• ই-পেপার

কক্সবাজারে ৪০ কোরআনে হাফেজকে সম্মাননা

বান্দার ছোট্ট যে দোয়ায় রহমতের দরজা খুলে দেয়া হয়

অনলাইন ডেস্ক
বান্দার ছোট্ট যে দোয়ায় রহমতের দরজা খুলে দেয়া হয়
সংগৃহীত ছবি

ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন-বিধান। আর পৃথিবী হলো ক্ষণস্থায়ী আবাসস্থল। পরিপূর্ণ এই জীবন-বিধান অনুসরণ করে ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর পরীক্ষায় উত্তম আমলের মাধ্যমে উত্তীর্ণরাই পরকালে সফল হিসেবে বিবেচিত হবেন। যাদের চিরস্থায়ী ঠিকানা হবে জান্নাত। আর সফল হতে না পারাদের জন্য রয়েছে চিরশাস্তির জাহান্নাম।

এজন্য পরকালে সফল হতে বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে উম্মতদের যেমন নানা বিষয়ে আদেশ-নিষেধের কথা জানিয়েছেন নবীজি (সা.), তেমনি বাতলে দিয়েছেন মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের পথও। এর মধ্যে একটি হাদিসে দুনিয়াবি জীবনে বান্দার ছোট্ট একটি দোয়ায় আল্লাহ তা’আলার রহমতের দরজা খুলে দেয়ার কথা এসেছে। যা হাদিসের ভাষায় আসমানের দরজা উন্মোচন হিসেবে পরিচিত।

ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একবার আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সালাতরত ছিলাম। এমন সময় মুসল্লিদের একজন বলল-

اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلاً

বাংলা : আল্লাহু আকবারু কাবিরান, ওয়ালহামদুহু লিল্লাহি কাছিরান ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতান ওয়া আসিলান।

অর্থ : আল্লাহ মহান, অতি মহান, আল্লাহ তা’আলার জন্য অনেক অনেক প্রশংসা এবং সকাল-সন্ধ্যা আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- কে এই দোয়া পাঠ করেছে? তখন উপস্থিত একজন বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা.) আমি। এরপর নবীজি (সা.) বললেন, আমার খুব আশ্চর্য লেগেছে। এই কালিমাগুলোর জন্য আসমানের সব দরজা খুলে দেয়া হয়েছে। ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল (সা.) এর কাছে এই কথা শোনার পর থেকে আমি এই কালিমাগুলো বলা কখনও পরিত্যাগ করিনি। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৯২)

ঘন ঘন ভূমিকম্প হলে মুমিনের করণীয়

মুফতি ওমর বিন নাছির
ঘন ঘন ভূমিকম্প হলে মুমিনের করণীয়
সংগৃহীত ছবি

পৃথিবী মহান আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি। তিনি যখন ইচ্ছা করেন, তখন তাঁর অসীম ক্ষমতার নিদর্শন হিসেবে পৃথিবীকে কাঁপিয়ে দেন। ভূমিকম্প মানুষের জন্য শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; বরং এটি আল্লাহর শক্তি, ক্ষমতা ও মহিমার এক জাগ্রত স্মারক। আধুনিক বিজ্ঞান ভূমিকম্পের ভৌত কারণ ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হলেও, একজন মুমিন জানেন—সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ একমাত্র আল্লাহর হাতে। তাই ঘনঘন ভূমিকম্পের মতো ঘটনা মানুষকে নিজের অসহায়ত্ব উপলব্ধি করতে, গুনাহ থেকে ফিরে আসতে এবং পরকালের কথা স্মরণ করতে উদ্বুদ্ধ করে।

আজ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বারবার ভূমিকম্প আঘাত হানছে। অসংখ্য প্রাণহানি, ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মানুষের অসহায় আর্তনাদ আকাশ-বাতাশ ভারি হয়ে উঠছে।  আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি নিদর্শনসমূহ পাঠাই শুধু মানুষকে সতর্ক করার জন্য।’(সুরা : ইসরা, আয়াত : ৫৯)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, পৃথিবীতে সংঘটিত বিভিন্ন ভয়াবহ ঘটনা মানুষের জন্য সতর্কবার্তা। এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে তাঁর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানান। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘যারা মন্দ ষড়যন্ত্র করে, তারা কি এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে যে, আল্লাহ তাদের ভূগর্ভে ধসিয়ে দেবেন না?’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৪৫)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘তোমরা কি আসমানে অধিষ্ঠিত সত্তা (আল্লাহ) সম্পর্কে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, তিনি তোমাদের ভূমিতে ধসিয়ে দেবেন না? তখন তা হঠাৎ প্রবলভাবে কাঁপতে থাকবে।’ (সুরা : মুলক, আয়াত : ১৬)
এই আয়াতগুলো মানুষকে অহংকার ও গাফিলতি থেকে সতর্ক করে।

