• ই-পেপার

দুবাই কোরআন প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন যে বাংলাদেশি

ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পদের মালিকানা

সায়্যিদ মুনিব মুর্শিদ
ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পদের মালিকানা

পৃথিবীতে সম্পদের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক যত পুরনো, এর মালিকানার প্রশ্নটিও তত পুরনো। মানুষ সব যুগেই কিছু জিনিসকে নিজের বলে চিহ্নিত করতে চেয়েছে। জমি, ঘর, ব্যবসা কিংবা অর্থ—এসবের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যক্তি যেমন চেষ্টা করেছে, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রও বিভিন্ন নিয়ম-কানুন তৈরি করেছে।

অর্থনীতির ইতিহাসের একটি বড় অংশ জুড়েই আছে এই মালিকানার প্রশ্ন। কে সম্পদের মালিক হবে, তার অধিকার কতটুকু হবে, সেই অধিকার কোথায় গিয়ে শেষ হবে—সভ্যতার বিভিন্ন পর্যায়ে এসব প্রশ্নের ভিন্ন ভিন্ন উত্তর দেওয়া হয়েছে। তবে ইতিহাসের একটি বাস্তবতা কখনো পরিবর্তিত হয়নি।

মানুষের মালিকানা স্থায়ী নয়। যে জমি একসময় একজনের ছিল, পরবর্তী সময়ে তা অন্যের হয়েছে। যে সম্পদ নিয়ে মানুষ গর্ব করেছে, মৃত্যুর পর তা উত্তরাধিকারীদের হাতে চলে গেছে। মানুষ পৃথিবী ছেড়ে গেছে, কিন্তু সম্পদ পৃথিবীতেই রয়ে গেছে। এই সরল অথচ গভীর সত্যটিকেই ইসলাম মালিকানা দর্শনের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে।

ইসলামী অর্থনীতি মানুষের মালিকানাকে অস্বীকার করে না; বরং ব্যক্তিমালিকানা স্বীকৃতি দেয়, সুরক্ষা দেয় এবং বৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনকে উৎসাহিত করে। কিন্তু ইসলাম একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেয়, মানুষের মালিকানা চূড়ান্ত নয়। মানুষের হাতে যা কিছু আছে, তা মূলত তার কাছে অর্পিত একটি আমানত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আসমান ও পৃথিবীর সার্বভৌম মালিকানা আল্লাহর।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৮৯)

অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাদের যে সম্পদ দিয়েছেন, তা থেকে তাদের প্রদান করো।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩৩)

দ্বিতীয় আয়াতটির ভাষা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে মানুষের হাতে থাকা সম্পদকেও ‘আল্লাহর সম্পদ’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ মানুষ সম্পদের ভোগদখলকারী হতে পারে, আইনগত মালিক হতে পারে, কিন্তু প্রকৃত মালিক নয়। ইসলামী অর্থনীতির মালিকানা-দর্শনের ভিত্তি এখানেই। মানবসভ্যতার অর্থনৈতিক চিন্তার ইতিহাসে মালিকানা নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ গড়ে উঠেছে।

ইংরেজ দার্শনিক জন লক তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘সেকেন্ড ট্রিটিজ অব গভর্নমেন্ট’-এ ব্যক্তিগত মালিকানার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘Though the earth, and all inferior creatures, be common to all men, yet every man has a property in his own person...’

লকের মতে, মানুষের শ্রম তার নিজের সম্পত্তি। আর যখন সে তার শ্রমকে কোনো কিছুর সঙ্গে যুক্ত করে, তখন সেই বস্তু তার বৈধ সম্পত্তিতে পরিণত হয়। আধুনিক ব্যক্তিগত মালিকানাতত্ত্বের বিকাশে এই ধারণা গভীর প্রভাব ফেলেছে।

ইসলাম শ্রমের মর্যাদাকে অস্বীকার করে না; বরং শ্রম, উদ্যোগ ও বৈধ উপার্জনকে সম্মানের চোখে দেখে। কিন্তু ইসলাম এখানেই থেমে যায় না। ইসলাম প্রশ্ন করে—শ্রমের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ কি মানুষকে সীমাহীন অধিকার দেয়? সে কি ইচ্ছামতো সম্পদ ব্যবহার করতে পারে? তার সম্পদের মধ্যে কি অন্য কারো কোনো অধিকার নেই? ইসলামের উত্তর হলো, সম্পদের সঙ্গে দায়িত্বও রয়েছে। সম্পদ শুধু অধিকার নয়, আমানতও।

