• ই-পেপার

প্রশ্ন-উত্তর

হাফশার্ট বা গেঞ্জি পরে নামাজের বিধান কী?

বিশ্বখ্যাত ইসলামী অর্থনীতিবিদ ড. উমর চাপড়ার ইন্তেকাল

ইসলামী জীবন ডেস্ক
বিশ্বখ্যাত ইসলামী অর্থনীতিবিদ ড. উমর চাপড়ার ইন্তেকাল

আধুনিক যুগের ইসলামী অর্থনীতির পুরোধা ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মদ উমর চাপরা ইন্তেকাল করেছেন। তিনি গত কয়েক দশক ধরে ইসলামী অর্থনীতি ও অর্থায়নে যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন। 

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে মক্কায় তিনি ইন্তেকাল করেন। আজ রবিবার ফজর নামাজের পর মক্কার মসজিদুল হারামে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে জান্নাতুল মুয়াল্লায় দাফন করা হয়। ড. মুহাম্মদ উমর চাপরার ছেলে ড. আনাস চাপরা আরব নিউজকে এ কথা জানিয়েছেন। 

ড. উমর চাপরা জেদ্দায় ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ইসলামিক রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইসলামী অর্থনীতি ও ফাইন্যান্সে বহুবিধ অবদানের জন্য তিনি ১৯৮৯ সালে ‘ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক পুরস্কার’ অর্জন করেন। পরে ইসলামী শিক্ষায় ইসলামিক ফাইন্যান্স বিষয়ক বিশেষ অবদান রাখায় ১৯৯০ সালে কিং ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন।

ড. উমর চাপরা ১৯৩৩ সালে অবিভক্ত ভারতের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৬ সালে করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমার্স বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ১৯৬১ সালে মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ড. চাপরা মিনেসোটায় গবেষণা সহকারী এবং উইসকনসিন ও কেন্টাকি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। 

ড. উমর চাপরা পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট ইকনোমিকস-এর সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ও পাকিস্তান ডেভেলপমেন্ট রিভিউ-এর সহযোগী সম্পাদক ছিলেন। পরে পাকিস্তান সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক রিসার্চ-এ রিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৬টি এবং প্রবন্ধ সংখ্যা শতাধিক। তিনি ইসলামি অর্থনীতি ও ফাইন্যান্সের ওপর ব্যাপক লেখালেখি করেছেন। তাঁর অন্যতম গ্রন্থগুলো হচ্ছে- ‘টুয়ার্ডস এ জাস্ট মনিটারি সিস্টেম (১৯৮৫)’, ‘ইসলাম এন্ড ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট (১৯৮৮)’, ‘ইসলাম এন্ড দি ইকনোমিক চ্যালেঞ্জ (১৯৯২)’, ‘দা ফিউচার অব ইকোনোমিকস: এন ইসলামিক পারসপেকটিভ (২০০০)’ এবং ‘মুসলিম সিভিলাইজেশন: দ্য কজেজ অব ডিক্লাইন এন্ড দ্য নিড ফর রিফর্ম (২০০৭)’ এবং ‘মোরালিটি অ্যান্ড জাস্টিস ইন ইসলামিক ইকনোমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্স’ (২০১৪)। 

ওয়াকফকৃত ঈদগাহে খেলাধুলা করা কি জায়েজ?

মুফতি ওমর বিন নাছির
ওয়াকফকৃত ঈদগাহে খেলাধুলা করা কি জায়েজ?
সংগৃহীত ছবি

ইসলামে যেমন ইবাদত-বন্দেগির গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি সুস্থ দেহ গঠনের জন্য বৈধ খেলাধুলা ও শরীরচর্চারও অনুমোদন রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও দৌড় প্রতিযোগিতা, তীরন্দাজি ও ঘোড়দৌড়ের মতো বিভিন্ন শারীরিক অনুশীলনকে উৎসাহিত করেছেন। তবে ইসলামে প্রতিটি কাজের জন্য উপযুক্ত স্থান ও পরিবেশ নির্ধারিত রয়েছে। কোনো স্থানের ধর্মীয় মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষার বিষয়টিও শরিয়তের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। তাই অনেক সময় কোনো কাজ নিজে বৈধ হলেও বিশেষ কোনো স্থানে তা করা অনুচিত বা নিষিদ্ধ হয়ে যেতে পারে। ঈদগাহ মাঠে খেলাধুলার বিষয়টিও এ ধরনের একটি আলোচ্য বিষয়।

