বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আলোচনা করতে গেলে এত অল্প পরিসরে হয় না। তাকে নিয়ে গবেষণাটা এত অপ্রতুল যে ইতিহাসের প্রতি কিছুটা কৃপণতা ও অবিচার করা হয়েছে। তা দূর করতে জিয়াউর রহমানের পুরো জীবন, তার কাজ, চিন্তাভাবনাগুলো নিয়ে অত্যন্ত উঁচু মানের একটা গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।’
রবিবার (১৪ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণমাধ্যম ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন। জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে এই আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমি যতগুলো বই পড়েছি, আমার কাছে একমাত্র আমাদের বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ সাহেবের লেখা বইটাই সবচেয়ে ভালো লেগেছে। জিয়াউর রহমান মাত্র সাড়ে তিন-চার বছরে অনেক কাজ করেছেন। রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে তিনি হাত দিয়েছিলেন। তার মৌলিক কাজগুলোর মধ্যে একটি হলো আমাদের আলাদা আইডেন্টিটি দিয়ে গেছেন। আমি যে পশ্চিম বাংলার বাঙালি নই, এই ভূখণ্ডের একজন নাগরিক এবং আমাদের যে আলাদা একটা সত্তা আছে, এটা তিনি এস্টাবলিশ করেছেন তার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মধ্য দিয়ে। আমার কাছে তার বড় কাজের মধ্যে দ্বিতীয় হচ্ছে, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য কাজ শুরু করেছিলেন।’
দেশের গণমাধ্যম নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মিডিয়ার সমস্যা এখন বিশাল। আমি অত কিছু বলতে চাই না। সবচেয়ে বড় সমস্যা, মিডিয়া তো এখন মিডিয়া নাই। এখন বিজনেস হাউসের প্রতিনিধি হয়ে গেছে। চাটুকারিতা কাকে বলে, এখন মিডিয়াতে দেখা যায়। কিছু মনে করবেন না, লাস্ট রেজিমে কিভাবে চাটুকারিতা হয়েছে তা আমরা দেখেছি। আশা করব, এখন আপনারা সেখান থেকে বেরিয়ে এসছেন, লড়াই করেছেন, যুদ্ধ করেছেন এর বিরুদ্ধে নিঃসন্দেহে। আপনারা ভালোভাবে এটাকে কাজে লাগান, আমরা আপনাদের সঙ্গে আগেও ছিলাম, এখনো আছি। এই ব্যাপারে আপনাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করব।’
একই অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী এবং ১৬ জুনের সংবাদপত্র বাতিলের কালো আইনের মধ্য দিয়ে দেশের গণমাধ্যম যে অন্ধকার গলিতে ঢুকে পড়েছিল, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে সেখান থেকে গণমাধ্যমকে আবার মুক্ত আকাশে বের করা সম্ভব হতো কি না—ইতিহাসে সেই প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে যুগ যুগ ধরে শহীদ জিয়াউর রহমানকে সসম্মানে স্মরণ করতে হবে, কারণ তিনি স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করেছেন।’
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া ছিলেন সাধারণ মানুষের মাটির সন্তান। এখন বিএনপি নতুন চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে। এখানে ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্র আছে। সীমান্তে রক্ত ঝরছে। ভারতের ১২০ কোটি আর বাংলাদেশের ২০ কোটি মিলে বিশ্বশক্তি হতে পারে, আমরা এই বয়ান গ্রহণ করতে রাজি নই। আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই সমতার ভিত্তিতে, ন্যায্যতার ভিত্তিতে।’
তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের ওপর অনেক গবেষণার অবকাশ আছে। তাকে নিয়ে গবেষণা করতে হবে, আবিষ্কার করতে হবে, পুনরাবিষ্কার ও পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। আমাদের গণতন্ত্রের জন্য প্রেসিডেন্ট জিয়ার আদর্শ ও কাজের কাছে দ্বারস্থ হতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ূব ভূঁইয়া, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম এবং দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক শায়রুল কবির খান প্রমুখ।




