জুলাই বিপ্লবে চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ বৃহস্পতিবার। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ২২ আসামির বিরুদ্ধে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই শুনানি পরিচালনা করবে রাষ্ট্রপক্ষ (প্রসিকিউশন)। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন—বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলায় মোট ২২ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে ৫ জন কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন—চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, দেবাশীষ পাল দেবু এবং মো. ফিরোজ। শুনানির জন্য আজ তাদের কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।
এ মামলায় পলাতক রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ছাড়াও আরো ১৫ জন আসামি। তারা হলেন—চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও রেজাউল করিম চৌধুরী, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।
পলাতক ১৭ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার জন্য গত ৩ মে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তারা হাজির না হওয়ায় গত ১৩ মে তাদের পলাতক বিবেচনা করে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেয় আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আজকের দিন (৪ জুন) ধার্য করা হয়।
গত ৫ এপ্রিল প্রসিকিউশন এই মামলায় ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র) দাখিল করে। পরবর্তীতে ৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আমলে নেয়। ২২ জন আসামির বিরুদ্ধে মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত এবং মো. ফারুক হত্যা। দ্বিতীয় অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তানভীর সিদ্দিকী, মো. সাইমন ও হৃদয় চন্দ্রকে হত্যা। তৃতীয় অভিযোগ, একই সময়কালে শতাধিক মানুষকে গুরুতর ও নৃশংসভাবে আহত করা।