ইসলামে পবিত্র স্থানসমূহের মর্যাদা
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের সম্মান করে, নিশ্চয়ই তা অন্তরের তাকওয়ার পরিচায়ক।’ (সুরা : হাজ, আয়াত : ৩২)

ঈদগাহ এমন একটি স্থান, যেখানে মুসলমানরা বছরে দুইবার বৃহৎ জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন। তাই এটি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নিদর্শন (শাআইরে ইসলাম)-এর অন্তর্ভুক্ত। এ কারণে এর মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষা করা মুসলমানদের কর্তব্য। ফিকহের কিতাবসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওয়াকফকৃত ঈদগাহ সম্পূর্ণরূপে মসজিদ না হলেও কিছু বিধানের ক্ষেত্রে মসজিদের হুকুম প্রযোজ্য হয়। হানাফি ফকিহগণ লিখেছেন যে, ‘ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য মত হলো, ইমামের অনুসরণে ঈদের নামাজ আদায় বৈধ হওয়ার দিক থেকে ঈদগাহকে মসজিদের হুকুম দেওয়া হবে। তবে এর নির্মাতা মূলত একে মসজিদ হিসেবে নির্মাণ করেননি। তাই এটিকে পূর্ণাঙ্গ মসজিদ না বললেও এর মর্যাদা নষ্ট হয় না।’ (রাদ্দুল মুহতার, ২/৪৩০, আল-বাহরুর রায়েক, ২/৬৫, আন-নাহরুল ফায়েক, ১/২৮৮)

এ কারণেই ফকিহয়ে কেরামগণ বলেছেন, ঋতুবতী নারী বা গোসল ফরজ অবস্থায় থাকা ব্যক্তির ঈদগাহে প্রবেশ বৈধ। কারণ এটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদ নয়। তবে একই সঙ্গে তারা এ স্থানকে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ঈদগাহ মাঠে খেলাধুলার হুকুম
খেলাধুলা মূলত জায়েজ। যদি তাতে জুয়া, অশ্লীলতা, নামাজ নষ্ট হওয়া বা অন্য কোনো হারাম বিষয় না থাকে, তাহলে সাধারণ স্থানে এসব খেলাধুলা বৈধ। কিন্তু ওয়াকফকৃত ঈদগাহ মাঠের বিষয়টি ভিন্ন। কারণ এটি আল্লাহর ইবাদতের জন্য নির্ধারিত ও ধর্মীয় মর্যাদাসম্পন্ন স্থান। খেলাধুলার সময় সাধারণত দৌড়াদৌড়ি, হাসি-তামাশা, চিৎকার-চেঁচামেচি এবং নানা ধরনের কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে, যা ঈদগাহের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে ফকিহগণ সতর্কতামূলকভাবে বলেছেন, ‘সতর্কতার স্বার্থে ঈদগাহকে সাধারণ স্থানের মতো ব্যবহার না করে মসজিদের মর্যাদার নিকটবর্তী হিসেবে গণ্য করা উচিত।’ (আল-বাহরুর রায়েক, ৫/৪১৭, রাদ্দুল মুহতার, ৬/৫৪৫)

সুতরাং খেলাধুলা নিজে বৈধ হলেও ওয়াকফকৃত ঈদগাহে খেলাধুলা করা সমীচীন নয়। বিশেষ করে যখন তা ঈদগাহের সম্মান ও পবিত্রতার পরিপন্থী বলে বিবেচিত হয়। তাই আল্লাহর দ্বীনের নিদর্শন ও ইবাদতের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোর মর্যাদা সংরক্ষণ করা একজন মুমিনের কর্তব্য।

