• ই-পেপার

কোরআনে বর্ণিত ঐতিহাসিক স্থান

ইরাম গোত্রের প্রাসাদ

পারিবারিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা

মুফতি ওমর বিন নাছির
পারিবারিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা
সংগৃহীত ছবি

পরিবার মানবসমাজের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। একটি সুখী, শান্তিপূর্ণ ও আদর্শ সমাজ গঠনের ভিত্তি হলো একটি সুসংগঠিত পরিবার। কিন্তু বর্তমান সময়ে পারিবারিক কলহ, বিচ্ছেদ, অবিশ্বাস, দায়িত্বহীনতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে অনেক পরিবার ভাঙনের মুখে পড়ছে। ইসলাম পরিবারকে শুধু রক্তের বন্ধন হিসেবে দেখেনি; বরং এটিকে ভালোবাসা, দয়া, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আল্লাহভীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি পবিত্র বন্ধন হিসেবে বিবেচনা করেছে। তাই পারিবারিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি নিশ্চিত করতে ইসলাম স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা, সন্তান এবং আত্মীয়-স্বজনের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেছে। এসব নির্দেশনা মেনে চললে পরিবারে সৌহার্দ্য, ভালোবাসা ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরিবার পরিণত হয় জান্নাতের একটি ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবিতে। সেগুলো হলো-

১. পারিবারিক বন্ধন আল্লাহর পক্ষ থেকে মহা নেয়ামত : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি হলো, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মাঝে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা : ‍রুম, আয়াত : ২১)
এই আয়াতে পরিবারকে তিনটি মূল ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হয়েছে : ১. মানসিক শান্তি, ২. ভালোবাসা, ৩. দয়া ও করুণা। তাই পরিবার শুধু সামাজিক চুক্তি নয়, বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহা নেয়ামত।

২. দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের অবিচ্ছেধ্য অংশ : আল্লাহ বলেন : ‘তারা তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৭)
আল্লাহ তাআলা স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সুরক্ষা, মান-সম্মান ও সামাজিক উন্নয়নের প্রতীক বানিয়েছেন। তাই তারা একে অপরের দুর্বলতা ও ভুল-ত্রুটির আবরণস্বরূপ। 

৩. ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক পরিবার গঠন : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো। (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৯)
এই আয়াত পরিবারব্যবস্থাপনার অন্যতম মৌলিক ভিত্তির কথা তুলে ধরে, যেমন- সহনশীলতা, ন্যায়বিচার, উত্তম আচরণ ইত্যাদি। অন্যদিকে মহানবী (সা.) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম।’ (তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ৩৮৯৫)। অর্থাৎ সমাজে ভালো হওয়ার প্রথম শর্ত হলো পরিবারে ভালো হওয়া।

৪. সন্তান প্রতিপালনে আমানতদারিতা রক্ষা করা : সন্তান শুধু পরিবার নয়, বরং সমাজ ও উম্মাহর ভবিষ্যৎ। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবারকে আগুন থেকে রক্ষা করো। (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৬)

৫. পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার উপায় : ইসলাম পরিবারে তিনটি মৌলিক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছে, ১. পারস্পরিক ভালোবাসা, সহানুভূতি,  কোমলতা। ২. পরস্পরের অধিকার রক্ষা, স্বামী-স্ত্রী উভয়ের অধিকার আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন। ৩. ধৈর্য ও ক্ষমা, পারিবারিক জীবনে ভুল বোঝাবুঝি স্বাভাবিক, তবে ক্ষমা ও ধৈর্য সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের তাদের প্রতিদান অগণিতভাবে প্রদান করা হবে।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ১০)

৬. পরিবারে বৃদ্ধ মাতা-পিতার আনুগত্য : ইসলামে পিতা-মাতার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন যে তুমি তাকে (আল্লাহ) ছাড়া কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ২৩)। 

৭. পারিবারিক ভাঙন ও তার প্রতিকার : আধুনিক সমাজে পরিবার ভাঙনের কারণ অজস্র, যেমন- পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, প্রযুক্তির অপব্যবহার, ধৈর্যের অভাব ও ধর্মীয় জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি। তাই ইসলাম এসব সমস্যার সমাধান দিয়েছে, তা হলো- তাকওয়াভিত্তিক জীবনযাপন, পরস্পরের অধিকার জানা, নৈতিক শিক্ষা এবং দোয়া করা। আল্লাহ বলেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য পথ বের করে দেন।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ২)

৮. পরিবারের সদস্যদের জন্য বেশি বেশি দোয়া করা : পরিবারের জন্য দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আমাদের রব! আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তান দান করুন, যারা আমাদের জন্য চোখের শীতলতা হবে।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৭৪)

সুতরাং পারিবারিক স্থিতিশীলতা কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়; বরং এটি পারস্পরিক দায়িত্ববোধ, ত্যাগ, সহমর্মিতা এবং আল্লাহর বিধান মেনে চলার ফল। ইসলামের নির্দেশিত নীতিমালা পরিবারকে শুধু ভাঙনের হাত থেকেই রক্ষা করে না, বরং সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আস্থার বন্ধনকে আরো দৃঢ় করে। আজকের অস্থির সময়ে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের কল্যাণের জন্য ইসলামের এসব নির্দেশনা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। যখন পরিবারের প্রতিটি সদস্য নিজের কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করবে এবং ইসলামী মূল্যবোধকে জীবনের অংশ বানাবে, তখন পরিবারে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, সমাজ হবে সুস্থ ও সুন্দর, আর আল্লাহ তাআলার রহমত ও বরকত নেমে আসবে সবার জীবনে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাকওয়ানির্ভর আদর্শ পরিবার গঠনের তাওফিক দান করুন। আমিন।
 

কোরআনের বাণী

যেদিন অপরাধ স্বীকার কোনো কাজে আসবে না

ইসলামী জীবন ডেস্ক
যেদিন অপরাধ স্বীকার কোনো কাজে আসবে না
সংগৃহীত ছবি

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

 وَ اقۡتَرَبَ الۡوَعۡدُ الۡحَقُّ فَاِذَا هِیَ شَاخِصَۃٌ اَبۡصَارُ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡا ؕ یٰوَیۡلَنَا قَدۡ كُنَّا فِیۡ غَفۡلَۃٍ مِّنۡ هٰذَا بَلۡ كُنَّا ظٰلِمِیۡنَ

সরল অনুবাদ : 
‘চিরসত্য প্রতিশ্রুত সময় যখন ঘনিয়ে আসবে, তখন হঠাৎ কাফিরদের চক্ষু স্থির হয়ে যাবে। তারা বলবে, ‘হায়, আমাদের দুর্ভোগ! আমরা তো এ বিষয়ে উদাসীন ছিলাম বরং আমরা ছিলাম জালিম ।’ (সুরা : আম্বিয়া : আয়াত : ৯৭)

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা :
ইয়াজুজ-মাজুজের আত্মপ্রকাশের পর যখন কিয়ামতের চিরসত্য প্রতিশ্রুত সময় এসে পড়বে, কিয়ামত অনুষ্ঠিত হয়ে যাবে তখন কিয়ামতের ভয়াবহ অবস্থা দেখে কাফেরদের চক্ষু স্থির হয়ে যাবে। তারা নিজেদের ভুল-ত্রুটি বুঝতে পেরে এবং কেয়ামতের ভয়াবহ পরিণতি দেখে হতভম্ব হয়ে যাবে। এমনকি তারা তাদের ভুল-ত্রুটিগুলো স্বীকার করতে থাকবে। তারা বলবে, নবীরা এসে আমাদের এ দিনটি সম্পর্কে জানিয়েছিলেন, কিন্তু আমরা ছিলাম গাফেল ও উদাসীন। আমরা নবীদের কথা না শুনে বরং তাদের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিলাম। এভাবে তারা নিজেদের অপরাধের স্বীকৃতি দিতে থাকবে, কিন্তু তা তাদের কোন কাজে আসবে না। (ইবন কাসির, তাফসিরে আহসানুল বায়ান, তাফসিরে জাকারিয়া)

শিক্ষা ও বিধান

১. কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী ও চিরসত্য। আল্লাহ তাআলা কিয়ামতকে ‘চিরসত্য প্রতিশ্রুত বিষয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, কিয়ামতের আগমন, হিসাব-নিকাশ, জান্নাত ও জাহান্নাম—সবই সত্য এবং অবধারিত।

২. কিয়ামত হঠাৎ উপস্থিত হবে। কিয়ামতের ভয়াবহ মুহূর্ত মানুষ হঠাৎই প্রত্যক্ষ করবে। তখন কাফিরদের চোখ বিস্ময়, ভীতি ও আতঙ্কে স্থির হয়ে যাবে।

৩. উদাসীনতা মানুষের বড় ক্ষতির কারণ। কাফিররা স্বীকার করবে যে তারা সত্য সম্পর্কে উদাসীন ও অসচেতন ছিল। এটি শিক্ষা দেয় যে, দ্বীন ও আখিরাতের ব্যাপারে গাফেল থাকা মারাত্মক অপরাধ।

৪. অন্যায় ও পাপের পরিণতি ভয়াবহ। তারা শুধু গাফেলই ছিল না; বরং নিজেদের ওপর জুলুম করেছে। কুফর, শিরক ও পাপাচার মূলত মানুষের নিজের ওপরই জুলুম।

৫. মৃত্যুর পর অনুতাপ কোনো উপকারে আসবে না। কিয়ামতের দিন তারা আফসোস করবে—‘হায়, আমাদের দুর্ভোগ!’ কিন্তু তখন এই অনুতাপ তাদের কোনো উপকার করবে না। তাই তাওবা ও সংশোধনের সুযোগ দুনিয়ার জীবনেই গ্রহণ করতে হবে।

সুতরাং এই আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, কিয়ামত এক অনিবার্য সত্য। তাই গাফেলতি ও পাপাচার ত্যাগ করে ঈমান, নেক আমল, তাওবা ও আল্লাহভীতির মাধ্যমে আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করাই একজন মুমিনের কর্তব্য। কিয়ামতের দিন যেন আফসোস করতে না হয়, সে জন্য আজই নিজেকে সংশোধন করা প্রয়োজন। আল্লাহ আমাদের সঠিকভাবে বুঝার তাওফিক দান করুক। আমিন।

শয়তান থেকে সুরক্ষা লাভের দোয়া

মুফতি ওমর বিন নাছির
শয়তান থেকে সুরক্ষা লাভের দোয়া
সংগৃহীত ছবি

শয়তান মানুষের চিরশত্রু। সে যুগে যুগে মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করছে। কখনো কুমন্ত্রণা দিয়ে, কখনো পাপকে সুন্দর করে দেখিয়ে, আবার কখনো হতাশা ও সন্দেহ সৃষ্টি করে সে মানুষের ঈমান ও আমলকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একজন মুমিনের জন্য শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে নিরাপদ থাকা অত্যন্ত জরুরি। তাইতো মহানবী (সা.) তাঁর উম্মতকে শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন দোয়া শিখিয়েছেন। তেমনি একটি দোয়া হলো- 

لا إلهَ إلاَّ اللَّه وحْدهُ لاَ شَرِيكَ لهُ، لَهُ المُلْكُ، ولَهُ الحمْدُ، وَهُو عَلَى كُلِّ شَيءٍ قَدِيرٌ 

উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু। লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু। ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। 

অর্থ : আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তারই, সমস্ত প্রশংসাও একমাত্র তারই জন্য, আর তিনি সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান। 

হাদিস : মহানবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি দিনে একশ বার এই দোয়া পাঠ করবে,এই দোয়া দিনের শুরু থেকে রাত পর্যন্ত শয়তান থেকে তার জন্য সুরক্ষা হিসেবে কাজ করবে...। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৩২৯৩)

হাদিসের বাণী

গোপনীয়তা রক্ষায় নববী শিক্ষা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
গোপনীয়তা রক্ষায় নববী শিক্ষা
সংগৃহীত ছবি

সাবিত (রহ.) থেকে বর্ণিত, আনাস (রা.) বলেন, একবার মহানবী (সা.) আমার কাছে এলেন, আমি তখন পাড়ার ছেলেদের সাথে খেলাধুলা করছিলাম। তিনি এসে আমাদের সালাম দিলেন। তিনি আমাকে কোনো একটা প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলেন। ফলে আমার মা আমাকে দীর্ঘক্ষণ দেখতে পান নি। আমি বাড়িতে ফিরলে আমার মা জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এতক্ষণ কোথায় ছিলে? আমি বললাম, মহানবী (সা.) আমাকে তাঁর একটা কাজে পাঠিয়েছিলেন। মা বললেন, কোন কাজে? আমি বললাম, সেটা তো মহানবী (সা.)-এর ব্যক্তিগত বিষয়। তখন মা আমাকে বললেন, মহানবী (সা.)-এর গোপন বিষয় কারও কাছে তুমি প্রকাশ করবে না। তারপর আনাস (রা.) বলেন, ওয়াল্লাহি, (আল্লাহর কসম)  হে সাবিত, আমি যদি এ বিষয়ে কাউকে কিছু বলতাম, তাহলে তোমাকে বলতাম। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৬৩৭৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১২০৬০)

 

শিক্ষা ও বিধান

১. মহানবী (সা.) শিশুদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ছিলেন। তিনি আনাস (রা.) ও তাঁর সাথীদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সালাম দিয়েছেন। 

২. শিশুদেরও সালাম দেওয়ার মাধ্যমে মহানবী (সা.) উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, সালাম শুধু বড়দের জন্য নয়; ছোট-বড় সকল মুসলমানের মধ্যে সালামের প্রচলন করা সুন্নত।

৩. আনাস (রা.) মহানবী (সা.)-এর গোপন বিষয় প্রকাশ করেননি। এটি প্রমাণ করে যে, কারও ব্যক্তিগত বা আমানতস্বরূপ কথা অন্যের কাছে প্রকাশ করা বৈধ নয়।

৪. আনাস (রা.)-এর মা তাঁকে জিজ্ঞাসা করার পর যখন জানলেন এটি মহানবী (সা.)-এর ব্যক্তিগত বিষয়, তখন তিনি তা জানার জন্য চাপ দেননি; বরং গোপনীয়তা রক্ষার শিক্ষা দিয়েছেন। এটি আদর্শ অভিভাবকত্বের দৃষ্টান্ত।

৫. আনাস (রা.) মায়ের কাছে মিথ্যা অজুহাত দেননি; বরং সত্য বলেছেন যে তিনি মহানবী (সা.)-এর কাজে গিয়েছিলেন। একজন মুমিন সর্বদা সত্য কথা বলবে।

৬. আনাস (রা.) বহু বছর পরও সেই গোপন বিষয় প্রকাশ করেননি। এটি সাহাবায়ে কেরামের আমানতদারি, তাকওয়া ও নবী ﷺ-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধার পরিচয় বহন করে।

৭. অপ্রয়োজনীয় কৌতূহল পরিহার করা জরুরি। অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় জানার জন্য অতিরিক্ত আগ্রহ বা অনুসন্ধান করা ইসলামের আদর্শ নয়। মানুষের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত।
 

ইরাম গোত্রের প্রাসাদ | কালের কণ্ঠ