• ই-পেপার

জুলাই শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে ছাত্রদলের মোমবাতি প্রজ্বলন

জামায়াতের তুরস্ক কানেকশন এবং একাত্তরের পাপ

অনলাইন ডেস্ক
জামায়াতের তুরস্ক কানেকশন এবং একাত্তরের পাপ

বাংলাদেশে টার্কিশ এয়ারলাইনসের বাংলাদেশে জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) হলো অ্যারোমেট সার্ভিসের লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এবং অন্যতম কর্ণধার শাহরিয়ার নাসের জাহেদী সম্প্রতি জামায়াতে যোগদান করেছেন বলে ঝিনাইদহে জোর গুঞ্জন রয়েছে। যদিও শাহরিয়ার নাসের জাহেদী তা অস্বীকার করেছেন। তিনি জামায়াতে যোগ দিন আর না দিন, দলটির সঙ্গে জাহেদীর ঘনিষ্ঠতার কথা সবাই জানেন। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে তিনি ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ’২৪-এর আমি-ডামি নির্বাচনে জাহেদী, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এরপর তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করে বিজয়ী হন। ২০০৮ সালের আগে অবশ্য এই জাহেদী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৭ সালে এক-এগারোর সময় তিনি তার বন্ধু তৎকালীন সিজিএস জেনারেল (অব) সিনহা ইবনে জামালীর বদৌলতে ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন। সেই সময় তার হাতে বিএনপি নেতা মশিউর রহমানসহ বহু নেতা-কর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। জাহেদী শুধু অ্যারোমেটের কর্ণধার নন, দেশের অন্যতম শীর্ষ ওষুধ কোম্পানি রেডিয়েনটের কর্ণধারও বটে। ঝিনাইদহের সাধারণ মানুষ বলছে জাহেদী যেখানে ক্ষমতার গন্ধ পায় সেখানেই বাসা বাঁধে। তাদের শঙ্কা, তাহলে কি জামায়াত শিগগিরই ক্ষমতায় আসবে?

দেশের অন্যতম একটি শিল্পগোষ্ঠীর মালিকের জামায়াতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন, সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ইঙ্গিত বহন করে বলে অনেকে মনে করেন। জামায়াত এখন নিজেদের গণ্ডির বাইরে গিয়ে সম্পর্ক স্থাপন করছে। এই ঘটনা তার প্রমাণ।

তবে এই সাধারণ সূত্রের পেছনে রয়েছে আরও গভীর ষড়যন্ত্রের সূত্র। শাহরিয়ার নাসের জাহেদীর জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি তুরস্কের সঙ্গে একাত্তরের পরাজিত শক্তির সম্পর্কের একটি উদাহরণ। কেবল টার্কিশ এয়ারলাইনসের জিএসএ নয়, তুরস্ক থেকে আসা জাকাত ফান্ডসহ দেশটির সঙ্গে একাধিক ব্যবসায় জড়িত জাহেদী। জাহেদীর মতো তুরস্ক কেন্দ্রিক বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী এখন জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। এটা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রতিদিন জানায়, গত ২৩ বছর ধরে তুরস্কের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি নামক একটি মৌলবাদী দল। ২০০৩ সালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতায় আরোহণ দলটির প্রধান নেতা রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের। তিনি ধীরে ধীরে তুরস্ককে উদার, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের চরিত্র থেকে ইসলামপছন্দ রাষ্ট্রের দিকে টেনে আনেন। ২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এ পদেই দায়িত্ব পালন করছেন। প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল ও জাতীয়তাবাদী সমর্থকদের ওপর নির্ভরশীল। তার নেতৃত্বে কট্টর মুসলিম জাতীয়তাবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছে তুরস্কে। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সিরিয়া, লিবিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অঞ্চলে তুরস্কের কৌশলগত স্বার্থ ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিভিন্ন বিদ্রোহী বা ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আঙ্কারার যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। এর অংশ হিসেবেই বাংলাদেশে জামায়াতের সঙ্গে তুরস্কের গোপন সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বলে জানা যায়। এই সময়ে তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করে এবং তাদের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান শুরু করে। জামায়াতের সঙ্গে তুরস্কের ক্ষমতাসীন দলের সম্পর্ক প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০১৬ সালে। যখন দেশটি জামায়াতের নেতা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায়ের নিন্দা জানায় এবং রায় কার্যকর না করার জন্য তৎকালীন সরকারকে চিঠি দেয়।