অতএব, শারীরিক অনুশীলনমূলক খেলাধুলা ইসলামে জায়েজ আছে। তবে ওয়াকফকৃত ঈদগাহ মাঠ সাধারণ খেলার মাঠ নয়; এটি মুসলমানদের একটি ধর্মীয় ও ইবাদতসংক্রান্ত স্থান। যদিও তা পূর্ণাঙ্গ মসজিদ নয় এবং কিছু ক্ষেত্রে মসজিদের সব বিধান প্রযোজ্য হয় না, তবুও এর মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য ফকিহরা সেখানে খেলাধুলা ও অনুরূপ কর্মকাণ্ডকে অনুচিত বলেছেন। তাই একজন সচেতন মুসলমানের জন্য উত্তম হলো শরীরচর্চা ও খেলাধুলার জন্য অন্য কোনো সাধারণ মাঠ বা উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করা এবং ঈদগাহের ধর্মীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা। কারণ আল্লাহর নিদর্শনের সম্মান রক্ষা করা তাকওয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ।

জার্সি পরে নামাজ আদায় কি জায়েজ?

মুফতি ওমর বিন নাছির
জার্সি পরে নামাজ আদায় কি জায়েজ?
সংগৃহীত ছবি

বর্তমান যুগে জার্সি শুধ খেলোয়াড়দের পোশাক নয়; বরং এটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন পোশাকেরও একটি জনপ্রিয় অংশ। কেউ জার্সি পরেন আরামদায়ক ও টেকসই পোশাক হিসেবে, আবার কেউ তার প্রিয় দল, ক্লাব বা খেলোয়াড়ের প্রতি সমর্থন ও ভালোবাসা প্রকাশের জন্য জার্সি সংগ্রহ করেন। বিশ্বকাপ ফুটবল, ক্রিকেট বা বিভিন্ন ক্লাব প্রতিযোগিতার সময় জার্সির ব্যবহার আরো ব্যাপক হয়ে ওঠে। তবে একজন সচেতন মুসলমানের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—জার্সি পরে নামাজ আদায় করা কি বৈধ? জার্সিতে যদি প্রাণীর ছবি থাকে, তাহলে তার হুকুম কী? অনেক জার্সিতে ব্যবহৃত ক্রসচিহ্ন বা খ্রিষ্টীয় প্রতীক সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কী? আর এসব জার্সির ব্যবসা করা কি হালাল, নাকি তা পরিহার করাই উত্তম?

নামাজে পোশাকের নীতিমালা
নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য পোশাকের ক্ষেত্রে কয়েকটি মৌলিক শর্ত রয়েছে—
১. পোশাক পাক-পবিত্র হতে হবে।
২. সতর যথাযথভাবে আবৃত থাকতে হবে।
৩. শরিয়ত নিষিদ্ধ কোনো বিষয় পোশাকে থাকা যাবে না।
৪. পোশাক শালীন ও সম্মানজনক হওয়া উচিত।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে আদম সন্তান! প্রত্যেক নামাজের সময় তোমরা তোমাদের সৌন্দর্য (পরিচ্ছন্ন ও শালীন পোশাক) গ্রহণ করো।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৩১)
এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, নামাজের জন্য পরিচ্ছন্ন ও মার্জিত পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব এবং ইসলামী আদবের অংশ।