এই দায়িত্বের ধারণাই ইসলামী অর্থনীতিকে শুধু অর্থনৈতিক তত্ত্বের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং তাকে একটি নৈতিক ব্যবস্থায় পরিণত করেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পদ এমন এক বিষয়, যার ব্যাপারে মানুষকে জবাবদিহি করতে হবে। সে শুধু কত সম্পদ অর্জন করেছে, তা নয়; কিভাবে অর্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই কোরআন সম্পদকে নিছক আশীর্বাদ হিসেবে নয়, পরীক্ষা হিসেবেও উল্লেখ করেছে। ‘তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তো কেবল পরীক্ষা।’ (সুরা : তাগাবুন, আয়াত : ১৫)

এই আয়াত আমাদের একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষা দেয়। মানুষ সাধারণত সম্পদকে সাফল্যের প্রতীক মনে করে। কিন্তু কোরআন সম্পদকে দায়িত্বের মানদণ্ড হিসেবেও দেখছে। সম্পদ মানুষের মর্যাদা বাড়াতে পারে, আবার তাকে বিভ্রান্তও করতে পারে। সম্পদ মানুষের কল্যাণের মাধ্যম হতে পারে, আবার তার নৈতিক পতনের কারণও হতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই জবাবদিহির বিষয়টিকে আরো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার পদক্ষেপ সরবে না, যতক্ষণ না তাকে তার সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে—কোথা থেকে তা অর্জন করেছে এবং কোথায় তা ব্যয় করেছে।’ (জামে তিরমিজি)

এই হাদিস ইসলামী অর্থনীতির একটি মৌলিক নীতি তুলে ধরে। পৃথিবীর বহু অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মানুষের সম্পদের পরিমাণকে গুরুত্ব দেয়; ইসলাম গুরুত্ব দেয় তার উৎস ও ব্যবহারের ওপর। একজন ব্যক্তি বিপুল সম্পদের মালিক হতে পারেন, কিন্তু যদি সেই সম্পদ অন্যায়ভাবে অর্জিত হয় কিংবা অন্যায় কাজে ব্যয় হয়, তবে ইসলামের দৃষ্টিতে তা সাফল্য নয়। এ কারণেই ইসলামে উপার্জনের বৈধতা একটি কেন্দ্রীয় বিষয়। শুধু ধনী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ নয়, বৈধ উপায়ে ধনী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ব্যয় করা গুরুত্বপূর্ণ নয়, সঠিক স্থানে ব্যয় করা গুরুত্বপূর্ণ।

সমকালীন ইসলামী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ওমর চাপরা তাঁর ‘ Islam and the Economic Challenge’ গ্রন্থে দেখিয়েছেন যে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে নৈতিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হলে প্রকৃত মানবকল্যাণ অর্জন সম্ভব নয়। সম্পদ বৃদ্ধি সমাজের জন্য কল্যাণকর হতে পারে, কিন্তু সেই সম্পদ যদি ন্যায়বিচার, মানবিকতা এবং সামাজিক ভারসাম্যের সঙ্গে যুক্ত না হয়, তবে তা নতুন সংকটও সৃষ্টি করতে পারে।

ইসলামী অর্থনীতিতে মালিকানা তাই একাধারে অধিকার ও দায়িত্ব। একজন ব্যক্তি তার সম্পদের মালিক, কিন্তু সেই সম্পদের মধ্যে দরিদ্রের অধিকার রয়েছে। একজন ব্যবসায়ী তাঁর লাভের অধিকার রাখেন, কিন্তু প্রতারণার অধিকার রাখেন না। একজন ধনী তাঁর সম্পদ ভোগ করতে পারেন, কিন্তু অপচয়ের অধিকার রাখেন না। এ কারণেই ইসলামে জাকাত শুধু একটি ধর্মীয় বিধান নয়, এটি মালিকানার দর্শনের একটি বাস্তব প্রকাশ। কারণ ইসলাম মনে করে সম্পদ একেবারে ব্যক্তিগত বিষয় নয়। সমাজের দুর্বল ও বঞ্চিত মানুষেরও সেই সম্পদের ওপর নির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে।