তুরস্কের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চ-এর উপদেষ্টা ‘সেলচুক কোলাগলু’ ২০১৯ সালে মিডল-ইস্ট ইনস্টিটিউটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ ব্যাপারে লিখেছেন, দেশটির ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২০১১ সালে ইসলামভিত্তিক রাজনীতির মতাদর্শ গ্রহণ করেছিল। এরই অংশ হিসেবে তুরস্কের ক্ষমতাসীন দলটি মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডকে যেমন সমর্থন দিয়েছিল, তেমনি বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর প্রতিও তাদের সমর্থন ছিল বলে মনে করেন মি. কোলাগলু।

বাংলাদেশে ২০১৬ সাল থেকে তুরস্ক জামায়াতকে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। অ্যারোমেট এমনই একটি প্রতিষ্ঠান। এই সময় তুরস্ক বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কও বৃদ্ধি করে। এক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দুই বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে। বাংলাদেশ তুরস্কের কাছ থেকে পিঁয়াজ থেকে শুরু করে সেনা সরঞ্জাম পর্যন্ত কেনা শুরু করে। আওয়ামী লীগ আমলে তুরস্কের সঙ্গে এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির সুফল পায় জামায়াত। এই বাণিজ্যিক সম্পর্কের আড়ালে তুরস্ক জামায়াতেকে পুনরুজ্জীবিত করে। আজকের জামায়াত তুরস্কের ব্রেন চাইল্ড বলেও মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই এক দশকে (২০১৬-২০২৬) জামায়াত সাংগঠনিকভাবে পুনর্গঠিত হয়েছে। এর পেছনে প্রধান অর্থদাতা ছিল তুরস্কের সঙ্গে ব্যবসা করা বাংলাদেশিরা। তাদের মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সিআরএসের (করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি) নামে জামায়াত নিয়ন্ত্রণাধীন মাদ্রাসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়।

তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি) এবং বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী একই মতাদর্শে বিশ্বাসী। এ কারণেই এককালের ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্ক জামায়াতের ঘনিষ্ঠ মিত্রতে পরিণত হয়েছে। ১৯২৮ সালে মিসরে ইখওয়ানুল মুসলিমিন (মুসলিম ব্রাদারহুড) প্রতিষ্ঠা করেন হাসান আল বান্না ও সাইয়্যেদ কতুব। ইতিহাসবিদ ফিলিপ জেনকিন্সের মতে, জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদীর মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই ব্রাদারহুড প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে মওদুদী জামায়াত প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৪০ সালে। ১৯৭৯ সালে মওদুদীর মৃত্যুর পর ব্রাদারহুডই হয়ে ওঠে তার দর্শনে বিশ্বাসী ও মতাদর্শে পরিচালিত দলগুলোর ঐক্যের প্রতীক। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে মওদুদীর মতাদর্শে বিশ্বাসী দল। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে এরা জামায়াতে ইসলামী নামে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন নামে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে। কয়েকটি দেশে ক্ষমতার শরিক হলেও সুদানে ও তুরস্কে এককভাবে ক্ষমতায় আছে তারা। এসব দলের ওপর ব্রাদারহুডের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর জামায়াতের প্রতি সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে তুরস্কের বর্তমান সরকার। জুনের প্রথম সপ্তাহে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশ সফরকালে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। এর আগে গত মে মাসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তুরস্কের হুদা পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান হুসাইন এমির এবং এনজিও বিভাগের প্রধান ফিকির কারাভিল।