জার্সি পরে নামাজ আদায়ের বিধান
জার্সি নিজে কোনো নিষিদ্ধ পোশাক নয়। তাই সাধারণ জার্সি পরে নামাজ আদায় করলে নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু অনেক সময় জার্সিতে বাঘ, সিংহ, ঈগল বা অন্য প্রাণীর ছবি বা প্রতীক থাকে। আবার কিছু জার্সিতে মানুষের ছবিও থাকে। যদি পোশাকে এমন প্রাণীর ছবি থাকে যার মুখমণ্ডল ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়, তাহলে তা পরিধান করা মাকরূহ এবং তা পরে নামাজ আদায় করাও মাকরূহ। তবে নামাজ পুনরায় পড়তে হবে না; নামাজ শুদ্ধ হয়ে যায়। (খোলাসাতুল ফতোয়া, ১/৫৮, আল-মুহিতুল বুরহানি, ২/১৩৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ঘরে ছবি থাকে, সে ঘরে ফেরেশতাগণ প্রবেশ করেন না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২২৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২১০৬)
এ কারণে মুসলমানের জন্য ছবি-মুক্ত পোশাক নির্বাচন করা অধিক উত্তম ও সতর্কতাপূর্ণ।

বিশেষ সতর্কতা
বর্তমানে অনেক আন্তর্জাতিক ক্লাব, জাতীয় দল কিংবা ব্র্যান্ডের লোগোতে ক্রসচিহ্ন দেখা যায়। ক্রস মূলত খ্রিষ্টধর্মের একটি সুপরিচিত ধর্মীয় প্রতীক। রাসুলুল্লাহ (সা.) ক্রসচিহ্নের প্রতি বিশেষ বিরাগ পোষণ করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর ঘরে কোনো ক্রসচিহ্নযুক্ত বস্তু দেখলে তা অপসারণ করে দিতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯৫২)

এ কারণে সুস্পষ্ট ক্রসচিহ্নযুক্ত জার্সি পরিধান করা এবং তা পরে নামাজ আদায় করা অপছন্দনীয়। বিশেষত যদি তা খ্রিষ্টীয় ক্রসচিহ্নযুক্ত প্রতীকসহ হয়, তাহলে তা আরো গুরুতর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

জার্সি বিক্রি করা কি বৈধ?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ্যণীয়। অনেক ফকিহের মতে, ছবিযুক্ত কাপড় বা ক্রসযুক্ত পোশাক বিক্রি করা সরাসরি হারাম না হলেও মাকরূহ। কারণ এর মাধ্যমে এমন বস্তুর প্রচলন ঘটে যা শরয়তের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয়। ফিকহের বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, ‘যে বস্তু নিজে বৈধ কিন্তু কখনো কখনো গুনাহের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে, তার বিক্রয় মূলত বৈধ; তবে যদি তা বিশেষভাবে গুনাহের কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বিক্রি করা হয়, তাহলে তা নিন্দনীয় ও গুনাহের সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।’ (সুরা : মায়িদাহ, আয়াত : ২)
সুতরাং ছবিযুক্ত বা ক্রসযুক্ত জার্সি বিক্রি করার মধ্যে সরাসরি হারাম বলা না গেলেও তা নিঃসন্দেহে একটি মাকরূহ ও অনুৎসাহিত ব্যবসার আওতাভুক্ত হতে পারে। (রাদ্দুল মুহতার, ৯/৫৬২, মাজমাউল আনহার, ৪/১৮৮)

তাই যদি ব্যবসার অধিকাংশ জার্সি হয়—ছবি-মুক্ত, ক্রস-মুক্ত, অশ্লীল স্লোগানবিহীন, এবং ইসলামবিরোধী প্রতীকবিহীন, তাহলে এ ব্যবসা মূলত হালাল ব্যবসা। অন্যথায় ব্যবসা মাকরূহ ও শরয়ি দৃষ্টিতে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। একজন মুসলিম ব্যবসায়ীর জন্য করণীয় হলো, শুধু লাভের কথা চিন্তা না করে উপার্জনের হালাল-হারামের প্রতিও সচেতন দৃষ্টি রাখা। তাই যদি সম্ভব হয়—ছবি-মুক্ত জার্সি, সাধারণ স্পোর্টস জার্সি, কাস্টম ডিজাইনের জার্সি, ক্রস ও আপত্তিকর প্রতীকবিহীন পোশাক নিয়ে ব্যবসা করাই অধিক নিরাপদ, উত্তম এবং তাকওয়ার দাবি। এতে ব্যবসাও হবে, আবার সন্দেহজনক বিষয় থেকেও দূরে থাকা যাবে। (রাদ্দুল মুহতার, ৯/৫৬১)