১. তাওবা ও ইস্তিগফার করা
ভূমিকম্পের মতো বিপদের সময় সর্বপ্রথম করণীয় হলো আন্তরিক তাওবা করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা কর, যাতে তোমরা সফল হতে পার।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩১)

২. বেশি বেশি দোয়া করা
বিপদের সময় দোয়াই হলো মুমিনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা : গাফির, আয়াত : ৬০)

৩. নামাজের প্রতি যত্নশীল হওয়া
যে কোনো ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আল্লাহর সাহায্য লাভের অন্যতম উপায় হলো সালাত। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৪৫)

৪. গুনাহ ও অন্যায় থেকে বিরত থাকা
সমাজে যখন পাপাচার বেড়ে যায়, তখন আল্লাহর শাস্তি নেমে আসার আশঙ্কা বাড়ে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে মানুষের কৃতকর্মের কারণে।’ (সুরা : রূম, আয়াত : ৪১)

৫. ধৈর্য ধারণ করা
বিপদে ধৈর্যশীল হওয়া ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়। আল্লাহ বলেন, ‘আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫৫)

৬. বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে, আল্লাহ ততক্ষণ তার সাহায্যে থাকেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯)

৭. পরকালের কথা স্মরণ করা
ভূমিকম্প কিয়ামতের ভয়াবহ দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আল্লাহ বলেন, ‘যখন পৃথিবী তার প্রচণ্ড কম্পনে কেঁপে উঠবে।’ (সুরা : জিলজাল, আয়াত : ১)

ইসলাম শুধু দোয়া ও তাওয়ার ওপর সীমাবদ্ধ নয়; বরং যথাযথ উপায় অবলম্বনেরও নির্দেশ দেয়। তাই ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় নিরাপদ ভবন নির্মাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা মেনে চলা, জরুরি প্রস্তুতি রাখা, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুসরণ করাও একজন মুমিনের দায়িত্ব। কারণ ইসলাম তাওয়াক্কুলের পাশাপাশি বৈধ উপায় গ্রহণেরও শিক্ষা দেয়।

ঘনঘন ভূমিকম্প আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের শক্তি, সম্পদ ও প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক না কেন, আল্লাহর একটিমাত্র নির্দেশেই পৃথিবী কেঁপে উঠতে পারে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর নিদর্শন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার, ঈমান ও তাকওয়ার সঙ্গে জীবন পরিচালনা করার এবং সকল প্রকার বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

হাদিসের বাণী

যে কারণে খাবারের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা গুরুত্বপূর্ণ

ইসলামী জীবন ডেস্ক
যে কারণে খাবারের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা গুরুত্বপূর্ণ
সংগৃহীত ছবি

বিশিষ্ট সাহাবি হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে কোনো খাবারে উপস্থিত হতাম, তখন তিনি খাবার শুরু না করা পর্যন্ত আমরা তাতে হাত দিতাম না। (খাবার খেতাম না।) একবার আমরা মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে কোনো এক খাবারের মজলিসে উপস্থিত হলাম। তখন একটি বাচ্চা মেয়ে এমনভাবে দৌড়ে খাবারে হাত দিতে এলো, যেন তাকে (পেছন থেকে) ধাক্কা দেওয়া হচ্ছিল। তখন মহানবী (সা.) তার হাতটাকে ধরে ফেললেন, তখন একজন বেদুইনও সেভাবে দৌড়ে এলো, যেন তাকে তাড়িয়ে আনা হচ্ছে। মহানবী (সা.) তার হাতও ধরে বললেন, যে খাবারে আল্লাহর নাম না নেওয়া হয়, সেখানে শয়তান তার জন্য খাবারকে বৈধ করে নেয়, আর বাচ্চাটিকে শয়তানই মূলত নিয়ে এসেছে, যাতে তার মাধ্যমে সে নিজের খাবার বৈধ করতে পারে। কিন্তু আমি তো তার হাত ধরে ফেলতে সক্ষম হয়েছি। তারপর শয়তান এই বেদুইনকে নিয়ে এসেছিল, যাতে তার মাধ্যমেও শয়তান খাবার বৈধ করে নিতে পারে। আমি তার হাতও ধরে ফেললাম। সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন, ওই দুজনের হাতের সঙ্গে শয়তানের হাতও পাকড়াও করা হয়েছিল। তারপর মহানবী (সা.) আল্লাহর নাম নিয়ে খাবার গ্রহণ করতে লাগলেন, (এবং উপস্থিত সাহাবিরাও তাঁর সঙ্গে খাবার খেতে শুরু করলেন)। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫২৫৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৩২৪৯)

শিক্ষা ও বিধান
১. খাবার শুরু করার আগে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা সুন্নত। কেননা আল্লাহর নাম নিয়ে খাবার শুরু করলে শয়তান তাতে অংশ নিতে পারে না।
২. শিশুদের ইসলামী আদব-কায়দা শেখানো অভিভাবকদের দায়িত্ব। তাই ছোটবেলা থেকেই ‘বিসমিল্লাহ’ বলে খাবার শুরু করানোর মধ্য দিয়ে এই অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
৩. শয়তান মানুষকে গুনাহ ও অসতর্কতার দিকে প্ররোচিত করে। তাই সর্বদা সচেতন থাকা এবং আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করা জরুরি।
৪. শয়তানের কৌশল সূক্ষ্ম ও গোপন। সে কখনো শিশু বা অসচেতন ব্যক্তিকে মাধ্যম বানিয়ে মানুষকে সুন্নাহ থেকে দূরে সরাতে চায়।
৫. গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের সত্যতা জোরালোভাবে বোঝাতে শপথ করা বৈধ। মহানবী (সা.) প্রয়োজনে আল্লাহর নামে শপথ করে বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

সারকথা, এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয় যে খাবারের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা শুধু একটি সুন্নত নয়; বরং এটি শয়তানের অংশগ্রহণ থেকে খাবারকে রক্ষা করার গুরুত্বপূর্ণ আমল। তাই নিজেরা এ আমল করার পাশাপাশি পরিবার ও সন্তানদেরও এর শিক্ষা দেওয়া প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

অহেতুক পেরেশানি থেকে মুক্তির দোয়া

মুফতি ওমর বিন নাছির
অহেতুক পেরেশানি থেকে মুক্তির দোয়া
সংগৃহীত ছবি

মানুষের জীবনে দুশ্চিন্তা, পেরেশানি ও মানসিক অস্থিরতা নতুন কোনো বিষয় নয়। কখনো ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা, কখনো জীবিকার সংকট, কখনো পারিবারিক জটিলতা, আবার কখনো অকারণ ভয় ও উদ্বেগ মানুষের হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করে তোলে। তবে একজন মুমিন জানেন, জীবনের প্রতিটি অবস্থা আল্লাহর ইচ্ছার অধীন এবং তাঁরই স্মরণে অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। তাই ইসলাম মানুষকে শুধু সমস্যার কথা বলেই থেমে যায়নি; বরং প্রতিটি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির মুহূর্তে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার সুন্দর দোয়াও শিক্ষা দিয়েছে। তীব্র পেরেশানির সময় আল্লাহর রাসুল (সা.) এই দোয়া বেশি বেশি পাঠ করতেন। 

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ، وَرَبُّ الْأَرْضِ، وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ

উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আজিমুল হালিম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আজিম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বুল আরদ্বি ওয়া রাব্বুল আরশিল কারিম।

অর্থ : আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই; যিনি সুমহান, সহিষ্ণু। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; যিনি সুবৃহৎ আরশের প্রতিপালক। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য আরাধ্য নেই; যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও সম্মানিত আরশের অধিপতি। (সহিহ্ বুখারি : হাদিস নং : ৬৩৪৬)

কক্সবাজারে ৪০ কোরআনে হাফেজকে সম্মাননা | কালের কণ্ঠ