• ই-পেপার

অর্থাভাবে মাকে আনতে না পারা ভোজিনহার পাশে যুক্তরাষ্ট্র

প্রথম টি-টুয়েন্টিতে অজিদের কাছে হারল টাইগাররা

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রথম টি-টুয়েন্টিতে অজিদের কাছে হারল টাইগাররা
ছবি : মীর ফরিদ

তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে ১৩১ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়াকে। কুপার কনলির ৪৭ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে জয় তুলে নেন সফরকারীরা।

বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিং নেন অন্তর্বর্তীকালীন অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। ১৯ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৩১ রানের মামুলি সংগ্রহ করেন স্বাগতিকরা।

জবাবে ১৮.২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় অজিরা। চার মেরে দলকে জয় এনে দেয় জেভিয়ার বার্টলেট।

ম্যাচের শুরুতে বোলিং করতে নেমে জস ইংলিসকে বোল্ড করে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শরীফুল ইসলাম। দলীয় ৩৮ রানে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে মিচেল মার্শকে তালুবন্দি করেন শরীফুল। ১৪ বলে ১৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন অজি অধিনায়ক।

আবারও ত্রাতা কুপার কনোলি। টিম ডেভিডকে সঙ্গে নিয়ে দারুণ জুটি গড়েন তিনি। এতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ২৭ বলে ৪৭ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান দলকে। 

তবে ফিফটি মিসের হতাশা নিয়ে ফিরতে হয় কনোলিকে। আর ডেভিডের ব্যাট থেকে এসেছে ১৬ বলে ২০ রান।

শেষের দিকে অবশ্য একটু বিপাকে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে ম্যাট রেনশ ও নিখিল চৌধুরীর ব্যাটে জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। ২৮ বলে ১৮ রান করেন রেনশ, আর নিখিল করেছেন ১৩ বলে ১৮ রান। 

শরীফ, মুস্তাফিজ, মেহেদী ও রিসাদ নেন একটি করে উইকেট। দুই ইউকেট নেন আব্দুল গাফফার।

এদিকে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেছেন শেখ মেহেদী হাসান। এ ছাড়া সাইফ হাসান করেছেন ২০ রান। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট পেয়েছেন জোয়েল ডেভিস এবং অ্যাডাম জাম্পা।

যুদ্ধে বাবা-ভাই হারানো ফুটবলার মায়ের অনুপ্রেরণায় বিশ্বকাপে

ক্রীড়া ডেস্ক
যুদ্ধে বাবা-ভাই হারানো ফুটবলার মায়ের অনুপ্রেরণায় বিশ্বকাপে
নরওয়ের বিরুদ্ধে গোলের পর ইরাকের আয়মেন হুসেন। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় কাঁপছে গোটা বিশ্ব। এই বিশ্বকাপ আবার অনেকের জন্য হয়ে উঠে ফিরে আসার মঞ্চ। বৈশ্বিক এই আসর যেমন অনেককে নায়ক বানায়, তেমনি ভিলেনেও পরিণত করে। এবারের বিশ্বকাপে এমনই এক ফিরে আসার নতুন গল্প লিখলেন ইরাকি ফুটবলার আয়মেন হুসেন। প্রতিকূলতা পার করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন ইরাকের এই অধিনায়ক। 

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইরাকে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কাটিয়েছে ঝুঁকিতে। ইরাকের আল-হাউইজ়া জেলার আল সাফরায় জন্ম আয়মেনের। চারপাশের গুলির আওয়াজ, বোমার বিস্ফোরণ আর অনিশ্চয়তাই ছিল তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী। সেই নরক থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম ছিল ফুটবল। 

কিন্তু মাত্র ১২ বছর বয়সে এক চরম ট্র্যাজেডি নেমে আসে তাঁর জীবনে। ইরাকি সেনাবাহিনীর সৈনিক আয়মেনের বাবা। তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে আল কায়দার জঙ্গিরা। সে সময় নিজেদের মাথা গোঁজার একটি বাড়ি তৈরির জন্য জিনিসপত্র কিনতে গিয়েছিলেন আয়মেন। বাবার অসমাপ্ত সেই বাড়ি আর কোনও দিন সম্পূর্ণ হয়নি।

বহু বছর পর আয়মেন নিজেই প্রকাশ এক সাক্ষাৎকারে তাঁর কাহিনি শুনিয়েছিলেন। ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘ফুটবল ভালবাসতাম ঠিকই, কিন্তু আমার আসল স্বপ্ন ছিল কোনও মতে টাকা জমিয়ে বাবার শুরু করা ওই অসমাপ্ত বাড়িটার নির্মাণ করা।’

কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাস সেখানেই শেষ হয়নি। পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে আয়মেন তাঁর মা এবং বড় ভাইকে (তিনিও সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন) ওই এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু তারা রাজি হননি। তুরস্কের একটি ট্রেনিং ক্যাম্প থেকে ফেরার সময় আরো এক মর্মান্তিক খবর পান আয়মেন। আইএসআইএস অধ্যুষিত এলাকায় তাঁর বড় ভাইকে অপহরণ করা হয়। যাঁর আজ পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি। এই জোড়া ধাক্কায় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন আয়মেন। ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবতে শুরু করেন। কিন্তু সেই কঠিন সময়ে তার মা হাল ছাড়তে দেননি।