জার্সি পরিধান করা অবৈধ নয়। জার্সি পরে নামাজও শুদ্ধ হয়ে যায়, যদি নামাজের মৌলিক শর্তগুলো পূরণ হয়। তবে প্রাণীর স্পষ্ট ছবি, মানুষের প্রতিকৃতি কিংবা ক্রসচিহ্নযুক্ত জার্সি পরিধান ও তা পরে নামাজ আদায় করা শরিয়াহ পরিপন্থী। একই ভাবে এসব জার্সির ব্যবসা সরাসরি হারাম না হলেও ফোকাহায়ে কেরাম তা মাকরূহ তথা অপছন্দনীয় বলেছেন এবং অনুৎসাহিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে উত্তম আমল ও হালাল উপার্জন গ্রহণ করার এবং সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকার এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

হাদিসের বাণী

আল্লাহর ক্ষমার কোনো সীমা নেই

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আল্লাহর ক্ষমার কোনো সীমা নেই
সংগৃহীত ছবি

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মহানবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, হে বনি আদম, যদি তুমি আমাকে ডাকো ও আমার কাছে ক্ষমার আশা করো, তাহলে আমি তোমার সব অপরাধ ক্ষমা করে দেব। আমি কোনো পরওয়া করব না। হে বনি আদম, তোমার পাপসমূহ যদি আকাশ পরিমাণ হয়ে যায়, আর তুমি যদি আমার নিকটে মাফ চাও, তাহলে আমি তোমাকে মাফ করে দেব। এতে আমি কোনো পরওয়া করব না। হে বনি আদম, তুমি যদি পৃথিবী সমপরিমাণ অপরাধ নিয়ে আমার নিকট উপস্থিত হও, আর যদি তুমি আমার সঙ্গে কাউকে শরিক না করো, তাহলে আমি এক পৃথিবী পরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার নিকট উপস্থিত হব। (তিরমিজি, হাদিস নং : ৩৫৪০, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং : ১২৪০৫)


শিক্ষা ও বিধান
১. মানুষের পাপ যত বড়ই হোক না কেন, আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা তার চেয়েও অনেক বড়।
২. বান্দা যখন আন্তরিকভাবে আল্লাহকে ডাকে, তখন তিনি তার ডাকে সাড়া দেন এবং রহমত বর্ষণ করেন।
৩. কোনো পাপের কারণেই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া বৈধ নয়।
৪. সত্যিকার অনুতাপের সঙ্গে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ গুনাহ মাফ করে দেন।
৫. পাপ যত বেশি হোক, তাওবার দরজা খোলা থাকে। আকাশসম পাপও আন্তরিক ইস্তিগফারের মাধ্যমে ক্ষমা হতে পারে।
৬. আল্লাহ ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। তিনি বান্দার তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনাকে অত্যন্ত পছন্দ করেন।
৭. তাওহিদের মর্যাদা অপরিসীম। তাই শিরকমুক্ত ঈমান আল্লাহর নিকট সবচেয়ে মূল্যবান আমল।
৮. মুমিনের অন্তরে আশা ও ভয়ের ভারসাম্য থাকা উচিত। পাপের কারণে ভীত থাকবে, তবে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবে না।

অতএব, এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, একজন বান্দা যত বড় পাপীই হোক না কেন, যদি সে আন্তরিকভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তাওহিদের ওপর অটল থাকে, তাহলে আল্লাহ তাআলার ক্ষমা ও রহমতের দরজা তার জন্য সর্বদা উন্মুক্ত। তাই কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে তাওবা, ইস্তিগফার ও নেক আমলের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।

হাফশার্ট বা গেঞ্জি পরে নামাজের বিধান কী? | কালের কণ্ঠ