• ই-পেপার

করোনা সংকট

পুরনো চামড়ার স্তূপ, নতুন চামড়া সংগ্রহে অনিশ্চয়তা

সোনার বাজারে বড় মোড়, দাম কি আরো কমবে নাকি বাড়বে?

অনলাইন ডেস্ক
সোনার বাজারে বড় মোড়, দাম কি আরো কমবে নাকি বাড়বে?
স্বর্ণের গয়না। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে সোনার দাম এখন এক বড় ধরনের মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এই মূল্যবান ধাতুটির দাম কি আরো কমবে, নাকি আবার বাড়বে—তা ঠিক হতে পারে আগামী কয়েক দিনের বাজার পরিস্থিতির ওপর। খবর রয়টার্সের বাজার বিশ্লেষণ অবলম্বনে।

বছরের শুরুতেই সোনার বাজারে একটা বড় ধাক্কা লেগেছিল। গত ৩০ জানুয়ারি হঠাৎ করেই সোনার দাম অনেক বেড়ে যায়, কিন্তু তার পরপরই আবার হুড়মুড় করে কমে যায়। বাজারের ভাষায় একে বলা হয় ‘ব্লো-অফ টপ’। সহজ কথায়, দাম যখন একদম সর্বোচ্চ সীমানায় পৌঁছে হঠাৎ ধপাস করে পড়ে যায়, তখন তাকে এমনটা বলা হয়। এর পর থেকে সোনার দাম যতবারই একটু বাড়ার চেষ্টা করেছে, প্রতিবারই আগের বারের চেয়ে কম দামে গিয়ে আটকে গেছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা একে দেখছেন মন্দাভাবের লক্ষণ হিসেবে।

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, টানা দরপতনের কারণে সোনার দাম এখন তার ২০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজের (গড় মূল্য) কাছাকাছি নেমে এসেছে, যা প্রায় ৪ হাজার ৩৯৪ ডলার। বাজারের অনাকাঙ্ক্ষিত ওঠানামা বাদ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ট্রেন্ড বা গতি-প্রকৃতি বুঝতে ব্যবসায়ীরা এই সূচকটি ব্যবহার করেন।

বর্তমানে এই ২০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজের গুরুত্ব আরো বাড়িয়েছে এর কাছাকাছি থাকা আরো দুটি সূচক। একটি হলো গত অক্টোবর মাসের সর্বোচ্চ চূড়া (৪ হাজার ৩৮১.২১ ডলার) এবং অন্যটি সোনার ‘লোয়ার বলিঞ্জার ব্যান্ড’ (৪ হাজার ৪১৭ ডলার)। কারিগরি বিশ্লেষকদের কাছে অতীতের এই সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন রেকর্ডগুলো গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সোনার দাম যদি এই ২০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজ এবং অক্টোবরের সর্বোচ্চ চূড়ার নিচে নেমে যায়, তবে দাম আরও কমে গত মার্চ মাসের সর্বনিম্ন স্তর ৪ হাজার ৯৭.৯৯ ডলার কিংবা তারও নিচে চলে যেতে পারে।

তবে আশার কথা হলো, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সূচক ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই মুহূর্তে বাজারে ক্রেতা (বুলস) ও বিক্রেতাদের (বেয়ারস) মধ্যে একটি তীব্র মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চলছে। সোনার দাম যদি কোনোভাবে চলতি মাসের সর্বোচ্চ স্তর ৪ হাজার ৭৭৩.১৪ ডলারের ওপরে উঠে যেতে পারে, তবে বড় দরপতনের আশঙ্কা কেটে যাবে এবং বাজার আবার চাঙ্গা হওয়ার পথ সুগম হবে।

ঈদের তৃতীয় দিনে কত দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা?

অনলাইন ডেস্ক
ঈদের তৃতীয় দিনে কত দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা?