মায়ের জেদের কাছে হার মেনেই আয়মেন আবার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন তাড়া করতে শুরু করেন। আর এই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় তার জীবন। 

দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে খেলতে যোগ্যতা অর্জনে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। প্লে-অফে পর্বে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে যোগ্যতা অর্জন করে। সেই ম্যাচে তার পা থেকে আসে জয় সূচক গোলটি।

এরপর শুধু বিশ্ব মঞ্চে নিজের মহাকাব্য রচায়নের বাকি ছিল। বোস্টন স্টেডিয়ামে ‘আই’ গ্রুপে নরওয়ে বিপক্ষে পিছিয়ে বড় দলকে দুর্দান্ত গোলে সমতায় ফেরাত  আয়মেন। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৪ মিনিটের মধ্যে হালান্ডের গোলে ফের এগিয়ে যায় ইউরোপের দেশ। এরপর ৭৬ মিনিটে লিও ওস্টিগার্ড গোল করেন। আর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে ইরাকের আত্মঘাতী গোলে নরওয়ের ব্যবধান আরও বাড়ে। সেই আত্মঘাতী গোলটিও এল আয়মেনের শরীরে লেগে।

বিশ্বকাপের বীরত্ব গাঁধা এবার নিশ্চয়ই নিজের বাড়িটাও সম্পূর্ণ করতে পারবেন আয়মেন।

‘বুড়ো’ মেসি এক ম্যাচে ভাঙলেন যত রেকর্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
‘বুড়ো’ মেসি এক ম্যাচে ভাঙলেন যত রেকর্ড
ছবি : রয়টার্স

আলজেরিয়াকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার যাত্রা শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। কনকাস সিটি স্টেডিয়ামে গ্রুপ-জে এর ম্যাচে ৩-০ হারিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। দলের জয়ে তিন গোলই মেসির।

ফুটবল বিশ্বকাপে এই প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন মেসি। এছাড়া আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি মেসির ১১তম হ্যাটট্রিক।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে অনবদ্য পারফরম্যান্সে অনেক বিশ্বরেকর্ডই ভেঙেছেন মেসি। আবার দাঁড়িয়ে আছেন অনেকগুলোর ছোঁয়ার দ্বারপ্রান্তে।

বিশ্বকাপ ফুটবলে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিকের রেকর্ডটি ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ওই কীর্তি গড়েছিলেন পর্তুগিজ তারকা।

কনকাস সিটি স্টেডিয়ামে চির প্রতিদ্বন্দ্বীর সেই রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন মেসি। ৩৮ বছরে হ্যাটট্রিক করলেন তিনি। এছাড়া এতদিন যৌথভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ হ্যাটট্রিকের মালিক ছিলেন মেসি-রোনালদো (১০টি)। তবে ১১ হ্যাটট্রিক নিয়ে এখন এককভাবে এই কৃতিত্বের মালিক মেসি।

এদিকে, আরও দুটি বিশ্বরেকর্ড গড়ার সামনে মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে তিন গোল করেই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে গেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। আর একটি গোল করলেই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের মালিক বনে যাবেন তিনি।

এছাড়া আরও একটি গোলে সরাসরি সহায়তা করলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের মালিক হবেন মেসি। বর্তমানে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সমান ৮টি অ্যাসিস্টের মালিন তিনি।

পানীয় বিরতি নিয়ে ফিফার সমালোচনা করলেন ফন ডাইক

ক্রীড়া ডেস্ক
পানীয় বিরতি নিয়ে ফিফার সমালোচনা করলেন ফন ডাইক

চলমান বিশ্বকাপে গরমের কথা চিন্তা করে ম্যাচের দুই অর্ধে পানীয় বিরতির ব্যবস্থা করে ফিফা। কিন্তু ফিফার এই নিয়ম নিয়ে সমালোচনা করলেন লিভারপুল ও ডাচ অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের আর্লিংটনের ‘এটিঅ্যান্ডটি’ স্টেডিয়ামে জাপানের বিপক্ষে ড্র করার পর সংবাদ ব্রিফিংয়ে  এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। 

ফন ডাইক বলেছেন, প্রতিটি ম্যাচে আবহাওয়া বিবেচনা না করে, এভাবে নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া খেলার স্বাভাবিক গতি নষ্ট করছে।

বিরতির সময় টিভি চ্যানেলগুলোতে যেভাবে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে তা পছন্দ নয় বলেও জানান ফন ডাইক। 

টেলিভিশন দর্শকদের জন্যও বারবার খেলা বন্ধ হওয়া মোটেও উপভোগ্য নয় বলেও যোগ করেন তিনি।  এতে তাদের মনে হচ্ছে যেন বিশ্বকাপের খেলাগুলো চারটি কোয়ার্টারে খেলা হচ্ছে বলেন তিনি।