে পৌঁছে। প্রাথমিক বা প্রাইমারি বাজারে কোরবানিদাতার কাছ থেকে কিনে নেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা, যাঁদের ফড়িয়া বলা হয়। তাঁদের কাছ থেকে কাঁচা চামড়া কেনেন আড়তদাররা। তাঁরা সেই চামড়া লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণ করেন। এ ছাড়া ছোট-বড় অনেক এতিমখানা বা মাদরাসাও কোরবানিদাতার কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে। এরপর লবণে সংরক্ষিত চামড়া বিক্রি করা হয় ট্যানারিতে, যেখানে তৈরি হয় চামড়াজাত নানা পণ্য। গত বছর ফড়িয়ারা যে দরে চামড়া কিনেছিলেন, বিক্রি করতে গিয়ে লাভ তো দূরের কথা কেনা দামও পাননি। তখন অনেকে চামড়া রাস্তায় ফেলে গিয়েছিলেন কিংবা মাটিতে পুঁতে ফেলেছিলেন।

এবার এই সমস্যা যাতে না হয় সে জন্য গত ২৭ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি বিভাগে চার থেকে পাঁচজনের আলাদা আলাদা তদারকদল (মনিটরিং টিম) পাঠায়। তাদের কাজ ছিল চামড়া সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয়, দাম ও পরিবহন সমস্যা সমাধান করা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিত্র খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। অনেক স্থানে কোরবানির চামড়ার ক্রেতাই পাওয়া যাচ্ছিল না।

ঈদের দিন বিকেল সাড়ে ৬টায় ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের একটি মাদরাসা মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ৫২টি চামড়া নিয়ে বসে আছেন মাদরাসা কমিটির লোকজন। কমিটির একজন সদস্য জানান, এলাকার কোরবানিদাতারা স্বেচ্ছায় চামড়া পৌঁছে দিয়েছেন এখানে। তাই এগুলো বিক্রির দায়িত্ব বর্তে কমিটির ওপর। কিন্তু ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। বাইরের কেউ আসেনি, নেই এলাকার কেউ। আধাঘণ্টা সিদ্ধান্তহীনতায় থেকে শেষে ৭টায় স্থানীয় একজনকে চার হাজার টাকা অর্থাৎ ৬৭ টাকা পিস দাম ধরে এক প্রকার জোর করেই দিয়ে দায়মুক্ত হন তাঁরা। মামুন নামের সেই ব্যক্তি অবশ্য ভুলতা-গাউসিয়া নিয়ে তা ১৪ হাজার টাকা বা ২৬৯ টাকা পিস বিক্রি করেন। অথচ নারায়ণগঞ্জ রাজধানীর পোস্তা থেকে খুব একটা দূরে নয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবস্থা আরো খারাপ। এমন অবস্থা খোদ রাজধানীতেও।

জানতে চাইলে ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত পাঁচজনের দলনেতা মো. মাহমুদুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম ঈদের আগেই প্রচার-প্রচারণা চালাতে। কিন্তু সেভাবে করা হয়নি। আমাদের যে লোকবল তা দিয়ে এটা সম্ভব নয়। এ ছাড়া করোনার কারণে প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের লোকদের সঙ্গে ঠিকমতো ম্যাচ হয়নি। ময়মনসিংহের অনেক জায়গায় বন্যা চলছে। এ কারণেও কোথাও কোথাও কাজে সমস্যা হয়েছে বলে ট্যারিফ কমিশনের এই কর্মকর্তার দাবি। তবে এখন সেকেন্ডারি বাজার অর্থাৎ লবণ দিয়ে সংরক্ষিত চামড়ার বেচা-বিক্রি তদারকের চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

সিলেট বিভাগের দায়িত্বে থাকা টিমের লিডার মো. ইসমাইল মজুমদার বলেন, বিভাগীয় শহরের বাইরে সরাসরি টিমের কেউ কাজ না করলেও আমরা জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছি। দাম কম হলেও কোথাও চামড়া নষ্ট হয়েছে এমন খবর পাওয়া যায়নি। সিলেটে প্রান্তিক পর্যায়ে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় চামড়া বিক্রি হয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা