kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে তথ্য

নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে আগ্রহ কম ব্যাংকের

♦এসএমই উদ্যোক্তা ও ঋণ কমেছে ♦২০১৯ সালের পুরো সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ করেছে এক লাখ ৬৭ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা

জিয়াদুল ইসলাম    

২৯ মার্চ, ২০২০ ০৯:৩৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে আগ্রহ কম ব্যাংকের

সরকার শিক্ষিত যুবকদের চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দিলেও প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাবে উদ্যোক্তা হতে পারছেন না অনেকেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছর ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে (এসএমই) নতুন উদ্যোক্তা ও ঋণ বিতরণ দুই কমেছে। এ সময়ে নতুন উদ্যোক্তা কমেছে প্রায় পাঁচ হাজার। আর ঋণ বিতরণ কমেছে প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ। শুধু তাই নয়, এ সময়ে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যাও কমে গেছে। তবে সার্বিকভাবে এসএমই ঋণ বিতরণ বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারল্য সংকটের কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধিতে মন্থরগতি রয়েছে। এসএমই খাতেও তার প্রভাব পড়েছে। অভিযোগ আছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন উদ্যোক্তা ও নারীদের ঋণ দিতে তেমন আগ্রহ দেখায় না। উপরন্তু ঋণ পেতে দিতে হয় ঘুষ ও কমিশন। ফলে প্রতিবছর যে পরিমাণ নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হওয়ার কথা সেটি হচ্ছে না। এতে চাপ বাড়ছে চাকরির বাজারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯ সালের পুরো সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ করেছে এক লাখ ৬৭ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা। নতুন-পুরনো মিলে সাত লাখ ৭৪ হাজার ১২২ জন উদ্যোক্তা এই ঋণ পেয়েছেন। ২০১৮ সালে ছয় লাখ ৮৭ হাজার ৫২২ জন উদ্যোক্তা এক লাখ ৫৯ হাজার ৫১০ কোটি টাকার ঋণ পেয়েছিলেন।

গত এক বছরের ব্যবধানে এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে আট হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। আর উদ্যোক্তার সংখ্যা বেড়েছে ৮৬ হাজার ৬০০ জন। তবে এ সময়ে নতুন উদ্যোক্তার সংখ্যা ও ঋণ দুটিই কমেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর দুই লাখ ছয় হাজার ৯৭৪ জন নতুন উদ্যোক্তাকে এসএমই ঋণ দিয়েছে ব্যাংকগুলো। এদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ২৬ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের পুরো সময়ে এক লাখ ৩৫ হাজার ৯৪১ উদ্যোক্তার মাঝে ২৬ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ গত বছর নতুন উদ্যোক্তা কমেছে চার হাজার ৯৩৮ জন এবং ঋণ বিতরণ কমেছে তিন হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা।

এ সময়ে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যাও কমেছে। ২০১৮ সালে ৫৭ হাজার ৫৭১ জন নারী উদ্যোক্তাকে ব্যাংকগুলো অর্থায়ন করলেও গত বছর করেছে ৫৬ হাজার ৭০৬ জনকে। তবে নারী উদ্যোক্তা কমলেও এ খাতে ঋণ বিতরণ সামান্য বেড়েছে। গত বছর এ খাতে ছয় হাজার ১০৯ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে। আগের বছর বিতরণ হয়েছিল পাঁচ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে এ সময়ে জামানতবিহীন ঋণ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ বিতরণ বেড়েছে। গত বছর দুই লাখ ছয় হাজার ৯৭৪ উদ্যোক্তাকে জামানত ছাড়া ২৬ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এক লাখ ৭৩ হাজার ৮১৫ উদ্যোক্তা পেয়েছিলেন ২৪ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকার ঋণ। এ হিসাবে গত বছর জামানত ছাড়া ঋণ বেড়েছে দুই হাজার ৩৩০ কোটি টাকা। গত বছর নারী উদ্যোক্তা খাতে ছয় হাজার ১০৯ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ৫৬ হাজার ৭০৬ জন নারী উদ্যোক্তা এই ঋণ পেয়েছেন। আগের বছর ৫৭ হাজার ৫৭১ জন উদ্যোক্তা পাঁচ হাজার ৫১৭ কোটি টাকার ঋণ পেয়েছিলেন।

সম্প্রতি রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় এসএমই পণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তরুণ গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, পাস করে চাকরির পিছে না ছুটে, ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ জন্য ঋণের সুদের হার কমিয়ে সিঙ্গেল ডিজিট করা হয়েছে; যাতে করে আমাদের উদ্যোক্তারা ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা