আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব পরিবারকে পেনশনের অধীনে নিয়ে আসার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সাত কোটি গ্রাহকের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত নিবন্ধনকারীর সংখ্যা চার লাখেরও কম।
কার্যক্রম শুরুর মাত্র তিন বছর না পেরোতেই অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে ‘সর্বজনীন পেনশন’ কার্যক্রম। সে কারণেই সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রমকে গতিশীল ও শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
গত কয়েক বছরে নিবন্ধনসংখ্যা চার লাখের কাছাকাছি হলেও সরকার সেবা সহজতর করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও আস্থা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের চার কোটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে পেনশনের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) প্রায় এক হাজার ২২৭ কোটি টাকার ঋণ সহায়তা প্রদান করতেও সম্মত হয়েছে। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ সম্পর্কিত সরকারের নানামুখী উদ্যোগ থাকছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী দেশে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা ১১ কোটিরও বেশি। এই মানুষগুলোই মূলত কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচিত। বিশাল এই কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে পেনশন কার্যক্রমের চারটি স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রম, যেখানে আস্থার সংকটই শুরু থেকে মূল সমস্যা হিসেবে সামনে আসছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি এ নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে সরকার। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষকে এই কার্যক্রমকে দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই ও জনপ্রিয় করে তুলতে সব ধরনের কার্যক্রম হাতে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি এবার ব্যাংককর্মীদেরও অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই স্কিমের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো ধরনের পেনশন পান না। এ কারণে সরকার চায়, এসব ব্যাংকের কর্মীরা সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির আওতায় আসুন। এ লক্ষ্যে তাঁদের জন্য উপযুক্ত কর্মসূচিও বাছাই করেছে সরকার। এর নাম হবে ‘প্রগতি’।
সম্প্রতি ঢাকায় সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা বৈঠকে এসব বিষয় উঠে এসেছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান। অনুষ্ঠানে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আয়েশা হক উপস্থিত ছিলেন।
সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় বর্তমানে প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—এই চারটি স্কিমে মানুষ নিবন্ধনের সুযোগ পাচ্ছে। গত কয়েক বছরে নিবন্ধনসংখ্যা চার লাখের কাছাকাছি হলেও সরকার সেবা সহজতর করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও আস্থা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে কর্মরতদের পেনশন সুবিধা আছে। যেসব ব্যাংকে নেই, সেগুলোর কর্মীরা প্রগতি স্কিমে এলে অবসরজীবনে তাঁরা পেনশন ভোগ করতে পারবেন।
জানতে চাইলে অর্থসচিব ড. খায়রুজ্জামন মজুমদার জানিয়েছেন, সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করার উদ্যোগ রয়েছে। আসন্ন বাজেটে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা থাকবে।