দেশের বাজারে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। গত ২৫ মে সকাল ১০টা থেকে এই দামে সোনা বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া এ দিন বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। 

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানায়, নতুন দাম নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এই দামেই দেশে সোনা ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি বিক্রি হবে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়।

আরো পড়ুন
আজকের নামাজের সময়সূচি, ৩০ মে ২০২৬

আজকের নামাজের সময়সূচি, ৩০ মে ২০২৬

 

২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা।

অন্যদিকে ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি রুপার দাম রাখা হচ্ছে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতিভরি ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতিভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

২০২০ সালের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

অনলাইন ডেস্ক
২০২০ সালের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের আশায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। ২০২০ সালের পর তেলের মূল্যে এটিকে সবচেয়ে বড় মাসিক দরপতন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ও ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ মে) বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ৫৪ ডলারে নেমে আসে। মে মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ব্রেন্টের দাম প্রায় ১৭ শতাংশ কমেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের বড় পতনের একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৮৭ দশমিক ৬৪ ডলারে। সপ্তাহের শুরুতে এর দাম ৯৪ দশমিক ৭০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজারে এই ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে একটি শান্তিচুক্তির খসড়া মিত্র দেশগুলোর কাছে পাঠানোর পর।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে ট্রাম্প এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এতে সম্মতি দেননি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, এখনো চূড়ান্ত না হলেও চুক্তি খুব কাছাকাছি রয়েছে।

গত ৯০ দিন ধরে চলা ইরান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয় এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষক হেনরি অ্যালেন বলেছেন, বাজারে সংঘাত শেষ হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ বাড়ছে। তেলের দাম কমায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্থবিরতা ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে তেলের দাম কমার ইতিবাচক প্রভাবে এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলো চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। শুক্রবার জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ২.৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩.৯ শতাংশ বেড়েছে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ০.৭ শতাংশ বাড়লেও, মূল ভূখণ্ড চীনের শেয়ার বাজারের পারফরম্যান্স ছিল কিছুটা মন্থর। দেশটির সাংহাই সিএসআই ৩০০ সূচক কমেছে ০.৪৫ শতাংশ।

বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম, দেশে ভরি কত?

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম, দেশে ভরি কত?

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে আবারও বাড়তে শুরু করেছে। টানা পতনে দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নামার পর, শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকে মূল্যবান এই ধাতুর দাম আবারও বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, মূল্যস্ফীতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। খবর গালফ নিউজখালিজ টাইমস

দুবাইয়ের বাজারে শুক্রবার লেনদেনের শুরুতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম বেড়ে প্রতি গ্রাম ৫৪৪.০ দিরহামে দাঁড়িয়েছে, যা বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বাজার বন্ধের সময় ছিল ৫৪১.২৫ দিরহাম। এর আগে গত ২৭ মে এর দাম কমে দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ৫৩৭.০ দিরহামে নেমেছিল।

অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে ২২ ক্যারেট সোনার দাম বেড়ে প্রতি গ্রাম ৫০৩.৭৫ দিরহাম, ২১ ক্যারেট ৪৮৩.০ দিরহাম, ১৮ ক্যারেট ৪১৪.০ দিরহাম এবং ১৪ ক্যারেট সোনা ৩২৩.০ দিরহামে বিক্রি হচ্ছে। বুধবার (২৭ মে) ২২ ক্যারেট সোনার দামও ৫০০ দিরহামের নিচে নেমে গিয়েছিল।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম আজ ০.২২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫১১ ডলারে লেনদেন হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে ফিউচার মার্কেটে সোনার দাম ১৬.৩৭ পয়েন্ট বা ০.৩৬ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫১৮.২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে রুপার বাজার আজ স্থিতিশীল ছিল, প্রতি আউন্স বিক্রি হয়েছে ৭৫.৭২ ডলারে।

সেঞ্চুরি ফাইন্যান্সিয়ালের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা বিজয় ভালেচা মনে করেন, কারিগরি দিক থেকে সোনার বাজারের এই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকতে পারে। তবে ক্যাপিটাল ডট কমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েল হাথর্ন কিছুটা ভিন্ন মত দিয়েছেন। তার মতে, সাম্প্রতিক বড় পতনের পর বাজার এখনো কিছুটা ভঙ্গুর। বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধি এবং মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়ায় সোনা কিছুটা চাপের মুখেও রয়েছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে দুই পক্ষ একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি।

ইরান সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বেড়েছে। এর ফলে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ আগামী বছর পর্যন্ত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আবার ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগ শুরু করেছেন, যার ফলে সোনার মতো নিরাপদ আশ্রয়ে বিনিয়োগের চাহিদা কিছুটা কমেছে।

পুরনো চামড়ার স্তূপ, নতুন চামড়া সংগ্রহে অনিশ্চয়তা | কালের কণ্ঠ