একইভাবে উত্তরাধিকার আইনও ইসলামী অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বহু সভ্যতায় সম্পদ কয়েকটি পরিবারের হাতে শতাব্দীর পর শতাব্দী কেন্দ্রীভূত থেকেছে। ইসলাম উত্তরাধিকারের মাধ্যমে সেই কেন্দ্রীভবনকে ভেঙে সম্পদের বিস্তৃত বণ্টনের ব্যবস্থা করেছে। ফলে সম্পদ সমাজে চলাচল করে, স্থবির হয়ে থাকে না।

কোরআন সম্পদের সঞ্চয়কে নয়, সম্পদের সঠিক প্রবাহকে গুরুত্ব দিয়েছে। এ কারণেই সুরা আল-হাশরে বলা হয়েছে, ‘যাতে সম্পদ কেবল তোমাদের ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়।’ (সুরা : হাশর, আয়াত : ৭)

এই সংক্ষিপ্ত আয়াতটি ইসলামী অর্থনীতির সামাজিক দর্শনকে গভীরভাবে ধারণ করে। ইসলাম সম্পদের বিরোধিতা করে না; বরং সম্পদের একচেটিয়া আধিপত্যের বিরোধিতা করে।

ইসলামের ইতিহাসে আমরা এই দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পাই। উসমান ইবনে আফফান (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) ছিলেন মদিনার অন্যতম ধনী সাহাবি। ইসলাম তাঁদের সম্পদের জন্য সমালোচনা করেনি; বরং তাঁদের সম্পদকে সমাজকল্যাণে ব্যয় করার জন্য প্রশংসা করেছে। এতে স্পষ্ট হয় যে ইসলামের আপত্তি সম্পদের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে নয়; বরং সম্পদের অহংকার, অপব্যবহার এবং অন্যায় কেন্দ্রীভবনের বিরুদ্ধে। বস্তুত ইসলামী অর্থনীতির মালিকানা-দর্শন মানুষকে দুটি ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। একদিকে এটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও মালিকানার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়, অন্যদিকে সীমাহীন মালিকানার ধারণাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি মানুষকে সম্পদ অর্জনে উৎসাহিত করে, কিন্তু সম্পদের দাসত্ব থেকে মুক্ত থাকতে শিক্ষা দেয়।

এ কারণেই ইসলামে সম্পদকে শুধু ভোগের উপকরণ হিসেবে দেখা হয় না; বরং একটি আমানত হিসেবে দেখা হয়। আর আমানতের প্রকৃতি হলো তার সঙ্গে দায়িত্ব জড়িত থাকে। মানুষ তার সম্পদের হিসাব ব্যাংকের কাছে দিতে পারে, রাষ্ট্রের কাছেও দিতে পারে; কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে তাকে একদিন তার রবের কাছেও হিসাব দিতে হবে। সেই বোধই ইসলামী অর্থনীতির মালিকানা-দর্শনের প্রাণ। এখানে সম্পদ আছে, মালিকানা আছে, বাজার আছে, উদ্যোগ আছে; কিন্তু সবকিছুর ওপর রয়েছে নৈতিক জবাবদিহির ছায়া। আর এখানেই ইসলামী অর্থনীতি শুধু একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নয়, বরং একটি নৈতিক সভ্যতার অংশ হয়ে ওঠে।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা সালমান নদভির ইন্তেকাল

ইসলামী জীবন ডেস্ক
উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা সালমান নদভির ইন্তেকাল

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম, বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার, গবেষক ও বহু গ্রন্থপ্রণেতা মাওলানা সাইয়েদ সালমান আল-হুসাইনি নদভি আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। 

সোমবার (২৯ জুন) ভারতের লখনউয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। পরে মরহুমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে তার মত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

তাঁর ইন্তেকালের খবরে ভারতসহ উপমহাদেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ধর্মীয় ও একাডেমিক অঙ্গনে তার মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন আলেম-উলামা ও শিক্ষাবিদরা।

আজ আসর নামাজের পর জামিয়া সাইয়েদ আহমদ শহিদ কাটোলিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।