জামায়াতের সঙ্গে তুরস্কের বহুমুখী সম্পর্ক এখন দৃশ্যমান। বহু ছাত্রশিবিরের সদস্য উচ্চশিক্ষার জন্য তুরস্কে যাচ্ছেন। তাদের বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির বেশির ভাগ ফায়দা নিচ্ছে জামায়াত। তুরস্কে জামায়াতের কর্মীদের নিয়মিত রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির আদলে জামায়াতকে আধুনিকীকরণের কাজটা করছে তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, বাইরে উদার গণতান্ত্রিক মনোভাব দেখানো, পোশাকে আধুনিকতা, ইত্যাদি নানা বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছে তুরস্কের ক্ষমতাসীনরা। বাংলাদেশে জামায়াতকে ক্ষমতায় আনার একটি নীলনকশা তৈরি করেছে। এখন যার বাস্তবায়ন চলছে।

কিন্তু বাংলাদেশে জামায়াতের প্রধান প্রতিপক্ষ তাদের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক যেমন গভীর পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে তেমনি জামায়াতের একাত্তরের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করতে হবে। জামায়াত এখন উদারতার এবং আধুনিকতার যে রাজনীতির কথা বলছে তা আসলে একটি মুখোশ।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা জাতীয় ছাত্রশক্তির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা জাতীয় ছাত্রশক্তির

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘জুলাই থেকে জাগরণ, জাগরণ থেকে নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে দেশজুড়ে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে রায়ের বাজার কবরস্থানে অজ্ঞাতপরিচয় শহীদদের কবর জিয়ারত, ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল ছাত্র সংগঠনের অংশগ্রহণে সংহতি সমাবেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে জুলাইয়ের গান, কবিতা, পথনাটক ও মূকাভিনয়ের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং আলোকচিত্র ও ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী।

এ ছাড়া জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে গল্প, কবিতা, ছবি ও অ্যানিমেশন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠান, জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে কফিন মিছিল, জুলাই কনফারেন্স, শহীদদের কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, গ্রাফিতি অঙ্কন এবং অভ্যুত্থানের নেতৃবৃন্দের ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টেশন কর্মসূচিও রয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের আত্মত্যাগ, সাহস ও আপসহীন সংগ্রাম বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র নির্মাণে তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ করাই জাতীয় ছাত্রশক্তির অঙ্গীকার।

জাতীয় ছাত্রশক্তি দেশের শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ ও গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণকে গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অভিযাত্রায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে দেখতে হাসপাতালে ডা. বিটু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে দেখতে হাসপাতালে ডা. বিটু

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. জিয়াউল হক স্যারের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তাঁর অসুস্থতার বিষয়টি অবগত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় তাঁর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির (বিটু) হাসপাতালে গিয়ে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

হাসপাতালে পৌঁছে ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির (বিটু) দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর চিকিৎসার সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করে শুভ কামনার বার্তা পৌঁছে দেন।

এ সময় ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির (বিটু) বলেন, ‌‘দেশের একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী এবং জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিত্বের অসুস্থতার সংবাদে প্রধানমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর নির্দেশনায় সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা করা হয়েছে। আমরা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করছি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতিও আন্তরিক সহমর্মিতা জানাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার হলে, তাঁর পক্ষে আইনজীবী হিসেবে সাহসিকতার সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া।

প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগ অসুস্থ প্রবীণ রাজনীতিকের প্রতি রাষ্ট্রীয় সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জুলাই অভ্যুত্থান স্মরণে ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচি

অনলাইন ডেস্ক
জুলাই অভ্যুত্থান স্মরণে ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচি
সংগৃহীত ছবি

জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান স্মরণ, শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মাসব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার দীর্ঘ ধারাবাহিক লড়াইয়ের বীরোচিত বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাসব্যাপী এই কর্মসূচির প্রথম ধাপে ১ জুলাই প্রথম প্রহরে (৩০ জুন, মঙ্গলবার রাত ১১টায়) জাতীয় শহীদ মিনারে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচিতে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনে ‘আলোয় আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ শিরোনামে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও মোমবাতি প্রজ্বালন করা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ, সব অংশীজনের অবদানের স্বীকৃতি ও জাতীয় ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখতেই ছাত্রদল মাসব্যাপী এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে। কেন্দ্রীয় সংসদের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে সারা দেশের বিভিন্ন ইউনিটেও এই কর্মসূচি পালন করা হবে।