কলকাতার পূর্ব প্রান্তে সল্টলেকে বিশাল মেলা প্রাঙ্গন সেন্ট্রাল পার্ক।বছরের এই সময় সকল বইপ্রেমী মানুষের এটাই তীর্থস্থান আর সেই তীর্থ ক্ষেত্রের মধ্যমনী বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন। এ বছর কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা ৪৪ তম বর্ষ। প্রায় ১০০০ স্টল রয়েছে মেলা মাঠ জুড়ে। লক্ষ মানুষ আসছেন এই বারো দিনব্যাপী মেলায়। নানা ভাষার বই, নানা মাপের স্টল, নানা দেশের আকর্ষণ আর রকমারি খাবারের দোকানের মাঝে চোখ পড়ার মত এক ঠিকানা বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন। কলকাতা বুকসেলারস এন্ড পাবলিশার্স গিল্ডের ত্রিদিব চ্যাটার্জী বললেন, 'প্রত্যেকবার আমরা একটা থিম দেশ রাখি বইমেলায়। এবার থিম রাশিয়া.. কিন্তু বাংলাদেশে এই মেলার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।' তবে কালের কণ্ঠের সাথে আলাপের সময় নিজের আক্ষেপের কথা জানাতে ভোলেননি তিনি। বললেন, 'বাংলাদেশে একুশের বইমেলাতে কিন্তু আমরা যেতে পারিনা বিধিনিষেধের কারণে। কলকাতা যদিও আদতে বাঙালির শহর ভারতের নানা ভাষা নানা মত এবং নানা পরিধানের চাপে অনেকেই ভুলতে বসেছে বাংলা ভাষা। আমরা চাই আরো বেশি করে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশক আসুক। তাই মেলাত এই বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন। এই বছর কলকাতা বইমেলাতে সরকারি এবং বেসরকারি ৪৫ টি বাংলাদেশি প্রকাশনা সংস্হা এসেছেন এবং শান্তিনিকেতনের বাংলাদেশ ভবনের ধাঁচে যে প্যাভিলিয়ন তৈরি হয়েছে তাতে বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র অধিদপ্তর, অনিন্দ্য প্রকাশ, কাকলি পাবলিকেশন্স, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স, অন্যধারা, অন্যপ্রকাশ, সন্দেশসহ আরো অনেক। বাইরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিসহ এই এক টুকরো বাংলাদেশে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর, কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সাহিত্য একাডেমি, বাংলাপ্রকাশ ইত্যাদি। অন্য প্রকাশের স্টলে বসে থাকা শাহরিয়ার মাহমুদ বললেন, 'কলকাতা বইমেলাতে প্রতিবছর আসি আমরা। বাংলাদেশের বাঙালি সাহিত্য নিয়ে মানুষের অনেক উৎসাহ। মানুষ অপেক্ষা করেন বইমেলার কারণ বাংলাদেশের বই এখানে সহজে পাওয়া যায় না। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর যেন আরো বেশি পাঠকদের বই কেনার হিড়িক দেখা যাচ্ছে। হুমায়ূন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন এনাদের বই ছাড়াও গবেষণামূলক, অনুবাদের বইয়ের চাহিদা ও পাঠকদের মধ্যে বেড়েছে। কলকাতার বইপ্রেমী যুবক সায়ন্তন ঘোষ বললেন, বাংলাদেশ আমাদের হৃদয়ে আর আমি হুমায়ূন আহমেদের ফ্যান। প্রত্যেকবার উনার বই কিনি এবার আরো কিনলাম। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং তার ইংরেজি অনুবাদ এবারও বইমেলার হটকেক পাঠকরা এসে এ বইটি বেশিরভাগ চাইছেন- বললেন মো. সজিব যিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর স্টলে বসে ছিলেন। আর ঠিক সেই সময়ই দুজন পাঠক এসে এই বইটাই আবদার করলেন। বেশ কয়েকশো কোটি টাকার ব্যবসা হয় এই বইমেলায় যার ২৮ জানুয়ারি উদ্বোধন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এই মেলা চলবে 9 ফেব্রুয়ারি অব্দি। এবং বইমেলার শেষ দিন পালিত হবে বাংলাদেশ উৎসব। কলকাতা বইমেলায় প্রতিবছরই আসি এবং একটা ভালোলাগার অনুভূতি হয় যে আমাদের ভাষা এক সংস্কৃতি এবং আমাদের বই এখানে পাঠকরা পড়ছেন। এবছর এসে আরো বেশি ভালো লাগার কারণ আমার আমার চারটি নতুন বই বেরিয়েছে, বললেন নবীন লেখক সাদাত হোসাইন।