শায়খ সালমান আল-হুসাইনির মৃত্যুতে বিশ্বের ইসলামী ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদরা গভীর শোক জানিয়েছেন। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক ইসলামী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর মুসলিম স্কলার্স-এর প্রেসিডেন্ট ড. আলি মুহিউদ্দিন আল-কারাদাগি এক বার্তায় লিখেছেন, ‘গভীর দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমি মুসলিম উম্মাহকে আমার ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের আমার ভাই, বন্ধু ও সঙ্গী বিশিষ্ট আলেম, হাদিস বিশেষজ্ঞ এবং চিন্তাবিদ, সাইয়্যেদ শায়খ সালমান আল-হুসাইনি নদভির ইন্তেকালের সংবাদ জানাচ্ছি। তিনি ছিলেন আইইউএমএস-এর ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এবং ভারতের লখনৌতে অবস্থিত জামেয়া ইমাম আহমদ ইবনে ইরফান শহিদের প্রেসিডেন্ট।’

শায়খ সালমানের স্মৃতিচারণ করে তিনি লিখেছেন, ‘শায়খ সালমান তাঁর রবের কাছে চলে গেছেন। তিনি রেখে গেছেন এমন এক উত্তরাধিকার যা সাক্ষ্য দেয় এমন একজন আলেমের, যাঁর জ্ঞান কেবল কিতাবে সীমাবদ্ধ ছিল না এবং তাঁর দাওয়াতও মিম্বরে সীমিত ছিল না। বরং, তিনি ছিলেন একজন মিশন-মানব, যিনি ভারতে ইসলামের বোঝা বহন করেছেন, নবীর সুন্নাহর খেদমত করেছেন, প্রজন্মকে লালন-পালন করেছেন, প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এবং উম্মাহর বিভিন্ন বিষয়ে এমন একজন আলেমের অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন, যিনি জ্ঞানকে আমানত, বাণীকে সাক্ষ্য এবং দাওয়াহকে দায়িত্ব হিসেবে দেখেন।’

ড. আল-কারাদাগি আরো লিখেন, ‘আমি তাঁকে একজন আন্তরিক ভাই, একজন বিশ্বস্ত বন্ধু এবং একজন দূরদর্শী আলেম হিসেবে চিনতাম, যাঁর ছিল এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং নিজ ধর্ম ও জাতির প্রতি গভীর অনুরাগ। তিনি কখনো সত্যের সাথে আপোস করেননি। কখনো নীতির সাথে আপোস করেননি এবং জ্ঞানকে কখনো সমাবেশের নিছক সজ্জা হিসেবে ব্যবহার করেননি। বরং, তাঁর কাছে জ্ঞান ছিল কর্ম, ইসলামের দিকে আহ্বান ছিল নির্মাণ এবং জাতির প্রতি আনুগত্য ছিল এক অটুট অঙ্গীকার।’

এদিকে মালয়েশিয়ার প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও ইসলামিক পার্টির প্রেসিডেন্ট আবদুল হাদি আওয়াং এক শোকবার্তায় লিখেছন, ‌‘মরহুম শায়খ একজন প্রখ্যাত আলেম ছিলেন, যিনি কোরআন অধ্যয়ন, হাদিস, দাওয়াহ এবং ইসলামী চিন্তাধারার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তিনি লখনৌয়ের দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। একই সাথে ভারতসহ বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহর উন্নয়নে অবদান রাখা অসংখ্য শিক্ষা, দাতব্য ও দাওয়াহ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর পাণ্ডিত্যপূর্ণ কাজ, বক্তৃতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার অবিচল প্রচেষ্টার মাধ্যমে মরহুম শায়খ এক স্থায়ী বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উপকৃত করতে থাকবে। নিঃসন্দেহে, তাঁর মৃত্যু ইসলামী বিশ্বের জন্য এক বিরাট ক্ষতি।’

ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের উত্তর প্রদেশের সভাপতি অজয় রাই এক্স-এর এক বার্তায় লিখেছেন, ‘নদওয়াতুল উলামার মহান শিক্ষক, মাদরাসা কতাউলিসহ সারা দেশের শত শত মাদরাসার প্রধান পৃষ্ঠপোষক, শত শত গ্রন্থের লেখক এবং আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী পণ্ডিত হজরত মাওলানা সাইয়েদ সালমান হুসাইনি নদভি আজ সকালে তাঁর নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন। আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন মরহুমকে ক্ষমা করেন এবং তাঁর পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ধৈর্য ও শক্তি দান করেন।’

মাওলানা সালমান নদভি ১৯৫৪ সালে ভারতের লখনউয়ের একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবার মহানবী মুহাম্মদ (স.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর বংশধারার সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত।

সালমান নদভির শিক্ষা জীবন লখনউয়ের দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় শুরু হয়। সেখানে তিনি কোরআনে হাফেজ হন এবং পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ১৯৭৬ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে হাদিস শাস্ত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

পরে ১৯৮০ সালে তিনি সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রখ্যাত আলেম শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (রহ.)-এর তত্ত্বাবধানে হাদিস গবেষণায় পুনরায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

শিক্ষাজীবন শেষে তিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটির দাওয়াহ ও শরিয়াহ অনুষদের ডিন হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি দেশ-বিদেশের অসংখ্য শিক্ষার্থীর শিক্ষক ও দিকনির্দেশক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

সালমান নদভির আরবি ও উর্দু ভাষায় ইসলামী ধর্মতত্ত্ব, ইতিহাস, আকিদা ও হাদিস বিষয়ে তাঁর বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রয়েছে। তিনি ইংরেজি, উর্দু, আরবি ও ফারসি ভাষায় প্রকাশিত বেশ কয়েকটি জার্নাল সম্পাদনা ও সহ-সম্পাদনাও করেছেন। 

মাওলানা সালমান নদভি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ড. আব্দুল আলী ইউনানি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান, জামেয়া দারুল উলুম সাইয়েদ আহমদ শহিদ কাটোলিরর চ্যান্সেলর এবং জমিয়ত শাবাব উল ইসলামের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৯ জুন ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৯ জুন ২০২৬

আজ সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩, ১৩ মহররম, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ০৬ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪১ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫৩ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ২০ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৫০ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৪ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

বান্দা যে সময়ে দোয়া করলে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না

অনলাইন ডেস্ক
বান্দা যে সময়ে দোয়া করলে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না
সংগৃহীত ছবি

বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি কিংবা কোনোকিছু চেয়ে বরাবরই মুমিনরা সৃষ্টিকর্তার দরবারে দু’হাত তুলে ধরেন। মহান আল্লাহ তা’আলাও খোদ ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু। যখন কোনো বান্দা তার নিকট দুই হাত তুলে প্রার্থনা করে, তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে শূন্যহাতে ফিরিয়ে দেন না।

পবিত্র কোরআনে মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘প্রার্থনাকারী যখন আমাকে ডাকে, তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিই। সুতরাং তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় ও ঈমান আনয়ন করে। আশা করা যায়, তারা সফলকাম হবে।’ (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৬)।

অপর আয়াতে এসেছে, ‘আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায় তাদের আমি অবশ্যই অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করবো। অবশ্যই আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গে আছেন।’ (সূরা আনকাবুত, আয়াত: ৬৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও বিভিন্ন সময়ে আল্লাহর কাছে পানাহ চেয়ে দোয়া করতেন। উম্মতদেরও মহান রবের নিকট দোয়া করার পদ্ধতি জানিয়েছেন তিনি। যা বিভিন্ন সময়ে সাহাবায়ে-কেরামদের মাধ্যমে বর্ণিত নানা হাদিসে এসেছে। এরমধ্যে দোয়া কবুলের উত্তম সময় শেষরাতের দিকে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মহামহিম আল্লাহ তা‘আলা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে নিকটবর্তী আসমানে (প্রথম আসমান) অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেন- কে আছে এমন যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেবো। কে আছ এমন যে আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে তা দেবো। কে আছ এমন আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করবো। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৭৯)

তবে এমন একটি সময় রয়েছে যে সময়ে বান্দা দোয়া করলে তা ফিরিয়ে দেয়া হয় না। এই সময়টি হলো আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়। আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে করা দোয়া কখনোই প্রত্যাখ্যাত হয় না। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৫২১)

দুবাই কোরআন প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন যে বাংলাদেশি | কালের কণ্ঠ